kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

সবিশেষ

দেশে দেশে যান চলাচলে আছে কার্যকর ব্যবস্থা

মেহেদী হাসান   

২ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একদিন শুধু জোড় নম্বরের গাড়ি চলবে, অন্যদিন (পরদিন) চলবে বিজোড় নম্বরের গাড়ি—২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকের সময় এমন একটি ব্যবস্থা চালু করে বেশ সাফল্য পেয়েছিল চীন। পরবর্তী সময়ে পরিবেশদূষণ মোকাবেলা ও যানজট সামলাতেও বেইজিংয়ে এ ব্যবস্থা কাজে এসেছে। ২০১৬ সালে ভারতের দিল্লিতেও এমন ব্যবস্থা চালুর পর পুরনো গাড়ি বিক্রির হার দ্বিগুণ হয়েছিল। কারণ এ ধরনের ব্যবস্থায় অনেকে জোড় ও বিজোড়—দুই ধরনের নম্বরেরই গাড়ি কিনতে আগ্রহী হন। তবে এ ক্ষেত্রেও লাগাম টানতে গাড়ির নম্বর প্লেটের শেষ নম্বর উল্লেখ করে নির্দিষ্ট দিনে সেগুলো বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা হয়।

বেইজিং, দিল্লি—উভয় শহরেই বাইরে থেকে আসা গাড়িগুলোকে মাশুল গুণতে হয়। যুক্তরাজ্যের সেন্ট্রাল লন্ডনে সপ্তাহের কর্মদিবসগুলোতে (সোম থেকে শুক্রবার) সকাল সাতটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে গাড়ি ঢুকলেই ‘কনজেশন চার্জ’ দিতে হয়। এটি বর্তমানে দিনে সাড়ে ১১ পাউন্ড (১৩শ’ টাকারও বেশি)। লন্ডনসহ বড় পশ্চিমের বড় বড় শহরগুলোতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আয়ের বড় উৎস হলো ট্রাফিক আইন ও সংকেত না মানার কারণে জরিমানা। বেআইনি পার্কিং, নির্দিষ্ট গতি সীমা না মানার বিষয়টি ক্যামেরার মাধ্যমে চিহ্নিত করে বাড়ির ঠিকানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় জরিমানার নোটিশ। নির্দিষ্ট সময়ের আগে সেই জরিমানা পরিশোধে যেমন ছাড় আছে, তেমনি বিলম্বের জন্য আছে চড়া অংকের জরিমানা। পশ্চিমের বড় বড় শহরগুলো মহাসড়কগুলোতে ডিসপ্লে বোর্ডে যানজট সম্পর্কিত তথ্য থাকে। এছাড়া চালকরা জিপিএস যন্ত্রের মাধ্যমেও সামনে পথের অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পান। এর ফলে তাদের আগেভাগেই সম্ভাব্য বিকল্প পথ বেছে নেওয়ারও সুযোগ থাকে। সম্প্রতি বাংলাদেশেও গুগল তার মানচিত্রে যানজট সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য দেওয়া শুরু করেছে। 

ব্যতিক্রমী কিছু ঘটনা ছাড়া বিশ্বের আধুনিক ও বড় শহরগুলোর সৌন্দর্য হলো নির্দিষ্ট লেনে সারিবদ্ধভাবে যান চলাচল। অ্যাম্বুল্যান্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি এলে অন্য গাড়িগুলো নিজ নিজ লেনে আরো কিছুটা চেপে গিয়ে সেগুলোকে যাওয়ার জন্য জায়গা করে দেয়। বার্লিনের গণপরিবহন ব্যবস্থা এতোই সাজানো যে রেল স্টেশন থেকে বেরিয়ে বাসরুট বা কাছাকাছি অন্য কোনো গন্তব্যের পাতাল ট্রেন পাওয়া যায়। ইউরোপ, আমেরিকার অন্য শহরগুলোতেও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে।

শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে গাড়ি চলার পরও যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ট্রাফিক জ্যামের জন্য প্রায়ই সংবাদ মাধ্যমে শিরোনাম হয়। ২০১৫ সালের অক্টোবরে চীনে ছুটির সময় ৫০ লেনের বেইজিং-হংকং-ম্যাকাও এক্সপ্রেসওয়েতে বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়েছিল। ২০১০ সালে চীনের ইনার মঙ্গোলিয়া সায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল ও পেইচিংয়ের মধ্যে সড়কে ৭৪ মাইল লম্বা যানজট সৃষ্টি হয়েছিল এবং যা স্বাভাবিক হতে ১২ দিন লেগেছিল। এখন ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি নতুন নতুন সড়ক ও ফ্লাইওভার নির্মাণের মাধ্যমে যানজট কমাচ্ছে দেশটি।

তবে বিশ্বের বড় শহরগুলোতে বাসিন্দারা ব্যক্তিগত গাড়ির চেয়ে গণপরিবহনই বেশি ব্যবহার করে থাকেন। এ ক্ষেত্রে বাসের চেয়ে তাদের বেশি পছন্দ ও সাচ্ছন্দ্যের বাহন হলো ট্রেন। বার্লিন ও লন্ডনের যাত্রীরাও স্বল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে বাসের চেয়ে বেশি ভাড়া দিয়েও ট্রেনে চড়ে থাকেন। তারা মূলত বাস ব্যবহার করেন ট্রেন স্টেশন পর্যন্ত। পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকলে অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে অফিসে যান।

মন্তব্য