kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

করোনায় শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র

খেলার মাঠ ছাড়িয়ে মানুষের পাশে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খেলার মাঠ ছাড়িয়ে মানুষের পাশে

কোটালীপাড়ায় শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের ত্রাণ বিতরণ।

যেখানে মানবতার ডাক, সেখানেই হাজির হয়েছে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেড। চাল, ডাল, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তার প্যাকেট নিয়ে দাঁড়িয়েছে অসহায়ের পাশে। করোনাভাইরাস মহামারিতে বেকারত্বের ছোবলে জর্জরিত কিংবা অসচ্ছল মানবেতর দিনযাপনে কাতর পরিবারের কাছে হাজির হয়েছে বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের নামে গড়া ক্লাবটি।

দুর্যোগ-দুর্বিপাকে দেশের নানা প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেড। বাড়িয়ে দিয়েছে মানবিকতার হাত। বিশেষ করে মহামারির সময়ে লকডাউনে বেকার হয়ে পড়া কয়েক হাজার পরিবারে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে ক্লাবটি। দুস্থদের ঘিরে কোরবানির ঈদেও ছিল ব্যতিক্রমী আয়োজন। মানবিক তৎপরতার কারণে খেলাধুলার মাঠ ছাপিয়ে ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের মনেও জায়গা করে নিচ্ছে ক্রীড়াঙ্গনে সাফল্যের ছাপ রাখা ক্লাবটি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেই শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডকে তুলে দেন দেশের বৃহত্তর শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের হাতে। টানা দুই মেয়াদে তিনি ক্লাবের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আনভীরের কাঁধে দায়িত্ব আসার পরই শুরু হয় নতুন যুগ। তাঁর নির্দেশনায় খেলাধুলার নানা অঙ্গনে বিচরণের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও ক্লাবটির উপস্থিতি দেখা যায়। অসহায় মানুষের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলে ক্লাবটি।

গত আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে গোপালগঞ্জে পা রাখেন ক্লাবের কর্মকর্তারা। ৮ আগস্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কোটালীপাড়া ও টুঙ্গিপাড়ায় অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে চলে খাদ্য বিতরণের মহাযজ্ঞ। আট হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয় সেখানে। দুই হাজার শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় শিক্ষাসামগ্রী। মধুমতীর তীরে ওই সময় বইছিল খুশির বান। ক্লাবটি সেখানে এমন একটি সময়ে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী নিয়ে হাজির হয়, যখন কভিড-১৯ মহামারির ধকলে অসহায় হয়ে পড়েছিল বহু মানুষ।

গোপালগঞ্জের ওই আয়োজনে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেড ব্যাপক প্রশংসিত হয়। খাদ্য সহায়তা পেয়ে তাঁর জন্য দুই হাত তুলে পরম করুণাময়ের কাছে প্রার্থনা করেছিল দুস্থ মানুষ। কেউ কেউ আবেগাপ্লুত হয়ে এমনও মন্তব্য করেছিল—মরার সময় মুখে পানি পেলে মানুষের যেমন লাগে, ঠিক তেমনই লাগছে।

ওই আয়োজন বাস্তবায়নে এগিয়ে এসেছিলেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা। কোটালীপাড়া পৌরসভার মেয়র হাজি মো. কামাল হোসেন শেখ বলেছিলেন, ‘শেখ রাসেলের স্মৃতি ধরে রাখতে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র যে দায়িত্ব নিয়েছে, তা কোটালীপাড়ার মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। তারা যেন শিক্ষার প্রসারে বারবার উদ্যোগ গ্রহণ করে। কোটালীপাড়ার অজপাড়াগাঁয়ের মানুষের জন্য এই ক্রীড়া চক্রের মানবিক যুদ্ধ আমাদের খুবই অনুপ্রাণিত করেছে। শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা পছন্দ করেন। নেত্রী যাঁকে পছন্দ করেন, আমরাও তাঁকে ইজ্জত করি।’

 

গোপালগঞ্জের পর এই ক্লাবের উদ্যোগে আরেকটি বড় মানবিক সহায়তার আয়োজন হয় মানিকগঞ্জে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শোকের মাসের শেষ দিকে এ জেলার দুস্থ ও অসহায় মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয় খাদ্য সহায়তা। তিন দিনের বিশাল তৎপরতায় মানিকগঞ্জের অন্তত ছয় হাজার পরিবারকে সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আনা হয়। সেখানেও ত্রাণসামগ্রী পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলে অসহায় ও দুস্থ অনেক মানুষ।

এর আগে গত কোরবানির ঈদে বঙ্গবন্ধু পরিবারের নামে কোরবানি দেন শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের চেয়ারম্যান। গরিব ও দুস্থ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয় ওই কোরবানির মাংস। কোরবানির মাংস পেয়ে ভীষণ তৃপ্ত ও উচ্ছ্বসিত হতে দেখা যায় অসহায় ব্যক্তিদের।



সাতদিনের সেরা