kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

২০২৫ সালের মধ্যে ফ্রিজ রপ্তানি করার লক্ষ্য

বাংলাদেশে বিশ্বমানের ও পরিবেশবান্ধব রেফ্রিজারেটর তৈরি করছে ইলেকট্রো মার্ট লিমিটেড। এ খাতে কর্মসংস্থানও প্রায় সাত হাজার। বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন কম্পানির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মোহাম্মদ নূরুল আফসার

৪ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



২০২৫ সালের মধ্যে ফ্রিজ রপ্তানি করার লক্ষ্য

কালের কণ্ঠ : দেশে ফ্রিজের বাজার কেমন, আপনাদের অবস্থান কী?

নূরুল আফসার : বিশাল জনগোষ্ঠীর এ দেশে বাৎসরিক ফ্রিজের বাজার ২৫ লক্ষাধিক। আমরা বাজার চাহিদার ২৫ শতাংশের অধিক বিক্রয়ের মাধ্যমে বৃহৎ স্থান দখল করে আছি। দেশের সর্বত্র কনকা, গ্রি ও হাইকো ব্র্যান্ড ফ্রিজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে সিটি করপোরেশন ও জেলা শহরে কনকা, গ্রি ও হাইকো ব্র্যান্ড ফ্রিজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি।

বিজ্ঞাপন

কারণ পণ্যের গুণগত মান, দীর্ঘস্থায়িত্ব ও সাশ্রয়ী মূল্য। দেশজুড়ে বিদ্যুতায়নের ফলে এ চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

 

কালের কণ্ঠ : আপনাদের ফ্রিজের বিশেষত্ব কী?

নূরুল আফসার : কনকা ফ্রিজের বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় একে এনে দিয়েছে খ্যাতি ও বিশেষ সুনাম। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে আমরা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন প্রযুক্তির সংযোজন করছি। এভাবে মানসম্মত ও আন্তর্জাতিক মানের পণ্য সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহ করে যাচ্ছি। কনকা ফ্রিজে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বিশেষ প্রযুক্তি; যেমন—হিউমিডিটি কন্ট্রোলার, অ্যান্টিফাঙ্গাল ডোর গ্যাস্কেট, ডিজিটাল ডিসপ্লে, ইনভার্টার টেকনোলোজি, ব্লু জোন অ্যান্ড ভিটামিন ফ্রেশ টেকনোলজি ও অ্যাক্টিভ কার্বন ডিয়োডোরাইজার।

ফলমূল ও সবজি জাতীয় খাবার বাগানে যে রকম সতেজ থাকে এবং ভিটামিন মিনারেল সব ঠিক থাকে, ঠিক সে রকম ব্লু জোন ভিটামিন ফ্রেশ টেকনোলজি ফ্রিজের ভেতরে ফলমূল ও সবজি জাতীয় খাবারকে রাখবে ফ্রেশ ও ভিটামিনসমৃদ্ধ। ফলমূল ও সবজির গুণাগুণ ঠিক রাখবে দীর্ঘদিন পর্যন্ত।

একইভাবে কনকা ফ্রিজে অ্যাক্টিভ কার্বন ডিয়োডোরাইজার টেকনোলজি থাকার কারণে ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ডি-অ্যাক্টিভ করে দেয়, যার কারণে দীর্ঘদিন পর্যন্ত ফ্রিজে খাবারের স্বাদ ও গন্ধ একই রকম থাকে এবং একটি খাবারের গন্ধ অন্য খাবারে মিশতে পারে না। এভাবে একেকটি প্রযুক্তি গ্রাহককে একেক ধরনের সুবিধা দিচ্ছে।

আরেকটি বিশেষত্ব হচ্ছে কনকা ডিপ ফ্রিজারে রয়েছে অটো করভারশন টেকনোলজি, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী যেকোনো সময় ডিপ ফ্রিজারকে নরমাল রেফ্রিজারেটরের মতো কনভারশন করে ব্যবহার করতে পারবেন। এ ছাড়া সুপার কুল মোড ব্যবহার করে অধিক পরিমাণ খাবারকে মাত্র ১৫ মিনিটে আইস করে খাবারের গুণ ও মান সংরক্ষণ করা যায়।

 

কালের কণ্ঠ : পণ্যের গুণগত মান ও উদ্ভাবনে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন?

নূরুল আফসার : পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখতে আমরা প্রতিনিয়ত চীন ও বাংলাদেশি যৌথ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে উন্নত ও নতুন প্রযুক্তিসমৃদ্ধ ফ্রিজ সরবরাহের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি।

 

কালের কণ্ঠ : রপ্তানিতে কতটা আশাবাদী?

নূরুল আফসার : ২০২৫ সালের মধ্যে রপ্তানির লক্ষ্য স্থির করে কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা দ্বিগুণ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি।

 

কালের কণ্ঠ : কী ধরনের নীতি সহায়তা ুচান?

নূরুল আফসার : বর্তমানে সরকারের নীতি ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট অনুকূল বলেই আমরা বিশ্বাস করি। ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভ্যাট ছাড় আছে। তবে আমরা কারখানা করলাম মাত্র ২০১৮ সালে। ফলে আমাদের আবেদন, সরকার যেন তা আরো ১০ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি করে। শিল্পের জন্য সরকারের নীতির ধারাবাহিকতা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব

থাকা দরকার। এতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আকৃষ্ট হবেন। কারণ তাঁরা দীর্ঘ মেয়াদে পরিকল্পনা করেন। বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা চীন থেকে সরে আসার চিন্তা করছেন। বাংলাদেশের ব্যাপারে তাঁরা আগ্রহী। বাংলাদেশে যথাযথ নীতির ধারাবাহিকতা থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসবেন। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, বেনিফিটটা যেন স্থায়ী ভিত্তিতে দেয়। হাজার কোটি টাকার একটি বিনিয়োগ প্রকল্পে রিটার্ন পাওয়ার নিশ্চয়তা সবাই চায়। সরকার এ সুবিধাটা ২০৩০ সাল পর্যন্ত দিলে এ খাতে বিপুল বিনিয়োগ সম্ভব। কারণ শ্রমিকসংকটের কারণে চীনসহ ইউরোপের দেশগুলো এসব শিল্পে সুবিধা করতে পারছে না। ফলে এ সুবিধাটা নেওয়ার সুযোগ আমাদের রয়েছে।



সাতদিনের সেরা