kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

ছাত্রনেতার ঠাঁই নেই মূল দলে

রফিকুল ইসলাম   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



ছাত্রনেতার ঠাঁই নেই মূল দলে

‘এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান’—কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের এই পঙিক্তর অর্থ দাঁড়ায় পুরনো প্রজন্ম নতুন প্রজন্মের জন্য স্থান ছেড়ে দেবে। কিন্তু দেশের জাতীয় রাজনীতিতে এর কোনো প্রতিফলন নেই। ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে উঠে আসা তরুণ নেতাদের জায়গা হচ্ছে না মূল দলে। দুই বড় দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও তরুণদের জায়গা খুবই সংকীর্ণ। নিজ নিজ এলাকায় পুরনো বা বয়োজ্যেষ্ঠরা জায়গাটি আঁকড়ে ধরে থাকায় তরুণদের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না। ভবিষ্যতে রাজনীতির মাঠে তরুণদের স্থান করে না দিলে দলগুলোতে নেতৃত্বের শূন্যতা তৈরি হবে—এমন মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

তাঁরা বলছেন, তীব্র প্রতিযোগিতা আর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে ছাত্ররাজনীতিতে নেতৃত্বে আসতে হয় তরুণদের। উচ্চশিক্ষা স্তরে পড়া শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়নসহ ছাত্রসংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব গড়ে ওঠে। শত শত কর্মীকে পেছনে ফেলে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শীর্ষ পদে বসার যোগ্যতা অর্জন করেন তাঁরা। ছাত্ররাজনীতির পাট চুকিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে প্রবেশ আরো দুষ্কর হয়ে পড়ে! বছরের পর বছর শুধু অপেক্ষা আর অপেক্ষা!

রাজনীতিসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে উঠে আসা তরুণ নেতাদের মূল দলে জায়গা করে দিতে তেমন কোনো উদ্যোগও নেই। কেউ কেউ দলের স্থানীয় সংগঠনে বা নিজ এলাকার ক্ষমতাশালী কোনো বড় ভাইকে আশ্রয় করে টিকে থাকছেন। দলও বয়োজ্যেষ্ঠ, বয়স্ক আর পুরনোদের ওপরই ভরসা করছে।

জানা যায়, ছাত্রনেতারা মূল দলের সহযোগী বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনে দায়িত্ব পালনের পর অনেকটাই ‘গুরুত্বহীন’ হয়ে পড়েন। ছাত্রসংগঠনে দায়িত্ব পালনের পর মূল দল বা অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের কোথায় স্থান পাবেন সে বিষয়েও কোনো নির্দেশনা থাকে না। এতে হতাশ হয়ে পড়েন ছাত্রনেতারা।

আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে নেতৃত্ব দেওয়া এক নেতা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ছাত্র নেতৃত্বের সময় অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছি। সরকার বা দলের জন্যও অনেক কাজ করতে হয়েছে। কিন্তু দায়িত্ব পালনের পর যাওয়ার কোনো জায়গা দেখছি না। দীর্ঘদিন এদিক-ওদিক ঘোরার পরও কোনো গতি হয় না। ছাত্রনেতাদের জায়গা কোথায় হবে সে বিষয়টিও দল থেকে বলছে না। সহযোগী সংগঠনগুলোতেও তেমন জায়গা নেই। ছাত্র নেতৃত্বের দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর নেতারা কোন জায়গায় গিয়ে রাজনীতি করবেন সেটি স্পষ্ট করা উচিত।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আওয়ামী লীগের ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ; বিএনপির ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দল এবং বামপন্থী দলগুলোর, বিশেষ করে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ছাত্র ইউনিয়ন ও যুব ইউনিয়ন নামের সংগঠন রয়েছে।

ছাত্রলীগে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা : ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন আর সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। তাঁরা চলতি বছরের জুলাই মাসে নির্বাচিত হন। এর আগেও তাঁরা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা ছিলেন। ওই কমিটির মেয়াদ শেষ হলে তিন শতাধিক পদপ্রত্যাশীর মধ্য থেকে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করেন আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। কিন্তু ছাত্রলীগের শীর্ষ পদপ্রত্যাশীদের একটি অংশ রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছে। অন্য একটি অংশ কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পেতে সক্রিয় রয়েছে। সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও যোগ দিচ্ছে।

জানা যায়, ছাত্রলীগের সদ্যোবিদায়ী কমিটির নেতার সংখ্যা তিন শতাধিক। আর আগের সোহাগ-নাজমুল কমিটির নেতাও ছিলেন প্রায় সমসংখ্যক। ছাত্ররাজনীতি শেষ করার পর এসব নেতাদের বেশির ভাগেরই এখন কোনো পরিচয় নেই। অন্ধকারে পথ খুঁজছেন তাঁরা। কেউ কেউ মূল দলে জায়গা না পেলেও উপকমিটি কিংবা জেলা কমিটিতে স্থান করে নিয়েছেন। কিন্তু এই সংখ্যাটা খুবই কম।

সম্প্রতি ছাত্রলীগের অনেক নেতা আসন্ন সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত আওয়ামী লীগের উপকমিটিতে স্থান পেয়েছেন। যদিও এটা দলীয় কোনো পদ নয়। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে আওয়ামী লীগের উপকমিটিতে ছাত্রনেতাদের জায়গা না হওয়ায় ক্ষুদ্ধ হয়ে ওঠেন তাঁরা। দলের সাধারণ সম্পাদকের গাড়ি ঘিরেও বিক্ষোভ হয়েছে বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।

ছাত্রদলে নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিযোগিতা : বিএনপির সহযোগী সংগঠন ছাত্রদলের কমিটি গঠন করা হয় ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর। কয়েক শ পদপ্রত্যাশীর মধ্য থেকে সভাপতি হিসেবে রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আকরামুল হাসানকে নির্বাচন করা হয়। রাজিব আহসান ১৯৯৩ সালে এসএসসি পাস করেছেন আর আকরাম ১৯৯৫ সালে এসএসসি পাস করেন। সে সময় ১৫৩ সদস্যের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘদিন পর এই কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়, যাতে সাত শতাধিক নেতাকে পদ দেওয়া হয়। নির্বাচন ঘিরে ছাত্রনেতাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে সবাইকে পদ দেওয়া হয়েছে। দুই বছর মেয়াদের এই কমিটি এখনো বহাল রয়েছে। পরবর্তী কমিটিতে শীর্ষ পদে আসতে পদপত্যাশীরা অপেক্ষার প্রহর গুনলেও কার্যত নতুন কমিটি গঠনে কোনো উদ্যোগ নেই।

দলের জয়গা পাওয়ার পথও রুদ্ধ : ছাত্ররাজনীতির সময়ই অনেকে স্থায়ীভাবে রাজনীতিকে পেশা হিসেবে নিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। কিন্তু ছাত্ররাজনীতি শেষ করার পর জাতীয় রাজনীতির পথ সহজে খোলে না। অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে শেষে স্থান পান নেতারা। ছাত্রলীগের রাজনীতি শেষের পর ছাত্রনেতারা কেউ যুবলীগ, কেউ বা স্বেচ্ছাসেবক লীগে আসেন। একইভাবে ছাত্রদলে সাবেক হওয়ার পর যুবদল কিংবা স্বেচ্ছাসেবক দলে আসেন ছাত্রনেতারা। কিন্তু যথাসময়ে এসব সংগঠনের সম্মেলন হয় না বলে কমিটিতে নতুনদের জায়গাও হয় না।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, দলটির সহযোগী সংগঠন যুবলীগের সম্মেলন হচ্ছে না সাত বছরের বেশি সময় ধরে। সর্বশেষ ২০১২ সালে সংগঠনটির সম্মেলন হয়েছে। ওই সম্মেলনে ওমর ফারুক চৌধুরী ও হারুন-অর রশীদকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এর আগে ২০০৩ সালে যুবলীগের সম্মেলন হয়েছিল।

এদিকে ৯ বছর পর ২০১২ সালের জুলাই মাসে সম্মেলন হয়েছিল স্বেচ্ছাসেবক লীগের। ছয় বছর পার হতে চললেও এখনো সম্মেলনের কোনো অগ্রগতি নেই। আবার কবে হবে সে বিষয়টিও কেউ জানে না।

বিএনপি সূত্রে জানা যায়, দলটির অঙ্গসংগঠন যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলেও নেতৃত্বজট রয়েছে। নতুন কমিটি গঠনে রয়েছে দীর্ঘসূত্রতা। ২০১৬ সালের অক্টোবরে স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কমিটি করা হয়। এই কমিটিতে শফিউল বারী সভাপতি ও আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েলকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এর আগে সর্বশেষ কমিটি হয়েছিল ২০০৯ সালে। ওই সময় সভাপতি ছিলেন হাবিব উন নবী খান সোহেল ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মীর সরফত আলী সপু।

এদিকে সাত বছর পর ২০১৭ সালে কমিটি হয় যুবদলের। ২০১০ সালে এর কমিটি হয়েছিল। তখন সভাপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন সাইফুল ইসলাম নিরব। সর্বশেষ কমিটিতে সভাপতি সাইফুল ইসলাম নিরব আর সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছাত্ররাজনীতি শেষ করার পর নেতাদের দীর্ঘসময় পরিচয় ছাড়াই ঘুরতে হয় রাজনীতির মাঠে। ছাত্রনেতার তকমা খুলে ফেলার পর যুব কিংবা স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনে রাজনীতির সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু ছাত্ররাজনীতির সময় বড় পদে থাকলেও অন্য সংগঠনে মিলছে না পদ-পদবি। পদ পেতে হলে ওই সব সংগঠনের নেতা, মূল দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ধরনা দিতে হয় তাঁদের। এতে কারো কপালে পদ জোটে, কারো জোটে না। জেলায় গিয়ে দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত হন তাঁরা।

দুই বড় দলের নেতারা বলছেন, বয়োজ্যেষ্ঠরা দীর্ঘদিন রাজনীতিতে থাকায় তাঁরা বেশি অভিজ্ঞ। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে তরুণদের জায়গা করে দিতে হবে। নতুবা তরুণ নেতৃত্ব উঠে আসবে না।

তরুণ নেতারা বলছেন, এলাকার মানুষের কাছে বয়োজ্যেষ্ঠ নেতার জনপ্রিয়তা অনেক বেশিই থাকে। একজন তরুণ প্রার্থী বা ছাত্রনেতার সেই পরিচিত থাকে না। পরিচিতি সৃষ্টি করতে নিজ নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে মেশা কিংবা বয়োজ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে রাজনৈতিক কমসূচিতে অংশ নিয়ে কাজ করাও সহায়ক হবে। কিন্তু অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ নেতা সেই সুযোগ দিতে চান না। প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে দূরে সরিয়ে রাখেন। নিজ পরিবারের কাউকে সুযোগ করে দিতে গিয়ে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে উঠে আসা তরুণ নেতারা বঞ্চিত হন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এ নিয়ে দলের কোন্দলও সৃষ্টি হয়। কে কাকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাবে এমন প্রতিযোগিতা থেকে অভ্যন্তরীণ কোন্দল দেখা দেয়।

সরকারি চাকরির বয়স শেষ, ব্যবসা করলেও দোষ : বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নেতা হওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রে বয়স ২৭ বছরের মধ্যে থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এই বয়স পার হলে কেউ নেতা হতে পারবেন না—এমন ঘোষণা সুস্পষ্টভাবেই গঠনতন্ত্রে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ছাত্রদলের ক্ষেত্রে বিষয়টা ভিন্ন। নেতা হওয়ার ক্ষেত্রে বয়সের কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই। ৩০ বছরের বেশি কিংবা ছাত্রত্ব নেই এমন অনেকেই রয়েছেন এ সংগঠনটির নেতৃত্বে।

