kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ জুলাই ২০২২ । ২১ আষাঢ় ১৪২৯ । ৫ জিলহজ ১৪৪৩

নীতি সহায়তা পেলে গাড়ির দাম আরো কমবে

দেশে নতুন গাড়ি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম নাভানা গ্রুপের আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেড। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কম্পানির পরিকল্পনা তুলে ধরেন নাভানা গ্রুপের সিইও ওয়াহেদ আজিজুর রহমান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সজীব আহমেদ

২৩ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নীতি সহায়তা পেলে গাড়ির দাম আরো কমবে

কালের কণ্ঠ : আপনাদের শুরুটা কিভাবে, বর্তমান বাজারে অবস্থান কী?

ওয়াহেদ আজিজুর রহমান : নাভানা গ্রুপের পথচলা শুরু ১৯৫৩ সালে। বর্তমানে নাভানার চলমান ১৮টি কম্পানি রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেড। আফতাব অটোমোবাইলস বাংলাদেশে হিনো বাস, ট্রাক বিক্রি করে এবং সংযোজন করে।

বিজ্ঞাপন

১৯৬৩ সাল থেকে বাংলাদেশে টয়োটা গাড়ি বাজারজাত করছে নাভানা লিমিটেড।

 

কালের কণ্ঠ : দেশে নতুন গাড়ির চাহিদা কেমন?

ওয়াহেদ আজিজুর রহমান : বেসরকারি পর্যায়ে ও সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে এবং সামরিক বাহিনীতে নতুন গাড়ি সরবরাহ করে থাকি আমরা। সম্প্রতি টয়োটার তিনটি নতুন মডেলের গাড়ি এনেছি। মডেল তিনটি হচ্ছে টয়োটা রেইজ, থার্ড জেনারেশনের টয়োটা আভানজা। টয়োটা ভেলোজ। আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই পদ্মা সেতু চালু হচ্ছে, এর ফলে বাস গাড়ির চাহিদা তৈরি হবে। হিনো বাস বাংলাদেশের খুবই পরিচিত ও নির্ভরযোগ্য বাস, যার বিশ্বজুড়ে খ্যাতি আছে। বাসের ক্ষেত্রেও ভালো প্রবৃদ্ধি দেখতে পাচ্ছি।

দেশে নতুন গাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে বছরে ৭-১০ শতাংশ করে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। বাংলাদেশে গাড়ির বড় মার্কেটে এখনো রিকন্ডিশন্ড গাড়ি। দেশের বাজারে বছরে গাড়ি বিক্রির ১০ শতাংশের বেশি হয় নতুন গাড়ি। আমরা বছরে ১ হাজার থেকে ১৫০০ গাড়ির বেশি বিক্রি করতে পারি। মূলত বাংলাদেশে নতুন গাড়ির মার্কেট খুবই ছোট। নতুন একটি গাড়ি বিক্রি হলে ৯টি রিকন্ডিশন্ড গাড়ি বিক্রি হয়। দেশের বাজারে যেসব কম্পানি নতুন গাড়ি বিক্রি করছে, তাদের মধ্যে আমরাই শীর্ষে। ইয়াং জেনারেশনের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে টার্বো ইঞ্জিন, পারিবারিক গাড়ি, প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য ১২ ও ১৬ সিটের মাইক্রোবাসসহ আমরা টয়োটা ব্র্যান্ডের সব ধরনের গাড়ি বিক্রি করে থাকি।

 

কালের কণ্ঠ : দেশে হাইব্রিড গাড়ির সম্ভাবনা কেমন?

ওয়াহেদ আজিজুর রহমান : আমরা বাংলাদেশের মার্কেটে প্রথম হাইব্রিড গাড়ি এনেছি। বর্তমানে হাইব্রিড গাড়ির ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের টয়োটা ক্রস গাড়ির ব্যাপক চাহিদা দেখতে পাচ্ছি। হাইব্রিড গাড়ি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। এই দুটি কারণে মানুষ হাইব্রিড গাড়ির দিকে ঝুঁকছে।

 

কালের কণ্ঠ : বৈদ্যুতিক গাড়ি বাজারে আনার ব্যাপারে আপনাদের উদ্যোগ কী?

ওয়াহেদ আজিজুর রহমান : বিশ্বের প্রায় সব গাড়ি ম্যানুফ্যাকচাররা এখন বৈদ্যুতিক গাড়ির দিকে যাবে। টয়োটাও সেই দিকে যাবে। তবে বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য কিছু অবকাঠামোর বিষয় রয়েছে। কারণ বিভিন্ন জায়গায় গাড়ির চার্জিংয়ের জন্য স্টেশন বসাতে হবে। বৈদ্যুতিক গাড়ি আমরা অবকাঠামোর জন্য আনতে পারছি না। তবে ঢাকায় বৈদ্যুতিক গাড়ি চালু করা গেলে অবশ্যই সাশ্রয়ী হবে এবং পরিবেশের জন্যও ভালো হবে।

 

কালের কণ্ঠ : যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে গাড়িশিল্প কতটা লাভবান?

ওয়াহেদ আজিজুর রহমান : এখন যেসব মহাসড়ক হবে এর সবই ছয় লেনের হবে। যেগুলো চার লেন আছে, সেগুলোকেও ছয় লেন করা হচ্ছে। এগুলো খুবই ইতিবাচক। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি অবশ্যই প্রথম একটা ফ্যাক্টর।

 

কালের কণ্ঠ : এবারের বাজেটে গাড়িশিল্পের জন্য কতটা সহায়ক হবে?

ওয়াহেদ আজিজুর রহমান : এবার বাজেটে নতুন করে কিছু সিসির ওপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। তবে নতুন গাড়ির জন্য এবারের বাজেটে তেমন কোনো সুবিধা দেওয়া হয়নি। আগের মতোই আছে।

 

কালের কণ্ঠ : আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

ওয়াহেদ আজিজুর রহমান : আমরা প্রতিটি বিভাগীয় শহরে সার্ভিস স্টেশন বাড়াতে চাই, যাতে আমাদের গাড়ি ব্যবহারকারীরা ভালো সার্ভিস পান। গাড়ির শোরুমও বাড়ানোর চিন্তা আছে। আমরা ১০ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। এরই মধ্যে আমরা হিনো বাস দেশে অ্যাসেম্বল করছি। সামনে ট্রাক অ্যাসেম্বল করারও চিন্তা-ভাবনা করছি। আমরা স্পেসিফিকেশন মেইনটেন করেই গাড়িগুলোর বডি তৈরি করি। টয়োটা ও হিনো—এই দুটি ব্র্যান্ডকে বাংলাদেশে আরো বেশি এস্টাবলিশ করতে চাই।



সাতদিনের সেরা