kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

ঈদ অফারে বেড়েছে বেচাকেনা

সজীব আহমেদ   

৪ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঈদ অফারে বেড়েছে বেচাকেনা

শহর থেকে গ্রাম সব পরিবারেই ফ্রিজ এখন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য হয়ে উঠেছে। খাবার সতেজ ও টাটকা রাখতে এর কোনো বিকল্প নেই। একটা সময় আমদানীকৃত ফ্রিজের ওপর মানুষের নির্ভরতা থাকলেও এখন স্থানীয় ব্র্যান্ডেই চাহিদা পূরণে সক্ষমতা দেখাচ্ছে। ফলে ফ্রিজ যেমন সহজলভ্য হয়েছে, তেমনি বিস্তৃত হয়েছে এর বাজারও, বিশেষ করে কোরবানির ঈদ এলেই ফ্রিজের চাহিদা থাকে তুঙ্গে।

বিজ্ঞাপন

এ বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। দেশি কম্পানির ফ্রিজ বিক্রি বেড়েছে।

বিক্রেতারা বলছেন, বছরের স্বাভাবিক সময়ে যে পরিমাণ ফ্রিজ বিক্রি হয়, শুধু দুটি ঈদকে ঘিরেই তার চেয়ে বেশি ফ্রিজ বিক্রি হয়ে থাকে। একসময় ক্রেতারা শুধু দামের বিষয়টি দেখতেন, এখন ফ্রিজ কেনার সময় দামের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎসাশ্রয়, ডিজাইন, কম্প্রেসর, বিক্রয়োত্তর সেবা ও আধুনিক প্রযুক্তির বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তবে অপেক্ষাকৃত কম দামে মোটামুটি ভালো মানের ফ্রিজ তৈরিতে সক্ষম হওয়ায় দেশীয় ব্র্যান্ডের ফ্রিজ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

২০২১ সালে প্রকাশিত মার্কেটিং ওয়াচ বাংলাদেশের (এমডাব্লিউবি) এক গবেষণা বলছে, দেশের ফ্রিজের বাজারের বেশির ভাগই দেশীয় ব্র্যান্ডের দখলে। এর মধ্যে এককভাবে ওয়ালটনের দখলে অনেকখানি অংশ। বাকিগুলো যমুনা, মার্সেল, ভিশন, মিনিস্টারসহ অন্যান্য কম্পানির দখলে। আর বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে কনকা, সিঙ্গার, শার্প, স্যামসাং, এলজি উল্লেখযোগ্য।

ওয়ালটন, মিনিস্টার, স্যামসাং, এলজি, ইকো প্লাস, সিঙ্গারসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের শোরুম ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন ডিজাইন ও রংয়ের ডিপ ও সাধারণ ফ্রিজ নিয়ে এসেছে দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো। ক্রেতা আকর্ষণের জন্য ফ্রিজ বিক্রিতে ডিসকাউন্ট, ডিজিটাল ক্যাম্পেইন, স্ক্র্যাচ কার্ড অফারসহ ১২ মাস পর্যন্ত সহজ কিস্তির সুবিধাও দেওয়া হয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে নানা রং ও ডিজাইনের বেশ কিছু নতুন ফ্রিজ নিয়ে এসেছে দেশি ব্র্যান্ড ওয়ালটন। প্রগতি সরণি, মধ্যবাড্ডার ওয়ালটন শোরুমের ম্যানেজার মোস্তফা কামাল (সোহাগ) কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ঈদকে ঘিরে এখনো ডিপ ফ্রিজ বিক্রি তেমনভাবে শুরু হয়নি। বিক্রি শুরু হয় মূলত চাঁদ ওঠার পর থেকে। ক্রেতা আকর্ষণে ঈদকে ঘিরে আমরা বিক্রিতে বিভিন্ন অফার দিয়েছি। প্রতিটি ওয়ালটন ফ্রিজে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্টসহ ডিজিটাল ক্যাম্পেইন অফার দেওয়া হয়েছে। এই ক্যাম্পেইন অফারে প্রত্যেক ক্রেতার সর্বনিম্ন ৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিশ্চিত নগদ অর্থ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ’ তিনি বলেন, ‘এখন ছোট-বড় সব ধরনের ফ্রিজে গড়ে পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে গেছে। ’

ওয়ালটনের এই শোরুমে পিকআপের চালক সোলাইমান সিকদার তাঁর স্ত্রীকে নিয়ে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকার মধ্যে ফ্রিজ দেখতে এসেছিলেন। শোরুমে থাকা ফ্রিজগুলো কিছুক্ষণ দেখার পর ২৪ হাজার ৫০০ টাকার একটি ফ্রিজ পছন্দও করেন তাঁরা। জানতে চাইলে তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের মতো নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের জন্য ওয়ালটনই ভরসা। আরো একটি অন্য কম্পানির শোরুমে গিয়েছিলাম, সেখানে ৩০ হাজার টাকার নিচে ফ্রিজ নেই। ’

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় স্যামসাং, এলজি ও ইকো প্লাসের শোরুমে গিয়ে কথা হয় ম্যানেজার আশরাফুল ইসলাম জুনায়েদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের ডিপ ফ্রিজের চাহিদা বেশি। অনেক কাস্টমার ডিপ ফ্রিজ দেখে যাচ্ছেন, বেতন পাওয়ার পর হয়তো কেনা শুরু করবেন। ফ্রিজের বাজার এখন অর্ধেকের বেশি দেশি ব্র্যান্ডের দখলে। তবে যাঁরা সচেতন, তাঁরা এখনো বিদেশি ব্র্যান্ডের ফ্রিজ কিনছেন। ’

তিনি বলেন, ‘যাঁদের বাজেট কম, তাঁরা আমাদের ইকো প্লাস ব্র্যান্ডের ফ্রিজটি কিনে নিচ্ছেন। এই শোরুম থেকে গত কোরবানির ঈদে স্যামসাং ও এলজির ৮০টি ডিপ ফ্রিজ বিক্রি হয়। এ বছর আমাদের টার্গেট আছে প্রায় ২০০ ডিপ ফ্রিজ বিক্রির। আমরা বছরে যে পরিমাণ স্যামসাং ফ্রিজ বিক্রি করি, তার ৯০ শতাংশ দেশে উৎপাদিত। দেশে উৎপাদন করলেও স্যামসাংয়ের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা হয়। ’

মধ্যবাড্ডায় সিঙ্গার শোরুমে গিয়ে কথা হয় ম্যানেজার মো. রাশেদুর রহমানের সঙ্গে। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সিঙ্গারের আমদানি করা এবং দেশে উৎপাদিত দুই ধরনের ফ্রিজ বিক্রি করে থাকি। দেশে উৎপাদিত ফ্রিজ থেকে আমদানীকৃত ফ্রিজে সাত থেকে আট হাজার টাকার মতো পার্থক্য থাকে। যাঁরা সচেতন, তাঁরা কিছু টাকা বেশি লাগলেও আমদানীকৃতটাই নিচ্ছেন। আবার যাঁদের বাজেট কম, তাঁরা দেশে উৎপাদিত সিঙ্গার ফ্রিজই নিচ্ছেন। ’

তিনি বলেন, ‘কোরবানি ঈদ উপলক্ষে সিঙ্গার ফ্রিজে বড় অফার দিয়েছে। ফ্রিজ কিনলে স্ক্র্যাচ কার্ডে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত নিশ্চিত ডিসকাউন্ট অফার রয়েছে। একই সঙ্গে রয়েছে ১২ মাস পর্যন্ত সহজ কিস্তির সুবিধা। ’

 

 



সাতদিনের সেরা