ছাত্রলীগ সূত্রে জানা যায়, ২৭ বছর বয়সে নেতা হলে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির দুই বছর দায়িত্ব পালন করার পর নেতাদের সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়স থাকে মাত্র এক বছর। এ জন্য ছাত্ররাজনীতি শেষ করার পর ছাত্রনেতারা ইচ্ছা করলেই সরকারি চাকরির পরীক্ষায় আবেদন করতে ও বসতে পারেন না। ফলে ছাত্ররাজনীতি শেষ করার পরও কেউ কেউ রাজনীতির মাঠেই থাকেন, আবার কেউ কেউ ছোট আকারে ব্যবসার দিকে ঝুঁকে পড়েন।

সূত্র জানায়, ছাত্রলীগের অর্ধশতাধিক সাবেক নেতা তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ব্যবসা করছেন। কেউ কেউ পরিবারের কাছ থেকে টাকা এনেছেন। কেউ নিজের আয়ের টাকায় ব্যবসা শুরু করেছেন।

ছাত্রদল সূত্র জানায়, প্রায় ১০ বছর ক্ষমতার বাইরে থেকে নির্যাতন ও নিপীড়নের মধ্যে কাটাতে হচ্ছে সংগঠনের অনেক নেতাকে। দল ক্ষমতায় না থাকায় স্বাভাবিক চলাচল বা অর্থ সংস্থানে বিরূপ পরিস্থিতির মুখোমুখি তাঁরা। পরিবার কিংবা আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে এনে রাজনীতিতে সক্রিয় রয়েছেন। কেউ উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পদের মালিক। কেউ বা নেতৃত্বে থাকা অবস্থায় ঠিকাদারি কাজের টেন্ডার থেকে অর্থ উপার্জন করেছেন। এ নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয় সমাজে।

এসব কারণে ছাত্ররাজনীতি অনেক সময় চাকরির ক্ষেত্রে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে মনে করছে ছাত্রলীগ ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।

ছাত্রলীগের নেতারা বলছেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন ছাত্রদল বা তাদের সংগঠনের বাইরের কাউকে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়নি। ছাত্রলীগের ‘গন্ধ’ পেলেই বাদ দেওয়া হয়েছে। বিপরীত পক্ষে ছাত্রদল নেতাদের ডেকে এনে চাকরি দেওয়া হয়েছে। মেধার মূল্যায়ন করা হয়নি।

ছাত্রদল নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকার ১০ বছর ক্ষমতায় থাকায় বিএনপি বা ছাত্রদলের মেধাবীদের চাকরির সুযোগ দেওয়া হয়নি। মেধার জোরে কেউ সরকারি চাকরিতে সুযোগ পেলেও যাচাই-বাছাইয়ে বাদ দেওয়া হয়েছে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে ছাত্রদলকর্মীদের মারধর করে বের করে দেওয়ার ঘটনা অহরহই।

এখন ছাত্রদল যেন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে—এমন মন্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের এক শিক্ষার্থীর। ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় হল থেকে তাঁকে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছে।

আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন নাজমুল করিম দুলাল। নব্বইয়ের দশকে যোগ দিয়েছিলেন বিএনপিতে। তিনি এবার বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সব জায়গায় এখন তরুণদের আনা উচিত। একজন সরকারি কর্মকর্তা চাকরির পর অবসরে যান। কিন্তু রাজনীতিবিদরা অবসরে কেন যাবেন না? নতুন বা তরুণরা না এলে রাজনীতি রক্ষণশীল হয়ে পড়বে। একজন দুইবারের বেশি এমপি হতে পারবেন না—এমন নিয়ম চালু করা উচিত। যদি কাউকে একাধিকবার প্রয়োজন হয়, সেটাও দল ভেবে দেখতে পারে। তরুণরা রাজনীতিতে না এলে রাজনীতিতে নতুনত্ব আসবে না। কিন্তু বয়োজ্যেষ্ঠরা চেয়ার না ছাড়লে সেটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ জন্য দলের নীতিনির্ধারকরদের সে বিষয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে।’

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা