kalerkantho

টেস্টে আগ্রহ নেই সাকিবের!

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



টেস্টে আগ্রহ নেই সাকিবের!

বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান কাল এসেছিলেন বোর্ড কার্যালয়ে। আফগানিস্তানের কাছে টেস্ট হারের পরিপ্রেক্ষিতে ড্রেসিংরুমে গিয়ে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলাপও করেছেন। পরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, অধিনায়ক সাকিব আল হাসান এবং আরো নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। তারই চুম্বক অংশ...

প্রশ্ন : ক্রিকেটারদের সঙ্গে কী আলাপ হয়েছে?

নাজমুল হাসান : আসলে আগে চন্দিকা হাতুরাসিংহে যখন কোচ হিসেবে এলেন, তখন জাতীয় দলের সঙ্গে আমার যেমন সম্পৃক্ততা ছিল, এখন তা নেই। তখন প্রতি ম্যাচের আগে টিম মিটিংয়ে যেতাম, কোচ-ক্রিকেটারদের সঙ্গে বসতাম, উইকেট-সেরা একাদশ কেমন হবে—সেগুলো নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনা করতাম। সেখান থেকে আমি এখন সরে এসেছি। একবারই আমি হস্তক্ষেপ করেছি, যখন এশিয়া কাপে ইমরুল ও সৌম্যকে নিয়ে যাই। একটা সমস্যা হলো, দল যখন খারাপ করে, তখন আমি বসে থাকতে পারি না। মনে আছে, দল হারার পর র‌্যাডিসন হোটেলে আমি চলে গিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলেছি। তখন অনেকে বলেছে, সিরিজ চলার মধ্যে এত বড় হস্তক্ষেপ কেন? কিন্তু ওই সিরিজটি আমরা জিতেছি। এশিয়া কাপে যে হস্তক্ষেপ করেছি, তা তো বললামই। কিন্তু বিশ্বকাপ বা শ্রীলঙ্কা সফরে তেমন কিছু করিনি। এবার যেহেতু আফগানিস্তানের সঙ্গে টেস্ট ম্যাচ হেরেছি, সে জন্য মনে হয়েছে ক্রিকেটারদের সঙ্গে বসা দরকার। কাল আমার বাসায় সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে আলাদা বসেছিলাম। আজ সবার সঙ্গে কথা বললাম।

প্রশ্ন : চট্টগ্রাম টেস্ট চলাকালীন সাকিব আল হাসান দুদিন সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন যে, তিনি টেস্ট অধিনায়ক থাকতে চান না। এ নিয়ে আগে বোর্ডের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে? আগেও সাক্ষাৎকারে অধিনায়কত্ব করতে না চাওয়ার কথা বলেছেন। সাকিবকে অধিনায়ক করে বিসিবি কি তাহলে ভুল সিদ্ধান্ত নিল?

নাজমুল : এটি কঠিন প্রশ্ন। তবে এটি ঠিক যে, বেশ কিছুদিন ধরে আমরা দেখছি টেস্টের ব্যাপারে ওর আগ্রহ তেমন নেই। বিশেষ করে, আমাদের জাতীয় দলের বিদেশ সফরে টেস্টের সময় ও বিশ্রাম চায়। তাই ওর হয়তো আগ্রহটা কম।

প্রশ্ন : টেস্ট ক্রিকেট খেলার ব্যাপারে আগ্রহ কম নাকি অধিনায়কত্বের ব্যাপারে?

নাজমুল : না, অধিনায়কত্ব নিয়ে কখনো শুনিনি। শুনিনি যে অধিনায়কত্ব নিয়ে ওর আগ্রহ কম আছে। তবে অধিনায়ক হলে তো টেস্ট খেলতেই হবে। অধিনায়ক না হলে না খেলেও পারা যায়। এ কারণে হয়তো অধিনায়কত্বের কথাটি এসেছে। ঠিক আছে, ও অনেক সার্ভিস দিয়েছে। আমরা মনে করি সে এখন সেরা অধিনায়ক। আমাদের হাতে যে বিকল্পগুলো আছে, তাদের মধ্যে সে সেরা। অধিনায়ক না থাকার বিষয়ে এখন পর্যন্ত সাকিব আমাদের কিছু বলেনি। মিডিয়াতে বলেছে যে, ‘যদি থাকি’ কিংবা ‘বোর্ডের সঙ্গে কথা বলতে হবে’—এই ধরনের কথা। তবে আমি তো গতকাল ওর সঙ্গে বসেছিলাম, কিন্তু সেখানে এমন কোনো আলাপ আলোচনা হয়নি।

প্রশ্ন : গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সাকিবের বক্তব্য দেখেও কি আপনারা তাঁর কাছে জানতে চাননি?

নাজমুল : যেহেতু একটি সিরিজ চলছে, আমার মনে হয় এখনই এটি নিয়ে কথা না বলা উচিত। ও যদি প্রসঙ্গ তুলত তাহলে অবশ্যই আলোচনা করতাম।

প্রশ্ন : সাকিব সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনার অভাবের কথা বলেছেন। ‘সঠিক পরিকল্পনা থাকলে আমি আছি’—এমন কথাও বলেছেন...

নাজমুল : আমি আসলে জানি না, এর মানে কী। ওর সঙ্গে তো কালও বসেছিলাম। আমাকে এখনো বলেনি পরিকল্পনাটি কী। এর আগে সে বলেছিল, বলার পরে আমার স্পষ্ট মনে আছে, সে খুব চিন্তায় ছিল। আমাদের পাইপলাইনে ভালো খেলোয়াড় আছে কি না, সেটি নিয়ে। কিন্তু জানেন, এই টেস্ট শুরু হওয়ার আগে আমি যখন থাইল্যান্ডে যাচ্ছি সেদিন রাতে আমার বাসায় এসে বলেছিল যে, ‘আমাদের এত ভালো ভালো খেলোয়াড় আছে আমার ধারণাই ছিল না।’

প্রশ্ন : লিটন-সৌম্যর টেস্ট খেলার সামর্থ্য নিয়ে আপনি নিজে প্রশ্ন তুলেছেন। সাকিবের টেস্ট খেলার আগ্রহ কম। মুস্তাফিজ টেস্ট খেলতে চান না। পেসার নেই। তাহলে বাংলাদেশ কিভাবে টেস্টে ভালো করবে?

নাজমুল : পেসার নেই! এসব আপনারা বোঝেন, জানেন। এগুলো নিয়ে শুধু শুধু বিতর্ক সৃষ্টির মানে নেই। যখনই একাদশ তৈরির আলোচনা হয়, মাশরাফি অধিনায়ক থাকলে বলে, ‘আমি চার পেসার নিয়ে খেলব।’ অনেক বুঝিয়ে-শুনিয়ে তাকে তিন পেসার দেওয়া হয়। ও বলে, ‘পেসাররাই তো আমাদের সব ম্যাচ জেতায়।’ সাকিবকে জিজ্ঞেস করুন। সাকিব বলে, ‘সব স্পিনার নিয়ে খেলব, স্পিনাররাই তো জেতায়।’ কেউ ভুল বলে না। এমনটা হতেই পারে। পেসার নেই কিংবা স্পিনার নেই—এমন কোনো ব্যাপার না। হতে পারে, আমাদের বোলারদের পেস কম। বাইরের পেসারদের পেস বেশি, আমাদের কম—এটা আমি স্বীকার করি। তবে এরা বল খারাপ করে, স্বীকার করি না।

প্রশ্ন : সাকিব অধিনায়ক থাকতে চান না বলেছেন। একজন অনিচ্ছুক অধিনায়ককে কত দূর নিয়ে যেতে পারবেন?

নাজমুল : দেখি। সাকিব আমাদের কাছে যখন আনুষ্ঠানিকভাবে বলবে, তখন ওকে বলব। হয় কী, (অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে হারের পর) মন-টন তো খারাপ থাকে। ও আগেও কয়েকটি টেস্ট খেলেনি। এখন হঠাৎ করে আফগানিস্তানের সঙ্গে হেরে গেলে একটু আবেগী তো হতেই পারে। আমাদের ছেলেরা তো আবেগী হয়ই। বলা যায় না তো। দেখি, ঠাণ্ডা মাথায় ও কী বলে। তখন যা বলার, বলব।

মন্তব্য