kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

সুপারব্র্যান্ডের স্বীকৃতি পেল ৪০ প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সুপারব্র্যান্ডের স্বীকৃতি পেল ৪০ প্রতিষ্ঠান

লন্ডনভিত্তিক বহুজাতিক সংস্থা সুপারব্র্যান্ডস ২০২০ ও ২০২১ সালের জন্য দেশের ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে সুপারব্র্যান্ডের স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মধ্যে দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চারটি প্রতিষ্ঠান এই স্বীকৃতির গৌরব অর্জন করেছে। গত বৃহস্পতিবার জমকালো ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে আগামী দুই বছরের জন্য সুপারব্র্যান্ডসের বিশেষ প্রকাশনাও উন্মোচন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।

সুপারব্র্যান্ডস বিশ্বের সর্বত্র প্রযোজ্য ব্র্যান্ডের বিচারক সংস্থা। এটি ২৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের প্রায় ৯০টি দেশে ব্র্যান্ডিংয়ে কাজ করছে। এতে সুপারব্র্যান্ডস দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের জন্য সর্ববৃহৎ সাফল্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুপারব্র্যান্ডস নির্বাচিত হয়। বিভিন্ন স্বতন্ত্র ব্যাকগ্রাউন্ড এবং স্বেচ্ছাসেবী বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে বিচারকমণ্ডলী গঠিত হয়, যা ‘ব্র্যান্ড কাউন্সিল’ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশের ২০২০-২১ সালের সুপারব্র্যান্ডগুলো এই ব্র্যান্ড কাউন্সিলই নির্বাচিত করেছে। এবারের সুপারব্র্যান্ডের মর্যাদা পাওয়া প্রতিষ্ঠানের তালিকায় নির্মাণ, ভোগ্য পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ, জ্বালানি, ওষুধ তৈরি, বীমা, প্রযুক্তি, যানবাহন নির্মাণ, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যমসহ অনেক খাত থেকে ৪০টি কম্পানি স্থান পেয়েছে।

সালমান এফ রহমান বলেন, ‘আমি সব সুপারব্র্যান্ড বিজয়ীকে অভিনন্দন জানাতে চাই। এই স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠানগুলোর এমডির নয়, সর্বস্তরের কর্মীদের কঠোর পরিশ্রমের প্রতিচ্ছবি। সুপারব্র্যান্ডপ্রাপ্ত সব প্রতিষ্ঠানের জন্য এটি তাদের কর্মীদের প্রতি স্বীকৃতি। যে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা যত বেশি পরিশ্রম করবে তত বেশি সফল হবে। এর মাধ্যমে বিদেশেও আমাদের পণ্য ব্র্যান্ডিং হবে। ফলে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তারা আরো বেশি অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত হবে।’ বাংলাদেশের কোনো বৈশ্বিক কম্পানি না থাকার আক্ষেপ জানিয়ে সালমান এফ রহমান আরো বলেন, ‘আমি আশা করছি শিগগিরই বাংলাদেশে আরো বড় বড় কম্পানি গড়ে উঠবে এবং বৈশ্বিক পর্যায়ে আবির্ভূত হবে।’ দেশে বড় কম্পানি গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে বিদেশি কম্পানিগুলোও অবদান রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সুপারব্র্যান্ডস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘একটি গুণমানসম্পন্ন ব্র্যান্ড তার পণ্য ও পরিষেবা এবং স্পর্শনীয় ও অস্পর্শনীয় উভয় দৃষ্টিকোণ থেকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের ভিত্তিতে বিশ্বাস গড়ে তোলে, যে বিশ্বাস অবিচ্ছিন্ন সময়কালে নির্মিত হয়, যা একটি সুপারব্র্যান্ড করে।’

বসুন্ধরা গ্রুপের স্বীকৃতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে বসুন্ধরা ডায়াপ্যান্ট, বসুন্ধরা পেপার, বসুন্ধরা টিস্যু ও বসুন্ধরা এলপি গ্যাস লিমিটেড। এই অসামান্য অর্জন উপলক্ষে ওই দিনই বসুন্ধরা ইন্ডাস্ট্রিয়াল হেডকোয়ার্টার্সে স্মারক কেক কেটে উদযাপন করেন বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফিয়াত সোবহান, ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান, পরিচালক ইয়াশা সোবহানসহ বসুন্ধরা গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সুপারব্র্যান্ডস হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া গ্রীন ডেল্টা ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ফারজানা চৌধুরী বলেন, ‘সুপারব্র্যান্ডস হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া সত্যিই একটি গর্বের মুহূর্ত। আমি আমাদের সকল কর্মী ও অংশীদারদের গ্রাহকদের জন্য নতুন পণ্য ও পরিষেবা উদ্ভাবন ও উন্নয়নে নিরলস প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানাই। ঝুঁকি সুরক্ষায় আমাদের ওপর আস্থা রাখায় আমাদের গ্রাহকদের প্রতিও আমরা কৃতজ্ঞ।’

সুপারব্র্যান্ড স্বীকৃতি পাওয়া অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে আমরা কম্পানিস, একেএস, এসিআই পিওর সল্ট, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড, ব্র্যাক, বিআরবি কেবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, চ্যানেল আই, কাউ ব্র্যান্ড কালার কোটেড স্টিল, দারাজ বাংলাদেশ লিমিটেড, ডিবিএল গ্রুপ, এলিট পেইন্ট, এপিলিওন গ্রুপ, ফগ, ফ্রেশ রিফাইন্ড সুগার, রহিমআফরোজ গ্লোবাট ব্যাটারিস, গ্রামীণফোন লিমিটেড, গ্রিন ডেল্টা ইনস্যুরেন্স কম্পানি লিমিটেড, ইগলু আইসক্রিম, আইপিডিসি ফিন্যান্স লিমিটেড, ম্যাটাডোর গ্রুপ, মেটলাইফ ইনস্যুরেন্স, মুন্নু সিরামিক, প্রাইড লিমিটেড, রেডিও ফুর্তি, রানার মোটরসাইকেলস, রূপচাঁদা, শাহ সিমেন্ট, শান্তা হোল্ডিংস লিমিটেড, স্বপ্ন, সিঙ্গার বাংলাদেশ, এসএমসি কনডমস, সুপার বোর্ড, সুপার ফ্রেশ ড্রিংকিং ওয়াটার, ডেইলি স্টার, দ্য প্যালেস লাক্সারি রিসোর্ট ও ওয়ালটন।

অনুষ্ঠানে স্বীকৃতি পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে ভার্চুয়ালি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। এতে বসুন্ধরার প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে বসুন্ধরা গ্রুপের জিএম (মার্কেটিং) তৌফিক হাসান এবং বসুন্ধরা গ্রুপের সেক্টর-১-এর হেড অব ব্র্যান্ড অ্যান্ড বিজনেস ডেভেলপমেন্ট জেড এম আহমেদ প্রিন্স প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

এদিকে সুপারব্র্যান্ডস প্রকাশনাটিতে প্রতিটি ব্র্যান্ডের সুপারব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনের গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যা বিজ্ঞাপন, বিপণন, ব্র্যান্ড পরিচালনা, মিডিয়াতে সিনিয়র ব্যবস্থাপকসহ শিক্ষাবিদদের জন্য একটি সম্মিলিত প্রকাশনা। বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম পরিচালক ও ক্রিয়েটিভ এডিটর বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী এবং ভিজ্যুয়াল আর্টিস্ট নাজিয়া আন্দালিব প্রিমা সুপারব্র্যান্ডস বাংলাদেশ ২০২০-২১ প্রকাশনার জন্য ‘ভিজ্যুয়াল ডায়লগ শিরোনামে এই প্রচ্ছদটি ডিজাইন করেন। প্রচ্ছদটির পেছনে অন্তর্নিহিত দর্শন হিসেবে তিনি উল্লেখ করেছেন, শৈল্পিকতার বহিঃপ্রকাশ একটি ধারণা, যা আমাদের এবং এই মহাবিশ্বের কাছে অজানা। চিত্রকর্ম, রং ও আকারের সম্ভাবনাগুলো চিত্রিত করে এটি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা