kalerkantho

শুক্রবার । ১ জুলাই ২০২২ । ১৭ আষাঢ় ১৪২৯ । ১ জিলহজ ১৪৪৩

‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্বপ্ন নিয়ে এগোচ্ছে পিএইচপি

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২৩ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্বপ্ন নিয়ে এগোচ্ছে পিএইচপি

পিএইচপির কারখানায় গাড়ি সংযোজন করছেন পিএইচপি অটোমোবাইলসের কর্মীরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

দেশে গাড়ি সংযোজন করে ধাপে ধাপে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ কারখানা তৈরির লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছিল পিএইচপি অটোমোবাইলস। গাড়িতে লেখা থাকবে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ আর ব্র্যান্ড নিউ সেই গাড়ি দেশজুড়ে দুরন্ত গতিতে ছুটবে—এমনই স্বপ্ন চট্টগ্রামভিত্তিক শিল্প গ্রুপ পিএইচপি ফ্যামিলির। যাত্রা শুরুর পর গত পাঁচ বছরে ছয়টি মডেলের গাড়ি সংযোজন করে নিজেদের বিক্রির বহরে যুক্ত করেছে; সময়টা কম হলেও এই পাঁচ বছরে নানা প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে আজকের অবস্থানে পৌঁছতে পেরেছে দেশের অন্যতম গাড়ি সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান পিএইচপি। এ কারণে টয়োটা ব্র্যান্ডের ‘প্রিমিও’, ‘এলিয়নের’ মতো মডেলকে টেক্কা দিয়ে বেশ দাপটের সঙ্গেই এগোচ্ছে মালয়েশিয়ার ‘প্রোটন সাগা’।

বিজ্ঞাপন

তাদের সর্বোচ্চ বিক্রীত ও জনপ্রিয় গাড়িও সেটি। অথচ কয়েক বছর আগেও যেখানে টয়োটা ব্র্যান্ড ছাড়া অন্য কোনো গাড়ি কেনার জন্য বিবেচনায় নিত না গ্রাহকরা। এখন সেখানে ধীরে ধীরে ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি ক্রেতাকে দারুণভাবে আকর্ষণ করছে। আর এতেই এখন বেশ ভালো করছে এই প্রোটন ব্র্যান্ডের গাড়িগুলো।

কী কারণে প্রোটন ব্র্যান্ডের গাড়ি একজন গ্রাহক বেছে নিচ্ছে, জানতে চাইলে পিএইচপি অটোমোবাইলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ আকতার পারভেজ কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রোটন গাড়ি একটি ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি। ব্র্যান্ড নিউ গাড়ির ফিলিংস সম্পূর্ণ অন্য রকম। ধরুন, আমরা প্রোটন সাগা গাড়ি দিচ্ছি ১৮ লাখ টাকায় (ডলারের বিনিময়মূল্য বাড়ার পরও), যা একই মডেলের রিকন্ডিশন্ড বা পুরনো গাড়ির চেয়ে কম।

দ্বিতীয় কারণটি হচ্ছে, আমরা প্রোটন ব্র্যান্ডের প্রতিটি গাড়ির পাঁচ বছরের বিক্রয়সেবা বা ওয়ারেন্টি দিচ্ছি। আকতার পারভেজ বলেন, “নিজেদের গাড়ি বিক্রি ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে ১২৭ শতাংশ বাড়ে। এটাতে আমরা অনেক খুশি। দেশের মানুষ এখন ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি কেনার দিকে ঝুঁকছে। এটাই আমাদের বড় প্রাপ্তি। এটার সঙ্গে যোগ হয়েছে এবার বাজেটে সরকারের একটি ইতিবাচক প্রজ্ঞাপন। দেশের গাড়ি নির্মাণ শিল্প এবং এই খাতে বিনিয়োগকে উত্সাহিত করতে এই প্রজ্ঞাপন বেশ কাজে দেবে। একই সঙ্গে অন্তত চার-পাঁচটি বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। যেটা ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা গাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হবে। ”

২০১৭ সালে ‘প্রোটন সাগা’ দিয়েই যাত্রা শুরু করে পিএইচপি অটোমোবাইলস। বর্তমানে ২৬টি যন্ত্রাংশ নিজেদের কারখানায় তৈরি করছে পিএইচপি।

আকতার পারভেজ বলেন, ‘ধাপে ধাপে যদি আমরা এসব যন্ত্রাংশ তৈরি করতে পারি তাহলে প্রতিটি যন্ত্রাংশের জন্যই একেকটি কারখানা গড়ে উঠবে। নিজেদের গাড়ি তৈরির সক্ষমতা বাড়বে, কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে। গাড়ি অর্থনীতিতে নতুন এক মাত্রা যোগ করবে। ’

পিএইচপি জানায়, গাড়ি সংযোজন থেকে উত্পাদন পর্যন্ত যেতে পাঁচটি ধাপ রয়েছে। তারা গাড়ি সংযোজনের দ্বিতীয় পর্যায় পার করে এখন তৃতীয় পর্যায়ে আছে। গাড়ির যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম বেশির ভাগ দেশে উত্পাদিত হলে তৃতীয় পর্যায় শেষ হবে। গাড়ির পুরো বডি ও চেসিস (কাঠামো) তৈরি হলে চতুর্থ এবং ইঞ্জিন তৈরি করা সম্ভব হলে পুরোপুরি উত্পাদকের তালিকায় নাম লেখানো সম্ভব হবে। তখনই ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা গাড়ি দেশের সড়কে চলবে। যদিও এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে অনেক চ্যালেঞ্জ আছে।

আকতার পারভেজ বলেন, ‘আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি। এ জন্য আমাদের গাড়ির ইন্ডাস্ট্রি কত বড়, সেটিও একটা স্টাডির বিষয়। এর পরও আমরা যাচাই করে দেখছি যে সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে কত দূর যেতে হবে। ’

বাজারে এসেছে প্রোটনের টকিং কার : পিএইচপি অটোমোবাইলস বাংলাদেশে এখন ছয় মডেলের ব্র্যান্ড নিউ গাড়ি বিক্রি করছে। এর মধ্যে সেডান কার, প্রোটন সাগা, প্রোটন সাগা এমসি, প্রোটন পারসোনা এমসি, প্রোটন প্রেভি, প্রোটন এক্স-৩০, প্রোটন এক্স-৫০ ও প্রোটন এক্স-৭০ টকিং কার। ২০২২ সালের মার্চে প্রোটন এক্স-৭০ গাড়িটি বাজারজাত শুরু করে পিএইচপি অটোমোবাইলস। স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল (এসইউভি) শ্রেণির এই গাড়ি ১৪৯৮ সিলিন্ডার ক্যাপাসিটির।

 

 



সাতদিনের সেরা