kalerkantho

আকিনফেভের হাতেই রাশিয়ার স্বপ্ন

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আকিনফেভের হাতেই রাশিয়ার স্বপ্ন

সেই চার বছর বয়সে সিএসকেএ মস্কোর একাডেমিতে ঢুকেছিলেন। তখনই যে গোলরক্ষকের জার্সি চড়িয়েছিলেন, তা আজ অবধি ইগর আকিনফেভের গায়ে। ক্লাব হয়ে জাতীয় দলেও খেলে ফেলেছেন এক শরও বেশি ম্যাচ। ক্লাব তো ওই একটিই—সিএসকেএ মস্কো। আধুনিক ফুটবলে প্রায় বিরল ‘ওয়ান ক্লাব ম্যান’ রাশিয়ার আকিনফেভ। ২৭ বছর, ১৫ মৌসুম, ৫০০-এর বেশি ম্যাচ সিএসকেএতে তাঁকে জীবন্ত কিংবদন্তির মর্যাদা দিয়েছে। ২০০৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ক্লাবের প্রতিটি শিরোপায় তাঁর অবদান।

১৮ বছর ২০ দিন বয়সে তখনকার কনিষ্ঠতম হিসেবে রাশিয়া জাতীয় দলে অভিষেক তাঁর ২০০৪ সালে। ২০০৫ থেকেই ১ নম্বর জার্সিটা তাঁর। ২০১৪ বিশ্বকাপই তাঁর প্রথম বড় আসর। সেই টুর্নামেন্ট এবং গত কনফেডারেশন্স কাপেরও প্রতিটি মিনিট খেলেছেন তিনি। ভাসিলি বেরেজুিস্কর অবসরের পর কনফেডারেশন্স কাপ থেকেই অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড তাঁর বাহুতে। রাশিয়ায় প্রথম বিশ্বকাপেও অধিনায়ক হিসেবেই প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি স্বাগতিকদের। ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো গ্রুপের বাধা পেরোনোরও আশা বর্তমান রাশিয়ার। আকিনফেভ সেই প্রত্যাশার বড় অংশজুড়ে। ক্লাবের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা ৪৩ ম্যাচ গোল গোল হজম করার অপ্রিয় রেকর্ড গড়া এই আকিনফেভই আবার জাতীয় দলে অপ্রতিদ্বন্দ্বী, রাশিয়ার ফুটবল ইতিহাসেই সবচেয়ে বেশি ম্যাচ গোলবার সুরক্ষিত রাখার রেকর্ড তাঁর। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলে এক শরও বেশি ম্যাচ ক্লিন শিট রেখে অনেক আগেই তিনি নাম লিখিয়েছেন লেভ ইয়াসিন ক্লাবে। এ বছরই দশমবারের মতো রাশিয়ার বর্ষসেরা গোলরক্ষক হওয়া এই তারকা যে এবারের বিশ্বকাপও মাতাতে পারেন, এমন উচ্চাশা জার্মানির সাবেক গোলরক্ষক অলিভার কানেরও, ‘আমি আগেও বলেছি সে বিশ্বের ১ নম্বর গোলরক্ষক হতে পারে। কিছু ভুল যে তার হয় না, তা নয়। তা সত্ত্বেও এবারের বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস লেখার সামর্থ্য তার আছে।’

রাশিয়ার শীর্ষ তিন ডিফেন্ডারই বিশ্বকাপের আগে ইনজুরিতে পড়েছেন। তাতে করে আকিনফেভের চ্যালেঞ্জটা আরো বেড়ে গেছে এই আসরে। সিএসকেএর হয়ে উয়েফা কাপসহ ছয়বার রাশিয়ান লিগ জেতা এই গোলরক্ষককে ঘিরে তাতে প্রত্যাশাও বেড়েছে স্বাগতিকদের। রক্ষণের শেষ প্রহরী সব সময়ই গোলরক্ষক; কিন্তু আকিনফিভ শেষ প্রহরীই শুধু নন, তিনি নেতাও।

সেই ১৮ বছর বয়স থেকেই এই গুরুদায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি, স্কিলের পাশাপাশি তাঁর আত্মবিশ্বাসই তাঁকে তৈরি রাখে কঠিন মুহূর্তের জন্য। কান যেমন বলেছেন কিছুটা ভুল তাঁরও হয়, তবে তিনি যখন ঠিক জোনে থাকেন তখন তাঁকে হারানো সত্যিই অসম্ভব। ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে স্বাগতিক দর্শকদের চাপও বড় মানসিক বাধা রাশিয়ান খেলোয়াড়দের জন্য, কিন্তু এই কথা একেবারেই যায় না আকিনফেভের জন্য। অভিজ্ঞতার ঝুলি নিয়েই সবাইকে আগলে দাঁড়িয়ে যে তিনি। তবু বিশ্বকাপে সতীর্থদের কাছ থেকেও বাড়তি কিছু আশা তাঁর। গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে ১-০ ব্যবধানে হারে রাশিয়া। সে ম্যাচে আকিনফেভের সতীর্থরা প্রতিপক্ষের পোস্টে একটি শটও নিতে পারেননি, রাশিয়া বিশ্বকাপে এই ছবিটা পাল্টানোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি, ‘পুরো দলকেই ঘুরে দাঁড়াতে হবে। খেলতে হবে নিজেদের খেলা। তা ছাড়া এই স্কোরলাইন বদলানো সম্ভব নয়।’

বিশ্বকাপের আগে টানা সাত ম্যাচ জয়ের দেখা পায়নি দলটি। সোভিয়েত আমলেও যা দেখা যায়নি। আকিনফেভকে নিজের পারফরম্যান্স ছাড়াও দলকে নিয়েও তা-ই ভাবতে হচ্ছে। সতীর্থরা কি পারবেন আকিনফেভের বিশ্বস্ত হাত দুটির মতোই নিজেদের ঢেলে দিতে এ আসরে? ফিফা

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা