kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

ফাহাদ এগোতে চায় আরো দ্রুত

২৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফাহাদ এগোতে চায় আরো দ্রুত

মগ্ন ফাহাদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এশিয়ান দাবায় ভারত, বাংলাদেশের জোন আলাদা হয়ে যাওয়ায় নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, পাকিস্তানকে নিয়ে বাংলাদেশের জোনে বাংলাদেশই এখন বাঘ। বাকিদের অংশগ্রহণ নামমাত্র। তাতে জোনাল দাবা আন্তর্জাতিক আসরের আবেদন হারালেও বাংলাদেশি গ্র্যান্ডমাস্টাররা এই টুর্নামেন্ট খেলতে মুখিয়ে থাকেন, কারণ বিশ্বকাপ দাবায় খেলার একমাত্র সিঁড়ি এটাই। এ আসরে যিনি চ্যাম্পিয়ন হবেন, তিনিই যাবেন বিশ্বকাপে।

যে কারণে ঢাকায় হওয়া এবারের জোনাল দাবায়ও পাঁচ গ্র্যান্ডমাস্টারের উপস্থিতি। দাবায় অনিয়মিত হয়ে পড়া গ্র্যান্ডমাস্টার রিফাত বিন সাত্তার পর্যন্ত সুযোগটা কাজে লাগাতে চেয়েছেন, তেমনি নিয়মিত টুর্নামেন্ট না খেলা নিয়াজ মোর্শেদও পিছিয়ে থাকেননি। এমন ধুন্ধুমার লড়াইটা মাঝখান থেকে ফাহাদ রহমান জিতে যাবে আসলে ভাবা যায়নি। এটা ঠিক, গত বছরই চট্টগ্রামে তিন গ্র্যান্ডমাস্টারকে হারিয়ে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট জিতেছে সে। গত অলিম্পিয়াডেও গ্র্যান্ডমাস্টারদের ছাপিয়ে বাংলাদেশের সেরা পারফরমার ছিল ১৬ বছর বয়সী এই দাবাড়ু। তবু সবাইকে পেছনে ফেলে তার বিশ্বকাপের টিকিট কেটে ফেলাটা দারুণ চমক। এই অর্জন বোঝাচ্ছে ফাহাদ তাঁর পথেই আছে, হয়তো বা গতিটা ধীর।

কিছুদিন আগেই তামিলনাড়ুর ১২ বছর বয়সী কিশোর গুকেশ ভারতের সর্বকনিষ্ঠ গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়ার কীর্তি গড়েছে। ১০ বছর বয়সে ফাহাদ যেদিন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমানকে হারিয়ে দিয়েছিলেন সেদিনই তাকে নিয়ে জিএম হওয়ার স্বপ্ন বোনা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু ফাহাদ এগোতে থাকল ধীরে। জুনিয়র দাবা নিজের করে নিল, নামলেই চ্যাম্পিয়ন হয় এমন অবস্থা। থাইল্যান্ডে তেমনি এক জুনিয়র দাবা চ্যাম্পিয়ন হয়ে ২০১৩ সালে সে পেল দেশের সর্বকনিষ্ঠ ফিদে মাস্টারের খেতাব। এরপর এশিয়ার বিভিন্ন দেশের জুনিয়র পর্যায়েই বেশি টুর্নামেন্ট খেলেছে সে, ২০১৬ সালে জিতেছে দুবাই জুনিয়র। গত দুই বছরে মূলত সিনিয়র পর্যায়ে নিজেকে জানান দিতে শুরু করেছে এ দাবাড়ু। ২০১৬-তে প্রথমবার জাতীয় দাবায় খেলে। পরেরবার শীর্ষ পাঁচে থেকে জায়গা করে নেয় অলিম্পিয়াডেও। একই বছর ইরানে এশিয়ান নেশন্স দাবায় গ্র্যান্ডমাস্টারদের মধ্যে থেকেই নিজের বোর্ডে জেতে ব্রোঞ্জ পদক। এ বছরই চট্টগ্রামে প্রথম জিএম দাবার শিরোপাও হাতে ওঠায় সে। আর পরশু এশিয়ান জোনাল দাবায় এলো তার সিনিয়র পর্যায়ে দ্বিতীয় শিরোপা, সঙ্গে সরাসরি আন্তর্জাতিক মাস্টারের খেতাব আর বিশ্বকাপের টিকিট। ফাহাদের মানে এই অর্জনের গতি ধীর হলেও বাংলাদেশের ১৬ বছর বয়সী একজন দাবাড়ুর জন্য তা বিপুল। রাশিয়ায় অনুষ্ঠেয় আগামী বিশ্বকাপে খুব সম্ভবত সবচেয়ে কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবেই অংশ নিতে যাবে সে।

তবে ফাহাদের স্বপ্নটা তো আরো বড়। আইএম খেতাব জিতেও তাই প্রাণ ভরার কথা নয়। কালও জিএম নর্মের জন্য কাতরতা ঝরে পড়েছে তাঁর কথায়, ‘এত দিনে আইএম নয়, জিএমই হতে চেয়েছি আমি। কিন্তু সেভাবে খেলার সুযোগ তো পাচ্ছি না। আমাদের দেশে জিএম নর্ম করার মতো টুর্নামেন্ট হয়ই না বলতে গেলে, নিজ খরচে খুব বেশি দূর হলে ভারতে গিয়ে খেলতে পারি। সেখানেও এই সময়ে যদি টানা খেলতে পারতাম আমি, কিংবা ইউরোপে মাস চারেক থাকতে পারতাম, তাহলে নিশ্চিত জিএম হয়েই ফিরতাম আমি।’ শেষ রাউন্ডের চমকে গ্র্যান্ডমাস্টার এনামুল হোসেনকে হারিয়ে জোনাল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ফাহাদ। সেই এনামুলও মনে করেন, ‘ফাহাদ যে গতিতে এগোচ্ছে তা প্রত্যাশিত নয়। কিন্তু এই অবস্থান থেকে জিএম হতে হলে যে সুযোগ-সুবিধা তার পাওয়া প্রয়োজন সে তো তা পাচ্ছে না। ভারতের যে ছেলেটা ১২ বছর বয়সে জিএম হলো সে বছরে

১৮টা টুর্নামেন্ট খেলেছে, ভাবা যায়! তাই ফাহাদকে এগিয়ে নিতে অন্যদেরও কিছু দায়িত্ব নিতে হবে সেটা দেশের স্বার্থেই।’ গত অলিম্পিয়াডের আগে মাস কয়েকের জন্য লাটভিয়ান কোচ ইগর রাউসিসকে পেয়েছিল ফাহাদ। তাতেই তার খেলা কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছে বলে তারই মত। কিন্তু অলিম্পিয়াডের পরে আবার তার চর্চা চলছে সেই একা একা। ১৬ বছর বয়সে নিয়মিত যে দেশের নামকরা জিএমদের হারাচ্ছে, আরেকটু গাইডলাইন পেলে বড় কোনো স্বপ্ন ছোঁয়া নিশ্চয় অসম্ভব নয় তার জন্য।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা