kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

লক্ষ্য এখন ‘শূন্য’ বদলানো

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



লক্ষ্য এখন ‘শূন্য’ বদলানো

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সপ্তাহখানেক আগে পরিসংখ্যানটি ছিল এমন—বাংলাদেশ ০ : নিউজিল্যান্ড ২১। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ শেষে তা দাঁড়িয়েছে—বাংলাদেশ ০ : নিউজিল্যান্ড ২৩। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে দুই দলের মুখোমুখি ফলের রেকর্ড এটি। কিউইদের জয়ের সংখ্যা বাড়ছে তো বাড়ছেই। আর বাংলাদেশ যে ‘০’-তে ছিল রয়ে গেছে সেখানেই।

বাংলাদেশ সময় কাল ভোরে শুরু হওয়া সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে ওই শূন্যের পরিবর্তনই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের।

বরাবরই অবশ্য তা-ই ছিল। সেটি ২০০১ সালের প্রথম সফর থেকে শুরু করে ২০০৭-০৮, ২০১০ এবং ২০১৬-১৭ মৌসুমের দ্বিপক্ষীয় সিরিজগুলোয়; ২০১৫ বিশ্বকাপের একমাত্র ম্যাচটিতেও। তিন ফরম্যাটের সব ম্যাচেই স্বাগতিকদের কাছে হেরেছে বাংলাদেশ। সেটি বদলে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়েই এবার নিউজিল্যান্ডে গিয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিত্ব করা ক্রিকেটাররা। কিন্তু সফরের শুরুটা যে আবারও সেই দুঃস্বপ্নের! প্রথম দুই ওয়ানডেতে স্বাগতিকদের কাছে পাত্তাই পায়নি মাশরাফির দল। একেবারে অসহায় আত্মসমর্পণ বলতে যা বোঝায় আর কি!

দুটি ওয়ানডেতেই বাংলাদেশ হেরেছে আট উইকেটে। আগে ব্যাটিং করে কোনোবারই বলার মতো স্কোর গড়তে পারেনি। প্রথম ম্যাচে ২৩২, পরের ম্যাচে ২২৬। এ পুঁজিতে যে লড়াই করা যায় না, সেটি বুঝিয়েছে স্বাগতিকরা। বিশেষত মার্টিন গাপটিল। দুই ম্যাচেই সেঞ্চুরি করে দলকে এনে দেন সহজ জয়। স্বাভাবিক কারণেই দুটি খেলায়ই ম্যান অব দ্য ম্যাচ ওই কিউই ওপেনার। তবে হারের সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে বাংলাদেশের সামনে আসছে ব্যাটিং ব্যর্থতাই। বিশেষত টপ অর্ডারের হতশ্রী চেহারায় খেলার শুরুতে সেই যে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, তা আর ফেরাতে পারেনি কখনো।

দলের প্রতিনিধি হিসেবে কাল গণমাধ্যমে সে কথাটিই বলেছেন তামিম ইকবাল। উইকেটকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাননি তিনি, ‘প্রথম ম্যাচে উইকেট খুবই ভালো ছিল। কিন্তু আমাদের শুরুটা মোটেই ভালো হয়নি। ওদের নতুন বলের দুই বোলার বিশেষত প্রথম ১০ ওভারে খুবই ভালো বোলিং করে। দুঃখজনক হচ্ছে, সে সময়ই আমরা ওদের চার উইকেট দিয়ে দিয়েছি। দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও উইকেট ভালো ছিল। আবহাওয়ার কারণে ওদের বোলাররা তখন কিছুটা সাহায্য পেয়েছে। কিন্তু উইকেট খুবই ভালো ছিল। সেটি দ্বিতীয় ইনিংস দেখলে কিংবা আমাদের ১৫-২০ ওভার পরের ব্যাটিং দেখলেও বুঝবেন। সেখানেও একই ভুল আমরা করেছি। শুরুতে বেশ কিছু উইকেট পড়ায় ওরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়।’ প্রথম ওয়ানডেতে ১০ ওভারে চার উইকেট হারিয়ে ৫০ রান ছিল বাংলাদেশের; পরের ম্যাচে দুই উইকেটে ৩২ রান। তৃতীয় ওয়ানডেতে ভালো শুরুর দিকে তাই খুব করে তাকিয়ে তামিম, ‘আমরা আশা করব, প্রথম ১০ ওভারের মধ্যে যেন খেলাটি পুরোপুরি ওদের হাতে না দিয়ে দিই। যেকোনো ম্যাচে যদি প্রথম ১০ ওভারের মধ্যে ৩/৪ উইকেট হারান, তাহলে সেখানে থেকে খেলায় ফেরা খুব কঠিন। প্রথম দুই ওয়ানডেতে প্রায় তেমনই হয়েছে। প্রথম ১০ ওভারে অনেক উইকেট হারিয়েছি। আশা করব, তৃতীয় ওয়ানডেতে এই ভুলগুলো করব না।’

নিউজিল্যান্ডে যে কোনো ম্যাচ জেতেনি বাংলাদেশ, সেটি জানা তামিমের। ওই রেকর্ড বদলে দেওয়ার প্রত্যয় আবারও শোনা যায় তাঁর কণ্ঠে, ‘তৃতীয় ওয়ানডেতে যদি আমরা প্রথম ১০ ওভার ভালো ব্যাটিং করতে পারি, খুব বেশি রান না হলেও যদি কম উইকেট হারাই, তাহলে মাঝের ওভারগুলোয় নিউজিল্যান্ডকে চাপে রাখতে পারব। আমি বিশ্বাস করি, আমাদের ব্যাটসম্যানদের সবারই ভালো করার সামর্থ্য আছে। প্রথম দুই ম্যাচে আমরা কিছু ভুল করেছি। সে কারণেই এখনকার পরিস্থিতিতে। কিন্তু আমি বাংলাদেশেও বলে এসেছিলাম, নিউজিল্যান্ড এমন এক দেশ, যেখানে আমরা কোনো ম্যাচ জিততে পারিনি। গত সফরে এক-দুই ম্যাচে জয়ের কাছাকাছি গিয়েছিলাম। কিন্তু এবার প্রথম দুই ওয়ানডেতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই হয়নি। আশা করব, নতুন ম্যাচে আমরা ভালো করব।’ এ ম্যাচে একাদশে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের জায়গায় রুবেল হোসেন ফিরবেন হয়তো।

বিশ্বকাপ সামনে রেখে এ সফরে ভালো করার প্রয়োজনীয়তা বোঝেন তামিম। আর শুধু বাংলাদেশের চেনা উইকেট-কন্ডিশন না, ভিন্ন আবহেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অতীতের জয় থেকে প্রেরণা খুঁজছেন তামিম, ‘বিশ্বকাপেরও খুব বেশি দিন বাকি নেই। এই কন্ডিশনে দল হিসেবে আমরা ভালো করতে চাই। নিউজিল্যান্ডে তো চার-পাঁচটি সফর করে ফেললাম। এখানো কোনো খেলায় জিততে পারিনি। অথচ এই নিউজিল্যান্ডকে আমরা ইংল্যান্ডে বলুন, আয়ারল্যান্ডে বলুন—হারিয়েছি। এখানেও তা না পারার কোনো কারণ আমি দেখি না।’

কিন্তু সেটি তো পারছে না বাংলাদেশ। পারবে কাল? ১৯ বছর ধরে যে ঘর ‘০’, তার কি পরিবর্তন হবে?

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা