kalerkantho

মঙ্গলবার। ২০ আগস্ট ২০১৯। ৫ ভাদ্র ১৪২৬। ১৮ জিলহজ ১৪৪০

সড়কে শৃঙ্খলা আনতে কঠোর আইন হচ্ছে

মন্ত্রিসভার আগামী বৈঠকে উপস্থাপনের প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সড়কে শৃঙ্খলা আনতে কঠোর আইন হচ্ছে

প্রভাবশালী পরিবহন নেতাদের চাপে বিদ্যমান মোটরযান আইনের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কঠোর ‘সড়ক পরিবহন আইন’ প্রণয়নের বিষয়টি এত দিন ঝুলে ছিল। এবার সেই চাপ থেকে মুক্ত হয়ে প্রণীত খসড়াটি আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থীর প্রাণহানির পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই আইনের খসড়া অনুমোদনের বিষয়টি সামনে এসেছে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সড়ক পরিবহন আইন আগামী সপ্তাহেই মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল  সকালে সেতু ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদনের প্রায় দেড় বছরের মাথায় খসড়াটি আইনে পরিণত হওয়ার বিষয়টি গতি পেল।

ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে কমপক্ষে অষ্টম শ্রেণি পাসের বাধ্যবাধকতা ও গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে শাস্তির বিধান রেখে নতুন ওই আইনের খসড়া গত বছরের ২৭ মার্চ মন্ত্রিসভায় নীতিগত অনুমোদন পায়। পরে সেটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

মন্ত্রিসভার পরবর্তী বৈঠকেই সড়ক পরিবহন বিষয়ে নতুন আইন উত্থাপনের পর সরকারের চলতি মেয়াদেই তা পাস করা হবে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন—এই সময় পর্যন্ত ধৈর্য ধরতে হবে। ক্লাসে ফিরে যেতে হবে।

সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আগামী সোমবার মন্ত্রিসভার পরবর্তী বৈঠকেই সড়ক পরিবহন আইনের খসড়া উত্থাপন করার জন্য আইনমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেখানে অনুমোদনের পর এই মেয়াদেই জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে তা পাস হবে বলে আমরা আশাবাদী। আর আইনটি পাস হলে সড়কের বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সরকারের পক্ষ থেকে আরো কার্যকর ভূমিকা পালন করা যাবে।’

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ ও দুর্ঘটনা রোধকল্পে দ্রুত সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়নের সুপারিশ করেছিল সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গত ২৫ মে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ওই সুপারিশ করা হয়।

এদিকে গতকাল সড়ক পরিবহন আইনের খসড়ার ভেটিং (পরীক্ষা-নিরীক্ষা) সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, ভেটিং শেষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এ সম্পর্কিত নথিতে অনুমোদন দিয়েছেন। নথিটি এখন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক গতকাল জানান, খসড়াটি যাচাই-বাছাই শেষ করেছে আইন মন্ত্রণালয়। গতকালই ভেটিং শেষে অনুমোদন করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আইন সম্পর্কে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘কিছুদিন ধরে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক রকমভাবে সড়ক দুর্ঘটনা হচ্ছে। আমরা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে দেখার চেষ্টা করেছি—রাস্তার কারণে, গাড়ির কারণে, মানুষ চলাচলের কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এসব বিষয়ে দৃষ্টি রেখেই কাকতালীয়ভাবে আইনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।’

আনিসুল হক বলেন, আইনের খসড়াটি মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হবে। প্রধানমন্ত্রী চান এটা।

নতুন সড়ক পরিবহন আইনের খসড়ায় চালককে লাইসেন্স দিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত আছে।  বিভিন্ন অপরাধে বিদ্যমান মোটরযান আইনের চেয়ে বেশি মেয়াদে জেল ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এ জন্য শীর্ষস্থানীয় পরিবহন নেতারা এই আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁরা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছেন যাতে আইনটি অনুমোদন দেওয়া না হয়।

সড়ক দুর্ঘটনার দায়ে কঠিন শাস্তির প্রস্তাব আর ট্রাকচাপা দিয়ে মানুষ হত্যার অপরাধে ফাঁসির রায়ের বিরুদ্ধে গত বছর ধর্মঘটে গিয়েছিল পরিবহন শ্রমিকরা। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করলে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে। চালকের সহকারী হতে হলেও লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। এ জন্য অন্তত পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ হতে হবে। বিদ্যমান মোটরযান অধ্যাদেশে সহকারীদের লাইসেন্সের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নেই। প্রস্তাবিত আইনের খসড়ায় ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালালে অনধিক ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। মোটরযান অধ্যাদেশে এ জন্য তিন মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। চালকের সহকারীর লাইসেন্স না থাকলে এক মাসের জেল বা ২৫ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে নতুন আইনের খসড়ায়।

নতুন আইন পাস হলে কেউ গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না। এ আইন ভাঙলে এক মাসের কারাদণ্ড বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা হতে পারে। ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে—এমন অপরাধের ক্ষেত্রে পুলিশ বিনা পরোয়ানায় চালকদের গ্রেপ্তার করতে পারবে।

মন্তব্য