kalerkantho

আমরা বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আমরা বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত

২০১৬ ইউরোর কোয়ার্টার ফাইনালে ওয়েলসের কাছে হেরে বিদায় নেয় বেলজিয়াম। এই ফলের পর কোচ মার্ক উইলমটসকে বরখাস্ত করে বেলজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। নিয়োগ দেওয়া হয় রবার্তো মার্তিনেজকে। তাঁর প্রতি বার্তাটা স্পষ্ট, আরো সাফল্য চাই। বেলজিয়াম দলটির প্রতিভা, সামর্থ্য নিয়ে সন্দেহ নেই; দলের  বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই ইউরোপের বিভিন্ন লিগে প্রতিষ্ঠিত। দল হিসেবে তাদের সবাইকে এক সুতায় গাঁথার চ্যালেঞ্জটাই নিচ্ছেন মার্তিনেজ

প্রশ্ন : বিশ্বকাপে খেলার জন্য বেলজিয়াম কতটা প্রস্তুত?

রবার্তো মার্তিনেজ : প্রথম ম্যাচের জন্য আমরা শতভাগ প্রস্তুত, এ কথা বলতে পারি। প্রথম প্রস্তুতি ম্যাচে পর্তুগালের বিপক্ষে খেলার চেয়ে পরের ম্যাচটায় (কোস্টারিকার বিপক্ষে) আমাদের পারফরম্যান্সের পার্থক্যগুলো স্পষ্ট দেখতে পেয়েছি। হ্যাজার্ড আর মের্তেনসের ভেতর বোঝাপড়াটা আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। উন্নতির জন্য আমরা রোজ কঠোর পরিশ্রম করেছি। তবে গ্রুপ পর্বের তিনটা ম্যাচেও আমাদের উন্নতির ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। শুধু তখনই বলা যাবে, আমরা ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছি। তবে এটা বলতে পারি, আমরা বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত।

প্রশ্ন : আপনার হাতে একটা প্রতিভাবান দল আছে, এ কথা সবাই বলছে। তাহলে ঘাটতির জায়গাটা কোথায়?

মার্তিনেজ : আমাদের প্রতিভা আছে এটা সত্যি, তবে জার্মানির মতো দলের যেটা আছে, সেটা হচ্ছে বিশ্বাস। জার্মানির সাবেক ফুটবলারদের সঙ্গে কথা বললেই টের পাবেন, তাঁরা মনে করেন যে যখন তাঁরা গায়ে জাতীয় দলের জার্সিটা পরেন তখন তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে ওঠে শিরোপা জয়। এই নিয়ে তাঁদের কোনো সংশয় থাকে না। নক আউট টুর্নামেন্টে, এই মানসিক গঠনটা খুব শক্তিশালী। আমাদেরও এ রকম মানসিকতা দেখাতে হবে, আমি বিশ্বাস করি, আমরা সেটাই করে দেখাব। কারণ আমাদের দলের প্রতিভা ও দৃষ্টিভঙ্গি দুটিই খুব ভালো।

প্রশ্ন : আপনার অতিরক্ষণাত্মক ৫-৩-২ পদ্ধতি নিয়েও কিন্তু বেশ সমালোচনা হচ্ছে...

মার্তিনেজ : আমরা ৫-৩-২ ছকে সাধারণত খেলি না, তবে আমরা নমনীয় হতে চাই। আমরা সবচেয়ে বেশি যে ছকটা ব্যবহার করেছি, সেটা হচ্ছে ৩-৪-৩। এতে আমরা সামনে দ্রিস মের্তেনস, কেভিন রোমেলু লুকাকু, এডেন হ্যাজার্ডদের খেলাতে পারি। বাছাই পর্বে এই কৌশলটা ভালো কাজ দিয়েছে, এরপর আমরা প্রীতি ম্যাচে বেশ কিছু ভিন্ন কৌশল পরখ করে দেখেছি। মেক্সিকোর বিপক্ষে ম্যাচটায় তারা ট্যাকটিকালি খুবই দারুণ ছিল আর আমাদের সত্যিই বেশ ঘাম ঝরিয়েছে। ৩-৪-৩ পদ্ধতিতে এক মৌসুম আগে চেলসি প্রিমিয়ার লিগ জিতেছিল, আমিও উইগানে এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছি। তবে এটা স্রেফ একটা শুরুর ছক। আমি সবচেয়ে বেশি উত্সুক ছেলেরা মাঠে কিভাবে খেলে আর তাদের মানসিক অবস্থাটা কেমন, সেটা দেখতে। আমাদের বিশ্বকাপে দেখাতে হবে যে আমরা যন্ত্রণা সহ্য করতে রাজি। আমরা প্রতিকূলতা সহ্য করতে তৈরি। এই প্রজন্মের সামনে কোনো জ্যেষ্ঠদের দল নেই, যারা দেখাবে কী করে শিরোপা জিততে হয়। তাই পুরো পথটাই তাদের অজানা, আমাদের সব সময় মনোযোগী থাকতে হবে।

প্রশ্ন : মাঝে একটা সময় কেভিন দে ব্রুইন কিন্তু আপনার কড়া সমালোচনা করেছিলেন। তিনি কি আপনার অধীনে খেলতে স্বস্তি পাচ্ছেন না?

মার্তিনেজ : কেভিন আসলে দেখিয়েছে সে দলের জন্য কতটা ভাবে! তার কথা বলার কারণটা সৎ এবং দলের জন্য স্বাস্থ্যকর। এই দলে সব কিছু ট্যাকটিকাল দৃষ্টিকোণ থেকে বুঝে নেওয়ার একটা সংস্কৃতি আছে। ব্যাপারটা আমারও খুব পছন্দ। আমি এতে করে বলছি না সব খেলোয়াড়ই তাদের দর্শন দশজনের সামনে বলে বেড়াক, তবে কেভিন যেভাবে বলেছিল সেটা ছিল এমনভাবে, যেটা তার উন্নতির চেষ্টার অংশ। সে খুব বড় নেতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে।

প্রশ্ন : আপনার দলের মাত্র একজন ফুটবলার খেলেন স্থানীয় লিগে, বাকি সবাই বাইরের দেশের লিগে খেলেন। তাঁদের ভেতর জাতীয় দলের হয়ে খেলার অনুপ্রেরণাটা জাগিয়ে তোলেন কিভাবে?

মার্তিনেজ : রেড ডেভিলদের হয়ে খেলার মর্মটা কী, সেটা ড্রেসিং রুমের সবাই জানে। আমাদের অবস্থা আসলে ইউরোপের অন্যান্য দেশ থেকে একদমই আলাদা। আমাদের দলের শতকরা ৯৫ ভাগ ফুটবলার বাইরের দেশে খেলে, ইউরোপের খুব বেশি দেশে, এমন পরিস্থিতি হয় না। তারা যখন ফিরে আসে, তখন খুব করেই জাতীয় দলের কথা ভাবে।

প্রশ্ন : বেলজিয়ামের রাষ্ট্রভাষা তিনটি। ফ্রেঞ্চ, জার্মান আর ফ্লেমিশ! তিন ভাষার শব্দের জাতীয় সংগীত রপ্ত করতে কষ্ট হয়নি?

মার্তিনেজ : আমি বুঝতে পেরেছি, জাতীয় সংগীতটা আসলে গানের চেয়ে বা কোনো একটা ভাষার  চেয়েও বেশি কিছু। এটা থেকেই দলের একতা আসে। আসলে খেলোয়াড়রা সব অন্য দেশে থাকায় দেশের হয়ে খেলার সময় তাদের একটা বাড়তি দায়িত্ববোধ কাজ করে।

প্রশ্ন : ফরাসি এবং ফ্লেমিশভাষী বেলজিয়ানদের মধ্যে কি কোনো আলাদা স্বকীয়তা চোখে পড়েছে আপনার?

মার্তিনেজ : ঠিক সবাইকে যে আলাদা করে ফেলা সম্ভব ব্যাপারটা তা নয়, তবে হ্যাঁ; তাদের ব্যক্তিত্ব ভিন্ন। এটা বোঝা যায়। এ জন্যই বেলজিয়াম এত সমৃদ্ধ। কারণ এখান থেকে ট্রেনে উঠলে চট করে ফ্রান্স, হল্যান্ড বা যুক্তরাজ্যে চলে যাওয়া যায়। সে জন্যই এখানে ভৌগোলিক প্রভাবটা খুব বেশি। তাই অনেক খেলোয়াড়কে পাওয়া যায়, যারা দুই-তিনটি ভাষায় কথা বলতে পারে। এটা বিশেষ ব্যক্তিত্বের জন্ম দেয়।

প্রশ্ন : এই প্রজন্মটাকে যে বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্ম বলা হয়, আপনি কি তার সঙ্গে একমত?

মার্তিনেজ : লোকে যখন বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের কথা বলে, সেটা আমাকে একদমই স্পর্শ করে না। এটা আসলে গণমাধ্যমের তৈরি একটা শব্দ, তবে একটা বিশেষ প্রজন্মের উৎকর্ষতাকে হাইলাইট করাটা ক্ষতিকর কিছু নয়। তবে তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই দলটার মধ্যে জয়ের মানসিকতা তৈরি করা আর তাদের প্রতিকূলতা সহ্য করার সামর্থ্য অর্জন করতে সহায়তা করা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা