kalerkantho

সোমবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ২৯ নভেম্বর ২০২১। ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৩

শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র

রঙিন হোক ক্রিকেটেও

সনৎ বাবলা

১৮ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নির্বাচনের পর শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র নতুন পরিকল্পনা নিয়ে হাজির হচ্ছে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে। ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেট দলও গড়বে। সঙ্গে থাকবে বিপুল সামাজিক কর্মকাণ্ড। সব কিছুর সমন্বয়ে নতুন পর্ষদ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলের নামে গড়া ক্লাবটিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে।

গত ২৯ মে নির্বাচনে শেখ রাসেল ক্রীড় চক্র লিমিটেডের দায়িত্ব নিয়েছে নতুন পরিচালনা পর্ষদ। ৩০ পরিচালকের ভোটে ক্লাবের চেয়ারম্যান মনোনীত হয়েছেন সায়েম সোবহান আনভীর। কারণ বসুন্ধরা গ্রুপের এই ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অধীনে আগের সময়টা খুব ভালো কেটেছে ক্লাবের। ক্লাবের অর্থাভাব ও টানাটানির সংসার ভুলিয়ে তিনি ঝকঝকে নতুন চেহারা দিয়েছেন শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে। দেশের অনেক ঐতিহ্যবাহী ক্লাব যখন অর্থাভাবে দল গড়তে পারে না, বেতন না পেয়ে ফুটবলাররা প্রায়ই বিদ্রোহ করেন, তখন শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র ফুটবল দল গড়ে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে। নিয়ে আসে ভালোমানের দেশি-বিদেশি ফুটবলার। ক্লাবের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এনায়েত হোসেন মারুফ বলেন, “গত পাঁচ বছরে শেখ রাসেলের পেছনে ৭০ কোটি টাকা ব্যয় করেছেন ক্লাবের চেয়ারম্যান। তিনি ফুটবল খুব ভালোবাসেন, তাই ফুটবল দলের পেছনে সবচেয়ে বেশি খরচ করেছেন। তবে তাঁর নির্দেশনায় ২০১৬ সালে বাচ্চাদের জন্য একটা টেবিল টেনিস টুর্নামেন্ট করেছিলাম আমরা। স্লোগান ছিল, ‘সকল শিশুর জন্য খেলাধুলা’। এবারও চেয়ারম্যানের বার্তা হলো, শেখ রাসেল ক্লাবকে একটা আধুনিক ক্লাবে রূপ দেওয়া এবং শিশু-কিশোরদের খেলার মাঠে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা।”

বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে অর্থাভাব প্রকট, তাই সামনে এগোতে গেলেই পদে পদে হোঁচট খায়। বসুন্ধরা গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতায় শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের সেই সমস্যা নেই। একসময় নির্দিষ্ট ঠিকানা না থাকা ক্লাবটির এখন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ক্লাব টেন্ট আছে। আছে নির্দিষ্ট ট্রেনিং মাঠ এবং অন্য সুযোগ-সুবিধা। এখন মোহামেডানের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবেরও নিজস্ব মাঠ নেই। ঢাকার এখানে-ওখানে তাদের ফুটবল অনুশীলন করতে হয়। তাদের সঙ্গে তুলনা করলে শেখ রাসেলের ফুটবলাররা অনেক সৌভাগ্যবান। সে রকম এক ভাগ্যবান শেখ রাসেল ও জাতীয় দলের গোলরক্ষক আশরাফুল রানার উপলব্ধি, ‘বসুন্ধরা গ্রুপের পৃষ্ঠপোষকতা থাকায় আমাদের ফুটবল ক্যাম্পে কোনো ছেদ পড়ে না। কোনো ফুটবলারের টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয় না। ক্লাব আমাদের এত দেয়, ঠিক সেভাবে মাঠে পারফর্ম করে আমাদেরও প্রতিদান দেওয়া উচিত।’

এই প্রতিদান খুব দরকার। ২০১২-১৩ মৌসুমের মতো আরেকটি ‘ট্রেবল’ জয়ের মৌসুম প্রত্যাশা করেন শেখ রাসেল চেয়ারম্যান। ক্লাবের নির্বাচনের দিনও এই ক্রীড়া সংগঠক দেশের ফুটবল উন্নয়নের আকুতি জানিয়েছেন, ‘বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে বড় এবং আকর্ষণীয় খেলা ফুটবল। কিন্তু আমাদের দেশে কেন জানি খেলাটা

অবহেলিত, অথচ এই খেলা দিয়ে কত ছোট দেশ বড় পরিচিতি পেয়েছে। আমাদেরও এই সুযোগ আছে। বসুন্ধরা গ্রুপ স্পোর্টস কমপ্লেক্স গড়েছে, এই একাডেমি থেকে সামনে অনেক ভালো ফুটবলার বের হবে আশা করি। অন্য বাণিজ্যিক গ্রুপগুলোও এভাবে এগিয়ে এলে দেশের খেলাধুলার উন্নয়ন না হয়ে পারে না।’

আধুনিক ফুটবলে টাকা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়। ভালোমানের ফুটবলার আনতে এবং তাঁদের জন্য সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে গেলে টাকা ঢালতে হয়। এর বিনিময়ে কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্স ভালো হবে কি না তার গ্যারান্টি নেই। এর পরও বসুন্ধরা গ্রুপ দেশের ফুটবলের শীর্ষ লিগের তিনটি দলকে সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা করে। এর দুটিই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুই ছেলের নামে গড়া। শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র ও শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব। বাকিটি বসুন্ধরা কিংস। এতে ঘরোয়া ফুটবল হয়েছে জমজমাট এবং ড্যানিয়েল কলিনদ্রেস ও রোবিনহোর মতো বিদেশিদের কল্যাণে ফুটবলের সামগ্রিক মানও বেড়েছে।

শেখ রাসেলের নামে গড়া এই সংগঠনকে ফুটবলের পাশাপাশি ক্রিকেটেও এগিয়ে আনা হচ্ছে। ভালো দল গড়েই ক্রিকেটে নামবে শেখ রাসেল। ফুটবল-ক্রিকেটের সাফল্যে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের আগামী দিনগুলোও দারুণ রঙিন হোক।

লেখক : সাংবাদিক



সাতদিনের সেরা