kalerkantho

শুক্রবার । ১২ আগস্ট ২০২২ । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১৩ মহররম ১৪৪৪

দেশের প্রতিটি থানায় যমুনা প্লাজা হবে

দেশের বাজারে গ্রাহকদের সাশ্রয়ী ও মানসম্পন্ন ইলেকট্রনিকস পণ্য সরবরাহের লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে যমুনা ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড অটোমোবাইলস। কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কম্পানির বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন পরিচালক, মার্কেটিং সেলিম উল্যা সেলিম

৪ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দেশের প্রতিটি থানায় যমুনা প্লাজা হবে

কালের কণ্ঠ : ফ্রিজের ব্যবসায় আপনাদের যাত্রা কখন? সাফল্যের কারণ কী?

সেলিম উল্যা সেলিম : কনজিউমার ইলেকট্রনিকস জগতে যমুনার পথচলা শুরু ২০১৪ সালে। মূলত ভালো মানের পণ্য সরবরাহের লক্ষ্যেই আমাদের গ্রুপের প্রয়াত সম্মানিত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বাবুল মনে করলেন, ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে জনগণের দুয়ারে সেরা পণ্যটি পৌঁছে দিতে হবে। তাই দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী যমুনা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান যমুনা ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড অটোমোবাইলস লিমিটেড ২০১৪ সালে বৃহৎ পরিসরে ইলেকট্রনিকস হোম অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদন শুরু করে।

 

কালের কণ্ঠ : দেশের বাজারে ফ্রিজের চাহিদা কেমন?

সেলিম উল্যা সেলিম: রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ বর্তমান সময়ে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বিজ্ঞাপন

খুব দ্রুতই এই বাজার বড় হচ্ছে। মার্কেট সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে এর মার্কেট সাইজ শতকোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

 

কালের কণ্ঠ : পণ্যের গুণগত মানে আপনারা কতটা এগিয়ে?

সেলিম উল্যা সেলিম: আমরা সাশ্রয়ী মূল্য, দীর্ঘস্থায়িত্ব, বিদ্যুৎসাশ্রয়ী, আকর্ষণীয় ডিজাইন, উন্নত কম্প্রেসর, ওয়ারেন্টি, বিক্রয়োত্তর সেবা এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির পণ্যটি সরবরাহ করছি। ‘সকল প্রয়োজন আয়োজনে যমুনার পণ্য’ স্লোগানে যমুনা ইলেকট্রনিকস এখন বাংলাদেশের রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজার ক্যাটাগরিতে নাম্বার ওয়ান কোয়ালিটি ব্র্যান্ড। গুণগত মান ঠিক রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। ইন্ডাস্ট্রির তথ্য বলছে, এই ইন্ডাস্ট্রিতে যাঁরা উৎপাদক আছেন তাঁরা ১০০টি পণ্য ডেলিভারি দিলে কমপক্ষে ৭-১২টির ক্ষেত্রে অভিযোগ আসে এবং সেগুলো নিষ্পত্তি করতে হয়। কিন্তু যমুনার পণ্যের ক্ষেত্রে বিক্রয়-পরবর্তী ভোক্তার অভিযোগের সংখ্যা শূন্যের কাছাকাছি।

 

কালের কণ্ঠ : আপনাদের ফ্রিজের বিশেষত্ব কী?

সেলিম উল্যা সেলিম: আমরা সংখ্যাই নয়, গুণে ও মানে সেরা হতে চাই। সিলিকন জেল মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর এবং খাদ্যমান নষ্ট করে। অথচ এই সিলিকন জেল দিয়ে বাজারে প্রচলিত অনেক রেফ্রিজারেটর তৈরি হয়। যমুনা রেফ্রিজারেটর তার উৎপাদন প্রক্রিয়ার কোথাও সিলিকন জেল ব্যবহার করে না। আমাদের ফ্রিজগুলোতে জ৬০০ধ গ্যাস ব্যবহৃত হয়, যা পরিবেশবান্ধব ও মানবদেহের ক্ষতি করে না। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে খাবারের মান ঠিক থাকে। সঙ্গে বিদ্যুৎ খরচ ৭০ শতাংশ কম হয়।

 

কালের কণ্ঠ : আপনাদের নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত?

সেলিম উল্যা সেলিম: সাধারণত সারা দেশে আমাদের পণ্যগুলো তিনটি নেটওয়ার্কে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছায়। একটা ফ্ল্যাগশিপ শোরুম। দেশজুড়ে আমাদের ফ্ল্যাগশিপ শোরুম আছে। ২০২২ সালের শেষ নাগাদ আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে অন্ততপক্ষে ৩০০টি ফ্ল্যাগশিপ শোরুম আমরা তৈরি করব। শহুরে অঞ্চল থেকে মফস্বল সবখানেই যেন ভোক্তাদের কাছে আমাদের পণ্যটি পৌঁছে দিতে পারি। এ ছাড়া সারা দেশে আমাদের ডিলার শোরুম আছে প্রায় ৪৫০টির মতো। বাংলাদেশে যে গ্লাসডোর ফ্রিজগুলো দেখা যায়, এর প্রথম উদ্যোক্তা আমরা।

 

কালের কণ্ঠ : ঈদুল আজহায় ক্রেতাদের জন্য কোন অফার আছে?

সেলিম উল্যা সেলিম: ঈদুল আজহা উপলক্ষে যমুনা রেফ্রিজারেটর ও ফ্রিজারে চলছে মিলিয়নেয়ার অফার। অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করে একজন ক্রেতা জিতে নিতে পারেন ফ্রিজ, টিভি, এসিসহ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিশ্চিত ক্যাশব্যাক। এ ছাড়া সর্বনিম্ন ডাউন পেমেন্টে এক হাজার ৩৬ টাকা মাসিক কিস্তি, ৪০ শতাংশ পর্যন্ত এক্সচেঞ্জ অফারে ফ্রিজ কেনার ও ৩৬টি ব্যাংকে শূন্য শতাংশ ইন্টারেস্টে ইএমআই সুবিধা ছাড়াও একটি ফ্রিজ কিনলে তিনটি পণ্য ফ্রি পাওয়ার সুযোগও থাকছে।

 

কালের কণ্ঠ : বিক্রয়োত্তর সেবা কেমন দিচ্ছেন?

সেলিম উল্যা সেলিম: ১০ বছরের ওয়ারেন্টি ও দেশব্যাপী বিস্তৃত যমুনার সার্ভিস সেন্টারগুলোয় ক্রেতারা সহজেই বিক্রয়োত্তর সেবা নিতে পারবেন। সারা দেশে গ্রাহকের কাছে সেরা মানের পণ্য পৌঁছে দিতে অতিসত্বর বাংলাদেশের প্রতিটি থানায় যমুনা প্লাজা স্থাপন করা হবে।

 

কালের কণ্ঠ : ফ্রিজ আরো সাশ্রয়ী করতে কোনো উদ্যোগ আছে কি?

সেলিম উল্যা সেলিম: বৈশ্বিক করোনার থাবা ও সাম্প্রতিক ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রেফ্রিজারেটর তৈরির কাঁচামাল, বিশেষ করে চিপ যন্ত্রাংশ সরবরাহে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও দেশের চাহিদা বিবেচনায় উৎপাদন প্রক্রিয়া সচল রয়েছে যমুনার। শুধু তা-ই নয়, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও পণ্যের অতিরিক্ত দাম না বাড়িয়ে ক্রেতাদের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

কালের কণ্ঠ : উদ্ভাবনে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন, নতুন কী আসছে?

সেলিম উল্যা সেলিম: রেফ্রিজারেটরের মধ্যে যমুনার আরেকটি সেগমেন্ট ফ্রিজার। কোনো ধরনের বিদ্যুৎ ছাড়াই যমুনার ফ্রিজার ১২০ ঘণ্টা খাবারের সুরক্ষার নিশ্চয়তা দিচ্ছে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক সবচেয়ে টেকসই ফ্রিজার হিসেবে যমুনার ফ্রিজার অতুলনীয়। যমুনা ভবিষ্যতে এই ফ্রিজার নিয়ে নিজেদের স্যাকলকের সঙ্গে তুলনা দেওয়ার চিন্তা করছে। স্যাকলকের একটি গ্লোবাল ব্র্যান্ড কিনতে খরচ পড়বে সোয়া লাখ টাকা। আর একই মান নিশ্চিত করে যমুনার ফ্রিজারের দাম ২১ হাজার টাকা থেকে শুরু। খুব অল্প সময়ে বাজারে এমন কথা প্রচলিত হয়ে গেছে যে একমাত্র যমুনাই ৯৯ শতাংশ গুণগত মানসম্পন্ন রেফ্রিজারেটর সরবরাহ করে। সহজ কিস্তি, শূন্য শতাংশ ইন্টারেস্টে ইএমআই সুবিধায় ক্রেতা সহজেই আমাদের পণ্যটি ক্রয় করতে পারেন।

 



সাতদিনের সেরা