kalerkantho


ফিটনেসের রাডারে থাকছেন তাঁরাও

১৯ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



ফিটনেসের রাডারে থাকছেন তাঁরাও

অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় নতুন মৌসুমের প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেট আসরটির প্রতিদ্বন্দ্বিতার মান বাড়ানোর উপায় নিয়ে অচিরেই তারা আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন বলে কাল জানালেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন। এমন প্রতিশ্রুতি পুরনো হলেও এবার একটি নতুন উদ্যোগের কথাও শোনা গেল বাংলাদেশ দলের সাবেক এই অধিনায়কের মুখ থেকে। যে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ, সেটি অবশ্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের চিরকালীন সমস্যাই।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাস্তবায়িত না হলেও প্রতিবছরই জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) নিয়ে নতুন করে শোনা যায় পুরনো প্রতিশ্রুতি। এবারও এর ব্যতিক্রম হলো না। অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় নতুন মৌসুমের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট আসরটির প্রতিদ্বন্দ্বিতার মান বাড়ানোর উপায় নিয়ে অচিরেই তাঁরা আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন বলে কাল জানালেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন। এমন প্রতিশ্রুতি পুরনো হলেও এবার একটি নতুন উদ্যোগের কথাও শোনা গেল বাংলাদেশ দলের সাবেক এ অধিনায়কের মুখ থেকে। যে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ, সেটি অবশ্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের চিরকালীন সমস্যাই।

জাতীয় দল, ‘এ’ দল এবং হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের দৃষ্টিসীমার বাইরের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটার যাঁরা, তাঁদের ফিটনেসের দেখভাল করার কেউ নেই। নিজ উদ্যোগে হয়তো এঁদের অনেকেই ফিটনেস ধরে রাখতে কাজ করেন; কিন্তু সব সময় তা যথেষ্ট নয়। আবার এ ক্ষেত্রে বিসিবির সুযোগ-সুবিধাদি ব্যবহারেরও উপায় থাকে কম। অথচ দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসন বছরজুড়ে এক গুচ্ছ প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারকেও বেতন দিয়ে থাকে। বেতনভুক হলেও এই ক্রিকেটারদের ফিটনেসের ব্যাপারটি বিসিবির দৃষ্টির আড়ালেই থাকে। ভালো পারফরম করে এঁদের অনেকেই বিভিন্ন দলের অনুশীলন শিবিরে যোগ দেওয়ার পরই নানা রকম চোট সমস্যা বেরিয়ে আসে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলার মতো ফিটনেসের মানও থাকে না অনেকেরই। বারবার একই রকম অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া শিক্ষায় এবার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের ফিটনেস নিয়েও মনোযোগী হচ্ছে বিসিবি। বেতনভুক ওই ক্রিকেটারদের নিয়ে তাই ফিটনেস ক্যাম্প করতে চলেছে তারা।

এনসিএল শুরু হওয়ার কথা অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে। মিনহাজুল জানালেন, বেতনভুক প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের ফিটনেস বাড়ানোর কার্যক্রম তারা শুরু করতে চান এর এক মাস আগে, ‘আমরা একটি সভা করেছি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আমাদের বেতনভুক্ত অনেক ক্রিকেটার আছে। ওদের ফিটনেসের মান নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকে ওদের নিয়ে একটি ফিটনেস ক্যাম্প হবে। জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মতো ওদের ফিটনেসের মানও একই জায়গায় রাখা যায় কি না, তা নিয়ে আমাদের ফিটনেস ট্রেনাররা কাজ করবেন।’ পূর্ব অভিজ্ঞতাই তাদের এ রকম কার্যক্রমে যেতে বাধ্য করেছে বলেও জানালেন মিনহাজুল, ‘এবার এইচপিতেও আমাদের বেশ কিছু খেলোয়াড় চোটে পড়েছে। বিশেষ করে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলার পরই যখন ওরা আমাদের অনুশীলন শিবিরে আসে, তখনই চোটগ্রস্ত ক্রিকেটারের তালিকাটি বড় হতে থাকে। সেটি মাথায় রেখেই আমরা এ ফিটনেস ক্যাম্প শুরু করছি। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ থেকে এনসিএল শুরু। সেই হিসাবে এক মাস আগে থেকেই আমরা ফিটনেস ট্রেনিংটা শুরু করে দিচ্ছি। আমার মনে হয়, আমরা ফিটনেসের একটি মান এখান থেকে নির্ধারণ করে দিতে পারব।’

সেই সঙ্গে এনসিএলের মান নির্ধারণী পুরনো গালগল্পও থাকল মিনহাজুলের কথায়, ‘এনসিএলে প্রতিযোগিতার মান বাড়ানো নিয়েও আমরা কাজ করছি। টুর্নামেন্ট শুরুর দুই থেকে তিন সপ্তাহ আগে আমাদের একটি সভা আছে। সেখানেই আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। এনসিএলের মান ঠিক করতে চাচ্ছি, কারণ টেস্ট ক্রিকেটে আমরা ভালো ফলাফল করতে চাইলে আমাদের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটকে একটি প্রতিযোগিতার মধ্যে আনতেই হবে। সে জন্য সবারই সংশ্লিষ্টতা লাগবে এখানে। আশা করছি, এ বছর থেকে আমরা ভালো কিছুই শুরু করতে পারব।’ এই প্রতিশ্রুতিটা এবার অন্যান্যবারের মতো না হলেই হয়!



মন্তব্য