kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ জুলাই ২০২২ । ২১ আষাঢ় ১৪২৯ । ৫ জিলহজ ১৪৪৩

বাণিজ্যিক গাড়িতে শীর্ষে থাকাই লক্ষ্য

২০১৯ সাল থেকে ফোটন বাণিজ্যিক গাড়ির ব্যবসা শুরু করে এসিআই মোটরস। ইতিমধ্যে গাড়িগুলো গ্রাহকদের মধ্যে যথেষ্ট চাহিদা তৈরি করেছে। সম্প্রতি কালের কণ্ঠকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন এসিআই মোটরস লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর সুব্রত রঞ্জন দাস

২৩ জুন, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাণিজ্যিক গাড়িতে শীর্ষে থাকাই লক্ষ্য

কালের কণ্ঠ : আপনাদের শুরুটা কিভাবে?

সুব্রত রঞ্জন দাস : এসিআই মোটরস ২০১৯ সাল থেকে ফোটন বাণিজ্যিক গাড়ির ব্যবসা শুরু করে। আমরা প্রধানত ১ থেকে ৩.৫ টনের বাণিজ্যিক গাড়ি বাজারজাত করে থাকি। এ ছাড়া ফোটনের অন্যান্য বাণিজ্যিক গাড়ি রয়েছে। অধিক ভার বহনের জন্য বড় কার্গো বডি, জ্বালানিসাশ্রয়ী আধুনিক ইঞ্জিন এবং দেশজুড়ে বিস্তৃত সার্ভিস নেটওয়ার্কের কারণে ফোটনের বাণিজ্যিক গাড়ির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

 

কালের কণ্ঠ : দেশে গাড়ির চাহিদা কেমন?

সুব্রত রঞ্জন দাস : হালকা যানবাহন শ্রেণিতে প্রতিবছর প্রায় আট হাজার যানবাহন বিক্রি হয়। গ্রাহকের পছন্দের দিক থেকে প্রথম পাঁচটি বাণিজ্যিক গাড়ির ব্র্যান্ডের মধ্যে ফোটন অন্যতম।

 

কালের কণ্ঠ : নতুন কী আসছে?

সুব্রত রঞ্জন দাস : ফোটনের সর্বাধিক বিক্রীত ও জনপ্রিয় মডেল হচ্ছে ফোটন ১ টন টিএম। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা ১.২ টন টিএম প্লাস মডেল আনতে যাচ্ছি। এর পাশাপাশি নতুনভাবে আনতে যাচ্ছি অ্যাম্বুল্যান্স ও মিনিবাস।

 

কালের কণ্ঠ : মধ্যবিত্তের জন্য সাশ্রয়ী গাড়ি আনার কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

সুব্রত রঞ্জন দাস : বর্তমানে মধ্যবিত্ত শ্রেণির উদ্যোক্তারাই ফোটন বাণিজ্যিক গাড়ির প্রধান গ্রাহক। ভবিষ্যতে আমরা মধ্যবিত্ত শ্রেণির কথা মাথায় রেখেই আমাদের বাণিজ্যিক গাড়ি বাজারজাত করব।

 

কালের কণ্ঠ : বৈদ্যুতিক গাড়ি বাজারে আনার ব্যাপারে আপনাদের উদ্যোগ কী?

সুব্রত রঞ্জন দাস :  বিশ্বব্যাপী বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রযুক্তি ও ব্যবসার যে উন্নতি হচ্ছে সে ব্যাপারে আমরা দৃষ্টি রাখছি এবং বিভিন্ন বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ রাখছি।  

 

কালের কণ্ঠ : যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে গাড়িশিল্প কতটা লাভবান?

সুব্রত রঞ্জন দাস : উন্নয়নের কারণে গ্রাম থেকে শহরে এবং শহর থেকে গ্রামে পণ্যের পরিবহন বেড়েছে, যার ফলে অনুন্নত গ্রামীণ যানবাহনগুলো আধুনিক যানবাহনের মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়ার কারণে ক্রয়ক্ষমতা এবং বাণিজ্যিক গাড়ির চাহিদা বাড়ছে। এখন আমাদের প্রয়োজন দক্ষ চালক, যুগোপযোগী ট্রাফিক নিয়ম এবং গুণগত মানসম্পন্ন জ্বালানি তেলের নিশ্চয়তা।

 

কালের কণ্ঠ : স্থানীয়ভাবে গাড়ি উৎপাদনে সম্ভাবনা কতটুকু?

সুব্রত রঞ্জন দাস : গাড়ি উৎপাদন করে বিক্রির জন্য যথেষ্ট বড় বাজার বর্তমানে বাংলাদেশে নেই। আমাদের যথেষ্ট ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজেরও অভাব রয়েছে। যেহেতু আমরা বর্তমানে বাংলাদেশে মোটরসাইকেল উৎপাদন করে থাকি, বাণিজ্যিক গাড়ির যথেষ্ট বাজার তৈরি হলে আমরা উৎপাদন অথবা সংযোজনে যেতে পারি। এ ছাড়া চীনসহ বিভিন্ন উন্নত দেশ তাদের ব্যাবসায়িক সুবিধার জন্য বিভিন্ন দেশে তাদের কারখানা স্থানান্তর করছে, এ ধরনের সুযোগ থাকলে দেশে গাড়ি উৎপাদন করা সম্ভব।

 

কালের কণ্ঠ : আপনাদের বিক্রয়োত্তর সেবার পরিধি কেমন?

সুব্রত রঞ্জন দাস : আমরা আমাদের থ্রি এসএর ডিলার এবং অথরাইজড সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে গুণগত মানসম্পন্ন জেনুইন স্পেয়ার পার্টস সরবরাহ এবং বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করে থাকি। দেশজুড়ে আমাদের এ ধরনের ৪৫টি সার্ভিস পয়েন্ট রয়েছে। এ ছাড়া আমাদের নিজস্ব সার্ভিস টিম রয়েছে, যারা সার্বক্ষণিক সার্ভিসের নিশ্চয়তা দিয়ে থাকে।

 

কালের কণ্ঠ : আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

সুব্রত রঞ্জন দাস : আমরা করোনা মহামারির কিছুদিন আগেই ব্যবসা শুরু করেছি, কিন্তু এরই মধ্যে আমাদের বাণিজ্যিক গাড়িগুলো গ্রাহকদের মধ্যে যথেষ্ট চাহিদা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে আমরা উন্নত প্রযুক্তি এবং নতুন নতুন মডেলের মাধ্যমে বাণিজ্যিক গাড়িতে গ্রাহকদের পছন্দের শীর্ষে থাকতে চাই।

 

 



সাতদিনের সেরা