kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

সময় এসেছে টাইলস আমদানি বন্ধ করার

২০১২ সালের মার্চে যাত্রা শুরু করার পর দেশের বাজারে নিজের অবস্থান পোক্ত করেছে আকিজ সিরামিকস। সিরামিকশিল্পের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে কথা বলেছেন আকিজ বিল্ডিং ম্যাটেরিয়েলসের বিজনেস ডিরেক্টর মোহাম্মদ খোরশেদ আলম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাইদ শাহীন

২৪ নভেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সময় এসেছে টাইলস আমদানি বন্ধ করার

কালের কণ্ঠ : শতভাগ আমদানিনির্ভর সিরামিকশিল্প এখন ৯০ শতাংশই দেশে উৎপাদন হচ্ছে। এ শিল্পে এখন দেশের বড় করপোরেট বিনিয়োগ করছে। আকিজ কী সম্ভাবনা দেখছে?

মোহাম্মদ খোরশেদ আলম : ক্রয় সক্ষমতা ও স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, প্রাপ্যতা নিশ্চিত হওয়া এবং মানুষের সচেতনতা—এসব কারণেই টাইলসের ব্যবহার বেড়েছে। অর্থনৈতিক উন্নতি, প্রযুক্তির কল্যাণে ভোক্তাদের জীবনযাপনে পরিবর্তন আসছে।

বিজ্ঞাপন

বিরাট একটি মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিকাশ হচ্ছে। সেটি আগামী কয়েক দশক বিদ্যমান থাকবে। আমরাও সেই পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে সিরামিক ও টাইলসের পণ্যে ক্রমাগত গবেষণা ও উদ্ভাবন অব্যাহত রাখছি। সেরা মানের পণ্য সরবরাহ করতে আমাদের সক্ষমতা ও বিনিয়োগ বাড়াচ্ছি। বর্তমানে দেশের বাজারের প্রায় ১১ শতাংশ আকিজের নিয়ন্ত্রণে। বিশ্বের পাঁচটি দেশে রপ্তানি হচ্ছে আমাদের পণ্য। আমাদের টেবিলওয়্যার ইউরোপ ও আমেরিকায় রপ্তানি হচ্ছে। স্যানিটারিওয়্যার ইউরোপে রপ্তানি হচ্ছে।

 

কালের কণ্ঠ : আকিজের পণ্যে কী নতুনত্ব আসছে?

খোরশেদ আলম : আকিজ সব সময়ই নতুন উদ্ভাবন ও ভোক্তা চাহিদাকে বিবেচনায় নিয়ে থাকে। এ জন্য আকিজ সিরামিকের সব পণ্যই সবচেয়ে পরিষ্কার ও সাদা থাকে। টেবিলওয়্যার পণ্যের পিউরিটি নির্ভর করে সাদার ওপর। বাজারে আকিজের পণ্যেই কেবল শতভাগ পিউরিটি পাওয়া যাবে। দেশের সবচেয়ে বড় টাইলস বিপণন করতে যাচ্ছে আকিজ। দেশে এই প্রথমবারের মতো ১৬০০–৮০০ বর্গমিটার আকারের টাইলস পাবেন ভোক্তারা। পরবর্তী সময়ে আরো বড় করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

 

কালের কণ্ঠ : উৎপাদন বাড়ানোর কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে?

খোরশেদ আলম : গ্যাসসংকট কেটে গেলে আমাদের উৎপাদন আরো বাড়বে। বর্তমানে প্রতি মাসে টেবিলওয়্যারের উৎপাদন হচ্ছে ১৫ লাখ পিস, যা আগামী অর্থবছরে ৩০ লাখ পিসে উন্নীত হবে। এ ছাড়া প্রতিদিন টাইলস উৎপাদন হচ্ছে ৬৯ হাজার ৫০০ স্কয়ার মিটার, যা আগামী অর্থবছরে এক লাখ স্কয়ার মিটারে উন্নীত করা হবে। অন্যদিকে প্রতি মাসে এখন এক লাখ পিস স্যানিটারিওয়্যার উৎপাদন হচ্ছে, সেটি আগামী অর্থবছরে তিন লাখ পিসে উন্নীত করা হবে। এ ছাড়া আমাদের টেবিলওয়্যারের পণ্য নতুন নতুন দেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এরই মধ্যে কানাডার বাজারে আমাদের পণ্য যেতে শুরু করবে। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের আরো দেশে আমাদের পন্য রপ্তানি বাড়বে।

 

কালের কণ্ঠ : দেশের সিরামিকশিল্পে বর্তমানে চ্যালেঞ্জগুলো কী?

খোরশেদ আলম : সিরামিকশিল্প মূলত জ্বালানিনির্ভর। গ্যাস হচ্ছে সিরামিকশিল্পের অক্সিজেন। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাস সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিদ্যমান সংকটের কারণে উৎপাদন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে গেছে। কাঁচামালের আমদানি নিরবচ্ছিন্ন করতে হবে। আমাদের প্রায় সব কাঁচামালই আমদানি করতে হয়, সে ক্ষেত্রে সরকার যদি আমদানি শুল্কের হার কমানোর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে অপার সম্ভাবনাময় এই খাতের আরো উন্নয়ন সম্ভব হবে। এ ছাড়া স্থানীয় পণ্যের উৎপাদনের ওপর শুল্ক আরো কমানো প্রয়োজন। সিরামিকশিল্পকে বিলাসবহুল বলে শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করা হচ্ছে। এগুলো এখন আর বিলাস পণ্য নয়। এই শিল্প এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইংল্যান্ড, তুরস্ক বা জার্মানি, স্পেন পরিশোধনের কাজগুলো করে। আমরা মৌলিক কাঁচামাল পরিশোধনের ওপর বিনিয়োগ করতে চাচ্ছি। সে জন্য বিনিয়োগ বাধা দূর করতে হবে। এ ছাড়া কাঁচামাল আমদানির ওপর শুল্ক কমানো প্রয়োজন। কেননা আমদানি পণ্যের মধ্যে ৩১ শতাংশই থাকে আদ্রতা (ময়েশ্চার)। ফলে শুল্ক আরোপ করতে হবে নেট পণ্যের ওপর।

 

কালের কণ্ঠ : গ্যাসসংকট মেটাতে বিকল্প কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন কি?

খোরশেদ আলম : আমরা গত দুই বছরে বিভিন্ন সময়ে এলপিজি ও সিএনজি গ্যাসের মাধ্যমে উৎপাদন পরিচালনার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এই পদ্ধতিতে গ্যাসের চেয়ে উৎপাদন খরচ তিন গুণ বৃদ্ধি পায়। আমরা আমাদের পণ্যের দাম ভোক্তা পর্যায়ে বাড়াইনি। এ অবস্থায় ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হলে গ্যাসের বিকল্প কিছু নেই। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস দিতে না পারলে সিরামিকশিল্প আইসিইউতে চলে যাবে।

 

কালের কণ্ঠ : আগামী দিনে কোন খাতে বিনিয়োগ সবচেয়ে বেশি আসবে, টাইলস নাকি টেবিলওয়্যারে?

খোরশেদ আলম : টাইলসের চেয়ে টেবিলওয়্যারে সম্ভাবনাটা বেশি। কারণ টেবিলওয়্যারের ব্যবসাটা অনেক বেশি টেকনিক্যাল, চ্যালেঞ্জিং। আমরা টেবিলওয়্যার, স্যানিটারিওয়্যার, টাইলস—তিনটিরই ব্যবসা করি। বাজারে এ মুহূর্তে টাইলস ব্যবসায় প্রচুর বিনিয়োগ আসছে, অনেক করপোরেট হাউস আসছে। গ্রামে গেলেও দেখা যাচ্ছে টাইলসের অনেক চাহিদা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু সেসব টাইলস খুব কম মূল্যমানের পণ্য। টেবিলওয়্যার পণ্যে কম বিনিয়োগে বেশি মুনাফা হয়। এ ছাড়া বিপণন জটিলতাও কম। আকিজ বর্তমানে টেবিলওয়্যার, স্যানিটারিওয়্যার, টাইলস—এ তিনটি ব্যবসা করে যাচ্ছে। তবে সামনের দিনে টাইলসে বেশি জোর দেবে।

 

কালের কণ্ঠ : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

খোরশেদ আলম : আপনাকেও ধন্যবাদ।



সাতদিনের সেরা