kalerkantho


পুরো পাগল পাগল লাগছে!

২৭ মে, ২০১৮ ০০:০০



পুরো পাগল পাগল লাগছে!

ব্রাজিলের ফরোয়ার্ড গ্যাব্রিয়েল জেসুস। এই মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে জিতেছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। রিও অলিম্পিকে ব্রাজিলের ফুটবলে সোনাজয়ী দলের সদস্য ছিলেন জেসুস, বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ছিলেন ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা। বিদায়ী বছরের শেষ দিনে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ম্যাচে হাঁটুর লিগামেন্টের ইনজুরিতে পড়ে বেশ কিছুদিন মাঠের বাইরে কাটালেও ফিরেছেন খেলায়। গেল মৌসুমে ম্যানসিটির মৌসুমের শেষ ম্যাচে অন্তিম সময়ে গোল করে জয়ে শেষ করার সুযোগ করে দিয়েছেন সিটিজেনদের। এখন ভাবনায় বিশ্বকাপ

 

প্রশ্ন : নতুন বছরের শুরুটাই আপনার হয়েছিল দুঃসংবাদ দিয়ে। অথচ বছরটা হচ্ছে বিশ্বকাপের বছর। চোট কাটিয়ে কি ফিরতে পেরেছেন চেনা ছন্দে?

গ্যাব্রিয়েল জেসুস : আমি ধীরে ধীরে আমার নিজস্ব ছন্দে ফিরছি। কোনো তাড়াহুড়া করছি না। এটা বলতে পারি, বেশ কয়েকটি ম্যাচ আমি খুব ভালো খেলেছি। আমি নিজেই নিজের সবচেয়ে কড়া সমালোচক। আমার মনে হয় এটাই আমাকে সব সময় উন্নতি করতে সাহায্য করেছে।

প্রশ্ন : নিজেই নিজের কড়া সমালোচক হয়ে যাওয়ার প্রভাবটা আবার খেলায় পড়ছে না তো?

গ্যাব্রিয়েল জেসুস : ঠিক তা নয়। আত্মসমালোচনা বলতে আমি বুঝিয়েছি আমি সব সময় খেলায় নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে ভাবি। তার মানে এই নয় যে ভেবে ভেবে আমি নিজের মান নিচে নামিয়ে আনব। যদি দেখি আমি ভালো করছি না, তখন আমি জোরালো চেষ্টা করি উন্নতি করতে। সব সময় আরো ভালো খেলার চেষ্টা করি। একমাত্র এই উপায়েই আমি আরো ভালো খেলতে পারি।

প্রশ্ন : বিদায়ী মৌসুমে সব মিলিয়ে মাত্র ৪২টি ম্যাচে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদের চেয়ে তাতে কি অনেকটা কম ক্লান্ত হয়েই হয়তো বিশ্বকাপে যাচ্ছেন। এটা কি সাহায্য করবে?

গ্যাব্রিয়েল জেসুস : এটা আসলে একেক জনের বেলায় একেক রকম। আমার বেলায়, আমি মনে করি ব্যাপারটা বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ আমি অনুশীলনে প্রচুর পরিশ্রম করি, নিজের যত্ন নেই আর আমার বয়সটাও কম। তাই আমি সব সময়ই চাই ছুটতে। তবে এটা ঠিক, অন্যদের চেয়ে খানিকটা কম ক্লান্ত হয়েই হয়তো বিশ্বকাপ খেলতে নামব আমি।

প্রশ্ন : আপনার অন্যতম প্রিয় শখ হচ্ছে খেলোয়াড়দের স্টিকার জমানো। এখন তো আপনার স্টিকারও বাজারে ভরপুর! নিজের স্টিকার সংগ্রহে রাখেন নিশ্চয়ই?

গ্যাব্রিয়েল জেসুস : আসলে বিশ্বাসই হতে চায় না! আমি জীবনভর অনেক খেলোয়াড়ের স্টিকারই জমিয়েছি। এখন দেখি আমারও স্টিকার! যখন সেটা দেখি এবং শুনি যে লোকজন আমাকে নিয়ে কথা বলছে, আমার স্টিকার চাইছে, ব্যাপারটা অবিশ্বাস্য মনে হয়।

প্রশ্ন : বিশ্বকাপের আগের আসরেও আপনি দেয়ালে ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের ছবি আর পতাকা আঁকতেন। অথচ এখন আপনি নিজেই খেলতে যাচ্ছেন বিশ্বকাপে, আপনার চেহারা আঁকা হবে দেয়ালে। ভাবতে কি অবাক লাগছে?

গ্যাব্রিয়েল জেসুস : যখন ব্রাজিল ছেড়েছিলাম, তখন আমি ছিলাম একজন কিশোর। কিন্তু এখন আমি একজন পরিণত পুরুষ মানুষ হয়ে উঠেছি। আমার মানসিকতা বদলেছে। আমি ফুটবল ভালোবাসি, ভালোবাসা থেকেই খেলাটায় এসেছিলাম। বলা যেতে পারে, এই উত্তরণটা আমার একটা ব্যক্তিগত অর্জন। শুধু এটুকু বলতে চাই, জীবনে কিছুই কিন্তু সহজ নয়। কারো মনে যদি কোনো কিছু হওয়ার স্বপ্ন থাকে, তাহলে তার উচিত শরীর ও মন সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করা। আর নিজের স্বপ্নে যদি বাঁচা যায়, এর চেয়ে ভালো কিছু আর হতে পারে না।

প্রশ্ন : ইউরোপে খেলতে এসেছিলেন ২০১৭ সালের শুরুতে। ২০১৮-র মাঝামাঝিতেই ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন এবং খুব সম্ভবত প্রথম একাদশেই থাকবেন। খেলোয়াড়ি জীবনে এই যাত্রাটা কেমন ছিল?

গ্যাব্রিয়েল জেসুস : ম্যানচেস্টার সিটিতে আমার প্রথম বছরে আমি চোট পাই। কিন্তু এর পরও আমি ভালোই করেছিলাম এবং আরো ভালো করার ইচ্ছা ছিল। পরের বছরও একই অবস্থা। একাদশে থাকি, খেলা শুরু করি, খেলি এবং চোট পাই। এরপর কিছুদিন খেলা হয় না। এটা খানিকটা বিরক্তিকর। তবে আমি খুশি। কারণ এই মৌসুমে আমার দল লিগ জিতেছে।

প্রশ্ন : এবারই তো প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। অনুভূতিটা কেমন?

গ্যাব্রিয়েল জেসুস : পুরো পাগল পাগল লাগছে! এই অনুভূতিটা অত্যন্ত আনন্দের। মাঝে মাঝে কিন্তু আমারও বিশ্বাস হতে চায় না। বিশ্বকাপ ফুটবল, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট, সব ফুটবলারের সবচেয়ে আরাধ্য আসর। এত দিন ধরে জানতাম, এ রকম একটা আসর হয়। কিন্তু এখন বলতে পারব, বিশ্বকাপে খেলার অনুভূতিটা আসলে কেমন।

 



মন্তব্য