kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

‘বেঁচে থাকলে শেখ রাসেল হতো এক জনদরদি নেতা’

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘বেঁচে থাকলে শেখ রাসেল হতো এক জনদরদি নেতা’

শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি : কালের কণ্ঠ

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেছেন, ‘শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে আজ একজন সৎ, নিষ্ঠাবান, জনদরদি এবং মানবিক ব্যক্তি হিসেবে পরিণত হতেন। কারণ রাসেল তো বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গমাতারই সন্তান। তাঁদের লালন-পালনে বেড়ে উঠলে সেরূপ হওয়াটাই স্বাভাবিক। শেখ রাসেল আজ আবর্তিত হয়েছেন সব শিশুর ওপর নির্যাতন এবং নিষ্ঠুরতার প্রতীকী প্রতিবাদ হিসেবে। শুধু একজন নয়, রাসেল পৃথিবীর হাজার হাজার শিশুর প্রতীক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন।’

গতকাল সকালে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত ‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আশ্রয়ণ কর্মসূচির গৃহদান ও আলোচনাসভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

শেখ রাসেলের স্মৃতিচারণা করে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, ‘রাসেল সব সময় খেলাধুলা পছন্দ করত, নিজেও খেলতে পছন্দ করত; যার কারণে অনেক সময়ে আমাদের জোর করে বাসা থেকে নিয়ে যেত খেলা দেখতে। বিশেষ করে শেখ কামালের নেতৃত্বে আবাহনীর যে খেলা হতো, এটার জন্য অনেকবার আমাদের ওর সঙ্গে যেতে হয়েছে। তার মধ্যে একটা সাহসী মনোভাব ছিল এবং খুব ট্যালেন্ট ছিল। অল্প সময়ের মধ্যে সে অনেক কিছু ধরতে পারত। রাসেল বেঁচে থাকলে অবশ্যই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে আসত এবং তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আরো ভালো হতো। বঙ্গবন্ধুর যে আদর্শ সেটা শেখ হাসিনার পাশাপাশি তারাও সেই দায়িত্ব পালন করত।’

অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে তিনি আপনাদের মতো একজন দৃপ্ত যুবক হতে পারতেন। তিনি আমাদের একজন নেতা হতে পারতেন। উন্নয়নের একজন অগ্রপথিক হতে পারতেন। আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের যে উন্নয়নের মহাসড়কে নিয়ে চলছেন, সেখানে তিনি আমাদের নেতৃত্ব দিতে পারতেন।’

শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, ‘আমি দুইভাবে শেখ রাসেলকে উপলব্ধি করার চেষ্টা করি। প্রথমত, একটি অনুভূতি হিসেবে, দ্বিতীয়ত একটি প্রতীক হিসেবে। অনুভূতি হিসেবে যখন শেখ রাসেলকে ব্যাখ্যা করি, তখন একটি চাপা ব্যথা অনুভূত হয়, রাগ ও ঘৃণাও অনুভূত হয়। রাসেলের জন্য যেকোনো মানবিক মানুষের মায়া হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। সেই মায়া থেকেই আসে এক ধরনের চাপা ব্যথা ও ক্ষোভ। সেই মায়া থেকেই জন্ম নেয় খুনিদের জন্য ঘৃণা।’

সম্মানিত অতিথি ও বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, ‘রাসেল একটি পথ দেখিয়ে গেছে তরুণ প্রজন্মের কাছে, সেই পথটি যদি আমরা খুঁজে নিতে পারি, তবে রাসেলের জন্ম সার্থক হবে। আমাদের চারপাশে বহু সুবিধাবঞ্চিত শিশু রয়েছে, আমরা কেন তাদের রাসেলের প্রতিবিম্ব হিসেবে দেখি না? কেন ভাবি না যে এরাই রাসেল, এদের একটা সুন্দর জীবন দেব, এরা যেন আদর্শের পথে চালিত হয়।’

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান বলেন, ‘আমার চোখে সব সময়ই শেখ রাসেলের মুখ ভাসে। কী অপরাধ করেছিল শিশুটি, কী অন্যায় ছিল তার? আজ শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে এই মঞ্চে বসলে তাকে বাঘের মতো দেখা যেত। বাঘের সন্তান তো বাঘই হবে।’

শেখ রাসেলের চোখেমুখে একটা ভবিষ্যৎ দেখা যেত, একদিন সে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে বাংলার মানুষের পাশে দাঁড়াবে—বলেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল। তিনি আরো বলেন, ‘শেখ রাসেল একটি অনুভূতির নাম, একটি আদর্শের নাম, সবার প্রিয় একটি নাম। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে বাংলাদেশ এগিয়ে চলছে, সেই বাংলাদেশ নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করবে, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে, আজকে শেখ রাসেলের জন্মদিনে এটাই হলো যুবলীগের শপথ।’



সাতদিনের সেরা