kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ আগস্ট ২০১৯। ৮ ভাদ্র ১৪২৬। ২১ জিলহজ ১৪৪০

ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহারে আগ্রহ নেই নগরবাসীর

রেজোয়ান বিশ্বাস   

২ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পথচারীর সুবিধার্থে বনানীর ফুট ওভারব্রিজে সংযুক্ত হয়েছে চলন্ত সিঁড়ি। কিন্তু সেদিকে আগ্রহ নেই অধিকাংশের। পথচারীরা সেখানে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে অহরহ। আর দুর্ঘটনা ঘটছে মাঝেমধ্যেই। নানা রকম প্রচারণা, ট্রাফিক পুলিশের কড়াকড়ি নগরবাসীকে আগ্রহী করতে পারেনি ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহারে। রাজধানীর ৭৫টি ফুট ওভারব্রিজে প্রায় অভিন্ন চিত্র। দিনে সেখানে হকার ও ভিক্ষুকদের উপস্থিতি দেখা যায়, আর রাতে বসে মাদকসেবীদের আড্ডা।

পথচারীদের অভিযোগ, ফুট ওভারব্রিজের সিঁড়িগুলো অতিমাত্রায় খাড়া থাকায় উঠতে কষ্ট হয়। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য এসব ব্যবহার করা বেশ কঠিন। আর ব্রিজগুলোর পরিবেশ কমবেশি খারাপ। সেখানে বখাটে মাদকসেবীরা দিনের বেলায়ও জটলা করে থাকে। রাজধানীর বেশ কয়েকটি ফুট ওভারব্রিজ প্রয়োজনীয় স্থানে না দিয়ে অন্যত্র নির্মাণ করা হয়েছে, যা ব্যবহার করতে গেলে মানুষকে অনেকটা ঘুরতে হয়। সর্বোপরি হাতের ইশারা দিয়ে গাড়ি থামিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সুযোগ থাকায় ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার করতে আগ্রহী নয় বেশির ভাগ মানুষ।

রাজধানীর ফুট ওভারব্রিজগুলো ঘুরে দেখা গেছে, দিনে-রাতে অধিকাংশ সময়ই অব্যবহৃত থাকছে তা। যুবক বয়সীরা কেউ কেউ সেদিকে গেলেও অন্যরা রাস্তা পার হচ্ছে ইচ্ছামতো। অনেক স্থানেই ট্রাফিক পুলিশ সহযোগিতা করছে এভাবে রাস্তা পারাপারে। রাজধানীর ফার্মগেট, মৌচাকসহ কয়েকটি স্থানে ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহারকারীদের কিছুটা ভিড় দেখা যায়। তবে যেখানে পথচারী বেশি, সেখানে হকারের উপস্থিতিও বেশি। অনেকগুলোর সিঁড়িতে দেখা যায় সারিবদ্ধ হয়ে বসে আছে ভিক্ষুকরা।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, নিরাপত্তাহীনতা, ভোগান্তিসহ নানা কারনে পথচারীরা ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহারে আগ্রহ হারিয়েছে। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সেখানে যথাযথ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারেনি। অথচ সাধারণ মানুষ যাতে ব্যস্ত সড়কের বিকল্প পথে রাস্তা পার হতে পারে সে জন্যই ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ।

ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (উত্তর) মোসলেউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ফুট ওভারব্রিজগুলো মূলত সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণে। এর পরও নিরাপত্তার বিষয়টি দিনের বেলা আমরা দেখি। রাতে পুলিশের ক্রাইম বিভাগ খোঁজ নিয়ে থাকে।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পরিবেশ সার্কেল) সিহাব উল্লাহ বলেন, ‘ফুট ওভারব্রিজের সার্বিক দায়িত্ব সিটি করপোরেশন পালন করে থাকে। তবে নিরাপত্তার বিষয়টি দেখার দায়িত্ব পুলিশের। এগুলো সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য করা হয়েছে, দুর্ভোগের জন্য নয়। সেখানে দিনের বেলা কোনো সমস্যা নেই। তবে রাতে নিরাপত্তা সমস্যা থাকতে পারে। কারণ অনেক সময় রাতে এসব স্থানে মাদকসেবী ভবঘুরে লোকজন অবস্থান নেয়।’

মন্তব্য