kalerkantho

শনিবার । ২০ আগস্ট ২০২২ । ৫ ভাদ্র ১৪২৯ । ২১ মহররম ১৪৪৪

দেশি ব্র্যান্ডের আধিপত্যে বাড়ছে ফ্রিজের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশি ব্র্যান্ডের আধিপত্যে বাড়ছে ফ্রিজের বাজার

প্রতিনিয়ত দেশে বাড়ছে ফ্রিজের বাজার। বাহারি ডিজাইন আর বিভিন্ন আকারের ফ্রিজ এখন বাড়ির প্রয়োজনীয় পণ্যে পরিণত হয়েছে। দেশের ফ্রিজের বাজার নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। গত বছরের মার্চে প্রকাশিত মার্কেটিং ওয়াচ বাংলাদেশের (এমডাব্লিউবি) এক গবেষণায় বলা হয়, ২০১০ সাল পর্যন্ত দেশের ফ্রিজের বাজার বিদেশি ব্র্যান্ডগুলো নিয়ন্ত্রণ করত।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে ফ্রিজের বাজারের আকার প্রায় ৬৮ কোটি মার্কিন ডলারের। টাকার হিসাবে তা দাঁড়ায় প্রায় ছয় হাজার ৩০০ কোটি টাকায় (প্রতি ডলারের মূল্য ৯৩ টাকা)।

তবে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠানটি বলছে, ২০১৯ সালে দেশে প্রায় ৩২ লাখ ফ্রিজ বিক্রি হয়েছে। সেই হিসাবে ২০২২ সালে দেশে ফ্রিজের বাজার হতে পারে ৮৮ কোটি ডলার বা সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকার। ফ্রিজ উৎপাদন ও বাজারজাতের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা জানান, করোনার কারণে বিক্রি কিছুটা কমেছে। এর পরও গত বছর কমবেশি ৩০ লাখ ফ্রিজ বিক্রি হয়েছে। বছরে গড়ে ১৫ শতাংশ হারে প্রয়োজনীয় এই পণ্যটির বাজার বড় হচ্ছে।

এমডাব্লিউবির গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশে তিন ধরনের ফ্রিজ বিক্রি হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফ্রস্ট ফ্রিজের বাজার ৮৫ শতাংশের কাছাকাছি। নন ফ্রস্ট ৮.৩৩ এবং চেস্ট বা ডিপ ফ্রিজ ৬.৭ শতাংশের মতো বিক্রি হয়।

মিনিস্টার-মাইওয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক খান রাজ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে ফ্রিজের বাজার দেশি ব্র্যান্ডগুলোর দখলে। বর্তমানে দেশের ফ্রিজের বাজারের আকার প্রায় ৬০ কোটি ডলার, যা চলতি বছর বেড়ে ৭৫ কোটি ডলারেরও বেশি দাঁড়াতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা এখন আর বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরশীল না। কারণ আমাদের দেশেই এখন ইলেকট্রনিকস পণ্য উৎপাদন হয়ে থাকে। প্রযুক্তির বাজারে সমতা আনতে ভূমিকা রেখেছে দেশি পণ্য। বর্তমানে রেফ্রিজারেটরের ৯০ শতাংশেরও কাছাকাছি, টেলিভিশনের ৬০ শতাংশেরও বেশি এবং এয়ারকন্ডিশনারের ৪০ শতাংশের বেশি বাজারই দেশি কম্পানির দখলে। মিনিস্টার এই খাতে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে গেছে। ফলে দেশের বাজারে এসব পণ্যের দাম কমেছে, একই সঙ্গে অনেক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে।

দেশি ব্র্যান্ডের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে ওয়ালটন। ১৯৯৯ সালে চীন থেকে আমদানি করা টেলিভিশন বিক্রির মাধ্যমে ওয়ালটন ইলেকট্রনিকসের যাত্রা শুরু। ২০০৫ সালের শেষ দিকে তারা গাজীপুরের কালিয়াকৈরে নিজস্ব জমিতে কারখানা গড়ে তোলে। সেই কারখানায় বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয় ২০০৮ সালে, ফ্রিজ দিয়ে। ওয়ালটনের বার্ষিক উৎপাদনসক্ষমতা ৪২ লাখ ইউনিট ফ্রিজ। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি ফ্রিজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কম্প্রেসর উৎপাদন শুরু করে।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মুর্শেদ জানান, গত বছর তারা ২৩ লাখ ৮৫ হাজার ফ্রিজ বিক্রি করেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ওয়ালটনের কারখানায় তৈরি ফ্রিজ রপ্তানিও হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ফ্রিজ রপ্তানিতে ৬৫৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ফ্রিজের বাজারে দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম যমুনা ইলেকট্রনিকস। ২০১৪ সাল থেকে যমুনা ব্র্যান্ড নামে ফ্রিজ বিক্রি করছে প্রতিষ্ঠানটি। জানতে চাইলে যমুনা ইলেকট্রনিকসের পরিচালক (বিপণন) সেলিম উল্লাহ বলেন, ‘বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর বেচাকেনা বড় শহরকেন্দ্রিক। আর দেশি ব্র্যান্ডগুলো শহরের পাশাপাশি গ্রামগঞ্জে পৌঁছে গেছে। ঈদ সামনে রেখে চলতি মাসে ৬০ হাজার ফ্রিজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে আমাদের। ’

বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড স্যামসাং প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দেশে ফ্রিজ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করছে ফেয়ার ইলেকট্রনিকস। বাজারজাতের সঙ্গে আরো যুক্ত আছে ট্রান্সকম, বাটারফ্লাই, র্যাংগস ও ইলেকট্রা ইন্টারন্যাশনাল। গত বছর স্যামসাং ৬৫ হাজার ফ্রিজ বিক্রি করেছে। তার আগের বছর তাদের বিক্রি ছিল ৩৫ হাজার।

স্যামসাং বাংলাদেশের প্রডাক্ট ম্যানেজার রেজাউল বলেন, ‘আমরা বছরে যে পরিমাণ ফ্রিজ বিক্রি করি, তার ৯০ শতাংশ দেশে উৎপাদিত। দেশে উৎপাদন করলেও স্যামসাংয়ের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা হয়। ’ তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সেটিকে মাথায় রেখেই ব্যাবসায়িক পরিকল্পনা করছি। চলতি বছর এক লাখ ২৫ হাজার ফ্রিজ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে আমাদের। ’

 



সাতদিনের সেরা