kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

তরুণ ভোটারদের পছন্দ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ১৭ মিনিটে



তরুণ ভোটারদের পছন্দ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষশক্তি

বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের শেষ দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশজুড়ে নির্বাচনের অন্য রকম এক উষ্ণতা বিরাজ করছে। তবে ভোটের অঙ্ক এবার নির্ভর করছে তরুণ ভোটারদের ওপর। তরুণ ভোটার দুই কোটি ৪০ লাখ। তারুণ্যের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ প্রতিদিনের আয়োজনে ‘তারুণ্যের ভোট উত্সব’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল শনিবার রাজধানীর লেকশোর হোটেল মিলনায়তনে। বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম তাতে সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল নিউজ টোয়েন্টিফোরের হেড অব কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স সামিয়া রহমান। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট তরুণরাও। গ্রন্থনা : কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক রেজাউল করিম ও  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম। ছবি : লুৎফর রহমান

 

ইমদাদুল হক মিলন

সম্পাদক, কালের কণ্ঠ

এই দেশে তরুণরা কখনো ভুল করেনি। তারা সামনেও কোনো ভুল করবে না। তারা জানে, বাংলাদেশের কল্যাণ কোন মানুষটিকে দিয়ে হবে। তারা জানে, বাংলাদেশকে কিভাবে এগিয়ে নিতে হবে। তারা জানে, কোন মানুষটিকে ভোট দিলে সেই মানুষটি বাংলাদেশকে আলোকিত করবে, কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলবে; একটি স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। আমি তরুণদের কাছে শুধু এটুকুই অনুরোধ করব, তারা যেন কোনো ভুল না করে। তারা যেন বাংলাদেশের পক্ষে তার ভোটটি দেয়। তারা যেন মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের জায়গাটিতে ভোটটি দেয়। তারা যেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে সবচেয়ে বড়ভাবে এগিয়ে যায়। আমরা অনেক দলাদলি দেখি। অনেক কিছু দেখি। কিন্তু বাংলাদেশের সচেতন মানুষ সব সময় বাংলাদেশের পক্ষে।

 

নঈম নিজাম

সম্পাদক, বাংলাদেশ প্রতিদিন

তারুণ্য পরিবর্তনের ধারা তৈরি করে। যেকোনো সাহসী কার্যক্রমে তারা জেগে ওঠে। যেদিকে তারুণ্য এগিয়ে যায় সেদিকেই সাড়া জাগে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বড় শক্তি ছিল তারুণ্য। সেই চেতনাকে ধারণ করে, লালন করে বেড়ে উঠছে আমাদের নতুন প্রজন্মের তরুণরা। নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে অগ্রগামী ভূমিকা ছিল তারুণ্যের। বিশ্বের এমন কোনো প্রান্ত নেই যেখানে বাংলাদেশের তারুণ্য তাদের মেধার স্বাক্ষর রাখেনি। এই ১০ বছরে বাংলাদেশে এসেছে অভূতপূর্ব পরিবর্তন। তারুণ্য যদি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে তাহলে তারা এই দেশকে বদলে দিতে পারে। বাংলাদেশকে উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে তারুণ্যের বিকল্প নেই। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তির বিকল্প নেই।

 

অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা

সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

তরুণরা অবশ্যই দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চায়। এখানে বিভিন্ন নামে ও খোলসে যে চৌর্যবৃত্তের রাজনীতি দেখেছি আমরা, তরুণরা সেই চৌর্যবৃত্ত ও স্বজনপ্রীতির রাজনীতি থেকে মুক্ত হতে চায়। আমরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চাই। আমরা যে দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি দেখেছি, তরুণরা তা থেকে মুক্তি চায়। আমাদের তারুণ্য এমন এক শক্তিকে ক্ষমতায় দেখতে চায় যারা মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষে কাজ করবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে উজ্জীবিত করবে। ক্রিকেটসহ সব সেক্টরে বিশ্বের মধ্যে আমাদের অবস্থান এখন অনেক উঁচুতে। এই মাথা উঁচু অবস্থা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। সে জন্য আমাদের তারুণ্য ভেবে, চিন্তা করেই ভোটের সিদ্ধান্ত নেবে। সেই সিদ্ধান্ত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে আরো সুদৃঢ় করবে।

 

অধ্যাপক শামীম রেজা

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

এবারের জাতীয় নির্বাচনে যে পরিমাণ তরুণ প্রার্থী মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন, এর পরিমাণ আরো বাড়ানো দরকার ছিল। রাজনীতিতে আসতে হবে তরুণদের।  রাজনীতিতে আসা মানে এই নয়, শুধু নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা। রাজনীতিতে অংশগ্রহণ অনেকভাবেই করা যায়। একটা ভালো এজেন্ডাকে সমর্থন দিয়ে রাজনীতিতে অংশ নেওয়া যেতে পারে। ভালো কাউকে ভোট দিয়েও রাজনীতিতে অংশ নেওয়া যায়। যেটিকে বলা যেতে পারে তারুণ্যের ভোট উত্সব। এভাবে তরুণরা একটি বড় পরিসরে অংশ নিতে পারে রাজনীতিতে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি তরুণ প্রার্থী দিতে পারত, তাহলে আরো ভালো হতো। আগামী নির্বাচনে তরুণ সেই প্রার্থীর কথাই চিন্তা করবে, যাঁদের অতীতে ভালো রেকর্ড রয়েছে, যাঁদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ রয়েছে। তরুণদেরই ভালো মানুষ চিহ্নিত করতে হবে।

 

ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম

আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

এবার প্রায় ৪৩ লাখ নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে আমাদের ভোটার তালিকায়। অভিনন্দন তাদের। নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা তার সাংবিধানিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ভোট প্রদান হচ্ছে ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশনেরই একটা চর্চা। সেদিক থেকে যখন তরুণরা কাউকে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, আমাদের অনেক বিষয় তাদের মনে করিয়ে দিতে হয়। আমাদের তরুণরা একাত্তর বা পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ড দেখেনি। দেখেনি পঁচাত্তর-পরবর্তী সেই অন্ধকারকালীন ক্ষমতারোহণের দৃশ্য। এই দেশে যারা রাজাকার ছিল, এখন তারা আর সরাসরি মাঠে নেই। একটি বড় রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ে চলে গেছে। ওই দলটি এখন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। তরুণরা এই ভাইরাসকে বর্জন করবে। তরুণরা আগামী নির্বাচনে তাদেরই ভোট দেবে, যারা এই দেশের চলমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে।

 

আজিজুল হাকিম

অভিনেতা ও নির্মাতা

আমাদের তরুণ প্রজন্ম সব সময় সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চায়। তিনিই তরুণ যিনি ভাবনা-চিন্তায় তারুণ্যকে লালন করেন এবং প্রগতির কথা চিন্তা করেন, দেশের কথা চিন্তা করেন, দেশের পজিটিভ কথা চিন্তা করেন। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে দেশের সবচেয়ে বড় তারুণ্যকে বাধাগ্রস্ত করা হয়। আমাদের অগ্রসর হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবার বাংলাদেশে তারুণ্যের শক্তি ফিরে আসে। দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমরা যারা প্রগতি, তারুণ্য ও দেশকে হূদয়ে ধারণ করি, সবাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছি। কারণ আমরা উন্নয়নের পক্ষে, প্রগতির পক্ষে আগামী নির্বাচনে তাঁরই নেতৃত্ব ক্ষমতায় আনার জন্য ভোটযুদ্ধে আবারও আমরা জয়ী হব।

 

ডা. নুজহাত চৌধুরী

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

আমাদের তরুণরা আমাদের বারবার বলে যাচ্ছে—আমাদের পথ দেখান, যে পথ ধরে আমরা এগিয়ে যাব। আজকের যে তরুণ ১৯ থেকে ৩০ বছর বয়স, তারা তো একাত্তর দেখেনি। দেখেনি পঁচাত্তর; শুধুই শুনেছে। তারা নিজ দেশের সেনাবাহিনীর স্বৈরাচারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে দেখেনি, তারা লোড শেডিং দেখেনি। দেখেছে ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুত্ আছে। তাই তাদের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। তারা আমার মতো করে বাবাকে রক্তে মোড়া শুয়ে থাকতে দেখেনি। ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানাতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের অবস্থা তুলে ধরতে হবে। শোকগ্রস্ত মানুষের জীবন তুলে ধরতে হবে। এ দেশের তরুণরা যারা জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের চাইবে না, তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সঙ্গে থাকবে। যদি না বোঝানো যায় তবে তারা ভুল পথে চলে যেতে পারে।

 

মোহাম্মদ এ আরাফাত

গবেষক ও শিক্ষক

মনোনয়ন জমা নিয়ে অনেক ভুল তথ্য ছড়ানো হয়েছে। মনোনয়ন বাতিল নিয়ে নানা রকমের কথা ছড়িয়ে পড়েছিল। নিয়ম না মেনে বৈধতা চাইলে কিভাবে পাবে? তারা আইনের কথা বলে কিন্তু নিজেরা কোনো আইন মানতে চায় না। আওয়ামী লীগ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত ছিল বলে মাত্র তিনটি মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। আর তাদের কোনো প্রস্তুতি নেই। তাই বাতিল হয়েছিল; যা নিয়ে সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু এখন তো সমালোচকদের মুখ বন্ধ হয়ে গেছে, কিছু মনোনয়নের বৈধতার কারণে। মনে রাখতে হবে, একটা দল সব সময় মিথ্যা প্রচার করে ফায়দা নিতে চায়। তরুণদের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে, নিজেদের সচেতন করে তুলুন। যারা মিথ্যা বলছে, অর্ধসত্য বলছে, প্রয়োজনবোধে তাদের খুঁজে বের করতে হবে। নাগরিক হিসেবে সব সময় সত্যের পক্ষে থাকতে হবে।

 

মাহফুজ আহমেদ

অভিনেতা

প্রকৃতপক্ষে তরুণদের মনের কথা জানার চেষ্টা কেউ করে না। বিভিন্ন দেশে উন্নয়ন থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে চিন্তা করা হয় তরুণদের কেন্দ্র করে। তারা কী চাচ্ছে, কিভাবে চাচ্ছে, সে বিষয় মাথায় রাখা হয়। পৃথিবী কাঁপছে বার্ধক্যের ঝড়ে, আর আমরা কাঁপছি তারুণ্যের ঝড়ে। কিন্তু সেই তারুণ্যকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারছি না। এই তারুণ্যকে কাজে লাগাতে হবে সঠিকভাবে। কারণ তরুণরা ভাবতে পারে। তারা সৃষ্টিশীল। তারা বহুমাত্রিক।  তরুণরা চায়, তাদের কাছে জানতে চাওয়া হোক। তাদের গুরুত্ব দেওয়া হোক। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজনৈতিক পরিচয় থেকে বেরিয়ে এলেও একজন মমতাময়ী মানুষ, যিনি তরুণদের মনের কথা বুঝতে পারেন। তাইতো তিনি তরুণদের সঙ্গে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান।

 

রিয়াজ

অভিনেতা

আমি জানি, তরুণদের অনেকেই রাজনীতি পছন্দ করো না। আর আমি তোমাদের সেই রাজনীতি করতে বলব না, যে রাজনীতি শুধুই ক্ষমতা দখলের, পেট্রলবোমা বা গ্রেনেড-ককটেলের রাজনীতি। আমি তোমাদের সেই রাজনীতির কথা বলতে চাই, যে রাজনীতি ১৮ কোটি মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের, বিশ্বমঞ্চে নিজেকে সম্মানের আসনে বসানোর, ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে খাবার তুলে ধরার রাজনীতি, অর্থনৈতিক মুক্তির রাজনীতি। সবার কাছে অনুরোধ, আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোট দেবে। নিজেরা ভোট দাও সবার আগে। ভোটের কালি নিজের হাতে লাগাও আর ছবি তুলে ফেসবুকে দাও। তোমার ভোট তুমি দেবে, দেখে শুনে বুঝে দেবে। কিন্তু তোমার ভোট এমন কাউকে দেওয়া উচিত নয়, যাতে দেশ দুর্বৃত্তায়নের দিকে চলে যায়। আমাদের দেশের অগ্রগতির কথা ভাবতে হবে। কারণ আমাদের ভাবনার গুরুত্ব এই মুহূর্তে অনেক।

 

শমী কায়সার

অভিনেত্রী ও নির্মাতা

গত ১০-১২ বছরে বাংলাদেশে একটি অসম্ভব ঘটনা ঘটেছে। সেটি হলো, তরুণদের মধ্যে একটি আত্মসম্মানবোধ ও একটি আত্মবিশ্বাসের লেভেল তৈরি হয়েছে। তরুণদের মধ্যে আত্মসম্মানবোধ ফিরিয়ে দিয়েছেন জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজকের তরুণরা শুধু বাংলাদেশকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে না; বাংলাদেশে বসে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্যোক্তা হতে পারছে। তরুণরা এমন বাংলাদেশই চায়, যে বাংলাদেশের হাল ধরেছেন শেখ হাসিনা। এই হাল ধরাকে তারা অব্যাহত রাখতে চায়। তারা চায় না এ দেশে আর কোনো দিন স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় আসুক; আর কোনো দিন যুদ্ধাপরাধী জামায়াত এ দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আসুক। তরুণরা আগামী ভোটযুদ্ধে তাদেরই ভোট দেবে, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে। কারণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাই আমাদের এগিয়ে চলার মূল শক্তি। এই শক্তিকে আঁকড়ে ধরে আমাদের সামনে যেতে হবে। না হলে আমরা পিছিয়ে পড়বো। আমরা পিছিয়ে পড়তে চাই না। কাজেই তাদের বর্জন করতে হবে, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে না, বাংলাদেশকে হূদয়ে ধারণ করে না।

 

ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান

আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট

তরুণদের নেতৃত্ব দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে একটি মহাজোট হয়েছে, যার নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। আমরা জানি না, কে দেবেন বিরোধী জোটের নেতৃত্ব। এখন কোন জোটের নেতৃত্ব কে দিচ্ছেন, সে বিষয়ে চিন্তা করলেই তরুণদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে কাকে ভোট দেবে। আমরা যারা তরুণ, তারা ভাবনা-চিন্তা করেই ভোটের সিদ্ধান্ত নেব। যারা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দেশে একাত্তরের হানাদারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল, দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসকে উজ্জীবিত করেছিল, যাদের কারণে দেশ দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, তরুণরা তাদের বর্জন করবে।

 

ড. এ জে এম শফিউল আলম ভুঁইয়া

শিক্ষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

দেশের তরুণরা এখন আগের চেয়ে অনেক সচেতন। তারা এ দেশের যে উন্নয়ন চোখে দেখেছে, এটি তারা স্পষ্ট করেই জানে, কার হাতে এই উন্নয়ন হচ্ছে। এ দেশে স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তিরা যতবার ক্ষমতায় এসেছে ততবার দেশকে অনেক দূরে পিছিয়ে নিয়েছে। এখন উন্নয়নের যে ধারা, তা অব্যাহত রাখতে তরুণরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কারণ তারা চায় না এই অগ্রযাত্রা ব্যাহত হোক। এ জন্য তরুণরা বর্তমান উন্নয়নের রূপকারদের হাতে আবারও দেশের ক্ষমতা তুলে দিতে বদ্ধপরিকর। এ জন্য আগামী ভোটযুদ্ধে তারা সক্রিয়ভাবে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকেই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিতে চায়।

 

নুসরাত ইমরোজ তিশা

অভিনয়শিল্পী

বিগত কয়েক বছরে আমরা অনেক উন্নতি দেখেছি এবং উন্নতি দেখতে চাই। তরুণ হিসেবে ঠিক কতটা উন্নয়ন দেখতে চাই সেটা বলব না। কারণ উন্নয়নের কোনো শেষ হয় না। যতটা উন্নয়ন হবে, সেটা আমাদের জন্যই লাভ। বলা হয়ে থাকে, তরুণরাই দেশের ভবিষ্যত্। আমরা যত কর্মঠ হব, দেশ তত এগিয়ে যাবে। আমি তরুণদের উদ্দেশে বলব—আপনারা ভোট দিতে আসবেন। কেননা আপনার একটি মূল্যবান ভোট অনেক কিছু পাল্টে দিতে পারে। অনেক কিছু হয়ে যেতে পারে। যখন ভোট দেবেন তখন একটা কথা মাথায় রাখবেন, দেশটা আপনার। দেশের ক্ষতি হলে আপনারও ক্ষতি হবে। সব তরুণের উচিত হবে ভোট নষ্ট না করে, ভোট দিয়ে সঠিক ব্যক্তিকে বেছে নেওয়া।

 

আমজাদ হোসেন

পরিচালক, এফবিসিসিআই

সভাপতি, জুনিয়র চেম্বার ইন্টারন্যাশনাল

এখন বাংলাদেশকে সারা বিশ্বের মানুষ জানে অন্যভাবে। একসময় এ দেশে বিনিয়োগ করতে বিদেশিরা সাহস পেত না। এখন তারা বিনিয়োগ করার জন্য নানাভাবে এগিয়ে আসে। অনেক বিনিয়োগ হয়েছে। বাংলাদেশের তরুণরা ১০ বছরে সারা বিশ্বে নানাভাবে সফলতার সঙ্গে অবস্থান নিয়েছে। এখন বাংলাদেশি তরুণরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় বড় উদ্যোক্তার ভূমিকা পালন করছে। মাইক্রোসফট কম্পানি এখন বাংলাদেশে সরাসরি বিনিয়োগ করছে। এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে উন্নত দেশের প্রধানমন্ত্রীদের চেয়েও বেশি সম্মান দিয়ে থাকে আন্তর্জাতিক ফোরামগুলো। এই প্রধানমন্ত্রীর বদৌলতেই আজ বাংলাদেশি তরুণরা বিশ্ব জয় করছে। বাংলাদেশের ব্যবসা সেক্টরে আজ তরুণদের অনেক দাপট, যা সম্ভব হয়েছে বর্তমান সরকারের কারণে। এ জন্য আগামী ভোটযুদ্ধে তরুণরা ভালোভাবে চিন্তা করেই চলমান উন্নতি অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নেবে।

 

সামিয়া রহমান

সঞ্চালক

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনের আগে প্রায় আড়াই কোটি তরুণ ভোটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। তাঁরা কী ভাবছেন সেটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

এম এ মুহিত

এভারেস্টজয়ী

আমি একজন মানুষ হিসেবে সমাজ তথা এই দেশকে কেমন দেখতে চাই সেটা বলতে চাই। আমার প্রশ্ন, যে মানুষটি ঘুম থেকে উঠে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত মিথ্যা বলে, দুর্নীতি করে, চালাকি করে সে ভালো কাজ করবে—সেটা কি বিশ্বাসযোগ্য? একজন মানুষের অনুশীলন কী সেটা দেখতে হবে, সে যা অনুশীলন করে সেটা থেকে সহজে বের হতে পারবে না। তাই একজন ভোটার যোগ্য লোক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অবশ্যই তার অতীত, তার কর্মকাণ্ড বিবেচনায় এনে প্রার্থী নির্বাচন করবে। তরুণরা অবশ্যই তাদেরই ভোট দেবে যে মানুষ সততার অনুশীলন করবে, যে ভালো আচরণের অনুশীলন করবে। শুধু মার্কা দেখে ভোট দেওয়া নয়, অবশ্যই ভালো মানুষকে চিহ্নিত করে ভোট দিতে হবে।

 

মিশু চৌধুরী

নারী ক্রিকেটার

আমার ভোট আমি দেব যাকে খুশি তাকে দেব। তবে সেই ক্ষেত্রে কে কী কাজ করেছে সেটি বিবেচনায় এনে ভোট দিতে হবে। যেহেতু খেলার মানুষ, তাই বলতে হয় আমাদের ক্রীড়াঙ্গনের ক্ষেত্রে সব সময় এগিয়ে এসেছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমান সরকারের আমলে ক্রীড়া ক্ষেত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে পরিমাণ সম্মান এবং অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন তা কেউ কখনো দেয়নি। ক্রিকেট থেকে শুরু করে যেকোনো খেলায় ভালো করলেই তাঁদের প্রধানমন্ত্রী ডেকে নিয়ে সম্মানিত করেছেন। আর খারাপ করলেও সাহস জুগিয়ে থাকেন। তিনি খেলোয়াড়দের সমস্যার কথা জেনেছেন, সমাধানও করেছেন। দেশের প্রয়োজনে নিজের ভালোবাসায় উপস্থিত হয়েছেন খেলার মাঠে। প্রত্যেক তরুণ ভোটারকে ভেবেচিন্তে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে। তরুণদের সঙ্গে থাকা, তাদের মনের কথা বুঝতে পারা এই সরকারকে বারবার ক্ষমতায় আনার মাধ্যমে দেশের ক্রীড়া এবং সব ক্ষেত্রে উন্নয়ন করা সম্ভব।

 

সাবরিনা পড়শী

সংগীতশিল্পী

যেকোনো দাবি আদায় থেকে শুরু করে আন্দোলনে যোগ দিলে তরুণদের খারাপ বলা হচ্ছে। যারা বেশির ভাগই বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী। অনেক ক্ষেত্রে আমাদের ডেকে বোঝানো হয় না। আর যতটা বোঝানো হয় তাও প্রয়োজনের তুলনায় অল্প। দেশের উন্নয়নে তরুণদের সংশ্লিষ্ট করতে হবে; যেটি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী করছেন। আমাদের আরো কাজ করার সুযোগ করে দিতে হবে। কোনো আন্দোলনে যাওয়া মানেই তরুণরা খারাপ, সেটা ধরে নেওয়া যাবে না। তাদের সব সময় নেতিবাচকভাবে না দেখে তাদের ইতিবাচক দিকগুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে। তরুণরা সব সময় সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। তাই তাদের সঠিক পথ দেখিয়ে কাজ করতে দিতে হবে। আমরা তাদেরই ভোট দেব, যারা আমাদের ভালো রাখবে।

 

সাথিরা জাকির জেসি

নারী ক্রিকেটার

এখন খুনাখুনির রাজনীতি নেই, রাজনীতির প্রেক্ষাপট অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে। তাই অনেক তরুণই রাজনীতির বিষয়ে ইতিবাচকভাবে ভাবতে শুরু করেছে। আমরা তরুণরা যা দেখি তা-ই বিশ্বাস করি। তাই তরুণদের সামনে সঠিক বিষয়টি তুলে দিতে হবে। বর্তমান সময়ে তরুণদের সামনে কেউ কোনো বিষয় তুলে ধরলেও তারা আগে সে বিষয় যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেয়। হুট করে কোনো বিষয় মেনে নেয় না। তাই সব ধরনের নির্বাচনের ক্ষেত্রেই তারা সতর্কতার সঙ্গে ভোট দিয়ে থাকে। তরুণরা বিচক্ষণতার সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনে ভোট প্রয়োগের মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীকে নিজেদের নেতা বানিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। তরুণদের কথা মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছেন বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই তাদেরও উচিত হবে উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে আবারও নির্বাচিত করা।

 

তনিমা আফরোজ

জঙ্গিদের নিয়ে রচনা লিখে জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী

আমি বলতে চাই, আমরা তরুণরা এগিয়ে যাব। কিন্তু সে জন্য আমাদের একটু সাহায্য করতে হবে, উত্সাহ দিতে হবে এবং সঠিক দিকে ডাকতে হবে। কারণ আমরা নিজেরা তো এগিয়ে যেতে পারব না। তাই আমাদের একজন অনুকরণীয় মানুষ দরকার, যাকে অনুসরণ করে আমরা এগিয়ে যেতে পারব। দেশের ইতিহাসে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তরুণদের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি ছিল। সামনের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি তরুণ ভোটার রয়েছে। এদের সঠিক পথ দেখাতে পারলে সঠিক প্রার্থী বেছে নেওয়া সম্ভব হবে। পরিবারের সঙ্গে একজন তরুণ সব কিছু শেয়ার করতে না পারলেও নিজের কাছের বন্ধুদের সঙ্গে অনেক গোপনীয় বিষয় বলে থাকে। কেউ যদি জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকে পড়তে থাকে তাহলে তাকে বুঝিয়ে ফিরিয়ে আনতে পারে একমাত্র তার বন্ধুই।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা