kalerkantho

শনিবার । ২ জুলাই ২০২২ । ১৮ আষাঢ় ১৪২৯ । ২ জিলহজ ১৪৪৩

লেনদেন বেড়েছে ৬৭২ কোটি ৬২ লাখ টাকা

বিক্রেতাশূন্য অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছে শেয়ারবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৩ জানুয়ারি, ২০১১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিক্রেতাশূন্য অবস্থা থেকে বেরিয়ে  এসেছে শেয়ারবাজার

গত এক সপ্তাহে পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক পতন কিংবা উত্থান পর্ব চলেছে। গতকাল বাজার স্বাভাবিক হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। ছবি : কালের কণ্ঠ

এক হাজার পয়েন্ট সূচক বৃদ্ধির রেকর্ডের পরের দিন গতকাল ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জে (ডিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক আরো ১৭৮ পয়েন্ট বেড়েছে। আগের দিনের বিক্রেতাশূন্য অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসেছে শেয়ারবাজার। মূলধন ফিরে পেতে অনেক বিনিয়োগকারী এবং কয়েকটি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী শেয়ার বিক্রি করেছে গতকাল। আগের দিনের চেয়ে লেনদেন বেড়েছে ৬৭২ কোটি ৬২ লাখ টাকা বেশি। তবে পর পর দুদিন কয়েকটি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী অতিমাত্রায় শেয়ার বিক্রিকে সন্দেহের চোখে দেখেছেন বিনিয়োগকারীরা। ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জের সভাপতি শাকিল রিজভী বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে কালের কণ্ঠকে বলেন, 'গত দুদিনের মূল্যবৃদ্ধির ফলে শেয়ারবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে এসেছে। এসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আতঙ্ক দূর করতে সাহায্য করেছে।' বন্ধের পর লেনদেন চালু হওয়ার দুদিনেই এ ধরনের বৃদ্ধিকে বাজারের জন্য সুখবর বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা। বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো শেয়ারবাজারে লেনদেন বন্ধ ও পুনরায় তা চালু করা একটি বড় ঘটনা। কেননা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এ পর্যন্ত ২২৫টি স্টক এঙ্চেঞ্জ বন্ধ করে দেওয়ার পর তা আর চালু করা সম্ভব হয়নি। তাই বাংলাদেশে সোমবার ভয়াবহ দরপতনের হাত থেকে বিনিয়োগকারীদের বাঁচাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (এসইসি) দুই স্টক এঙ্চেঞ্জের লেনদেন বন্ধ করে দিয়ে যেমন সময়োচিত পদক্ষেপ নিয়েছিল, তেমনি পরের দিন তা চালু করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এ সময়ে এসইসি ও বাংলাদেশ ব্যাংক পুঁজিবাজারবান্ধব যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা বাজারকে ক্রমেই বিনিয়োগকারীদের আস্থার জায়গায় নিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে। এসব সিদ্ধান্তের প্রভাবেই লেনদেন চালুর পরবর্তী দুদিনের ধারাবাহিক এই মূল্যবৃদ্ধি। তবে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে আসতে আরো সময় প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ভয়াবহ দরপতনের দিনে যে বিনিয়োগকারীরা শেয়ার ধরে রেখেছেন, তাঁরা এখন আশার আলো দেখতে শুরু করেছেন। তবে গত ছয় দিনের পুঁজি-হারানো ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের হতাশা ও ক্ষোভের আগুন এখনো নিভেনি। 'ধৈর্যশীলদের জন্য পুঁজিবাজার'_এ কথাটি তারই প্রমাণ। পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ ডিএসইর সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, 'গত দুদিনের বাজারের এই ঊর্ধ্বগতি বাজারকে আবারও ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে। কেননা বাজার আগের অতিমূল্যায়নের জায়গায় রয়ে গেছে। বাজারকে স্বাভাবিক জায়গায় আনতে হলে শেয়ারের সরবরাহ দ্রুত বাড়াতে হবে।' এদিকে এসইসি সূত্রে জানা গেছে, গত দুদিন কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংক ব্যাপক হারে শেয়ার ক্রয় করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আইসিবি, পিএফআই, আইডিএলসি, সিএমএসএল, মার্কেন্টাইল ও ব্র্যাক ব্যাংকের ব্রোকারেজ হাউস। অন্যদিকে কয়েকটি মার্চেন্ট ব্যাংক দুদিন ধরেই ব্যাপক হারে শেয়ার বিক্রি করেছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে_লংকা বাংলা সিকিউরিটিজ, বিএলআই সিকিউরিটিজ, সিটি ব্যাংকের ব্রোকারেজ হাউস, এবি সিকিউরিটিজ লিমিটিড ও এনসিসি ব্যাংক। গতকালের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দিনভর ২৪৬টি কম্পানির শেয়ারের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৪৭টির, কমেছে ৯৪টির এবং অপরিবর্তিত থেকেছে পাঁচটির। এসব কম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ১২ কোটি ৩১ লাখ ৭৭ হাজার ১৩৯টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। লেনদেনের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৬৪৯ কোটি ৭৬ লাখ ৬২ হাজার ৬৬৯ টাকা। এটা আগের দিনের চেয়ে ৬৭২ কোটি ৬২ লাখ টাকা বেশি। সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১৭৮ দশমিক ৬০ পয়েন্ট বেড়ে ৭ হাজার ৬৯০ দশমিক ৬৯ পয়েন্টে স্থির হয়েছে। বাজার মূলধনের পরিমাণ ছিল তিন লাখ ২৯ হাজার ৬৬০ কোটি ৪৫ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।

বিজ্ঞাপন



সাতদিনের সেরা