kalerkantho

বুধবার । ২১ আগস্ট ২০১৯। ৬ ভাদ্র ১৪২৬। ১৯ জিলহজ ১৪৪০

সব রাস্তায় জেব্রা ক্রসিং নেই

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল   

২ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিপুল অর্থ খরচ করে রোড মার্কিং মেশিন কিনেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। কিন্তু সংস্থাটির নির্ধারিত চিহ্নিত স্থানেগুলোতে সড়কে জেব্রা ক্রসিং ও রোড মার্কিং নেই। কিছু কিছু স্থালে থাকলেও মুছে যাচ্ছে।

জেব্রা ক্রসিং ও রোড মার্কিং থাকলেও এ সম্পর্কে গাড়িচালক ও পথচারীদের সচেনতা না থাকায় মাঝে-মধ্যেই বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।

ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (যান্ত্রিক-সার্কেল) মো. আনিছুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের সব রাস্তায় জেব্রা ক্রসিং বা রোড মার্কিং নেই। রাস্তা যখন তৈরি করা হয়, তখনই মার্কিংয়ের কাজ করা হয়। এ ছাড়া আলাদাভাবে সিটি করপোরেশনের ওই ধরনের কোনো কার্যক্রম নেই। যেসব রাস্তায় মার্কিংয়ের দরকার হয়, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ থেকে আমাদের সেগুলোর তালিকা করে দেওয়া হয়। আমরা সে অনুযায়ী কাজ করি। তবে ভাল নয় বলে অনেক সড়কে আমাদের ইচ্ছা থাকা সত্বেও রোড মার্কিং মেশিন ব্যবহার করতে পারি না।’

নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় সব দেশেই যেখানে রাস্তায় ক্রসিং রয়েছে সেখানে জেব্রা ক্রসিংও থাকে। পথচারীরা একটি নির্দিষ্ট সময়ে জেব্রা ক্রসিং দিয়ে রাস্তা পারপার হয়। আমাদের জেব্রা ক্রসিং ব্যবস্থা খুব একটা কার্যকর দেখছি না। আর অনেক স্থানে জেব্রা ক্রসিং থাকলে চালক আর পথচারীদের অসচেতনায় তা মানা হয় না।’

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক দুর্ঘটনা বিষয়ক গবেষণা কেন্দে র এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকায় বছরে চার শতাধিক দুর্ঘটনা ঘটে। যার মধ্যে ২৬ শতাংশ পথচারী রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। সেখানে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে পথচারীদের জে বা ক্রসিং না মানা ও  ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করার বিষয়টি চিহ্নিত করা হয়েছে।

ডিএসসিসি ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) বলছে, রাস্তা ভালো না হলে রোড মার্কিং করলেও তিন মাসের বেশি থাকে না। বর্ষাকালে অতিবৃষ্টির ফলে অনেক সড়কে রোড মার্কিং বা জেব্রা ক্রসিং উঠে যায়। গত অর্থবছরে (২০১৬-১৭) এ কাজের জন্য ডিএসসিসির প্রায় ২ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। তবে চলতি অর্থবছরে আলাদা বরাদ্দ নেই। আগের বছরের টাকা দিয়েই চলছে এ বছরের কাজ।

একাধিক চালক ও পথচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেব্রা ক্রসিং ও রোড মার্কিং ব্যবহারের নিয়ম-কানুন জানা নেই অধিকাংশ চালকের। পথচারীদেরও অনেকেই জেব্রা ক্রসিং ব্যবহারে নিয়ম জানেন না। ট্রাফিক সংকেত না দিলেও যানবাহনের ফাঁক-ফোঁকর দিয়ে রাস্তা পার হতে যান।

নগর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকার মতো জনবহুল নগরের জন্য কোনটি বেশি প্রযোজ্য; জেব্রা ক্রসিং নাকি ব্যয়বহুল ফুটওভার ব্রিজ এ নিয়ে মতভেদ আছে। ঢাকার ফুটওভার ব্রিজগুলো নারী, শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য উপযোগী করে তৈরি করা হয় না। এগুলো যথাযথ স্থানেও তৈরি হয়নি। ফলে নাগরিকদের মধ্যে এর ব্যবহারে অনীহাও দেখা যায়।

পথচারীদের রাস্তা পারাপারে সচেতনার অভাব রয়েছে বলে মনে করেন ডিএসসিসির মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের নাগরিকগণ রাস্তা পারাপারে আরো সচেতন হলে সড়ক দূর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে সবাইকে আরো দায়িত্বশীল হওয়ারও আহবান জানান তিনি।

মন্তব্য