kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

ভেস্তে গেছে শিক্ষার্থীদের সরকারি বাস সেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত শহরে শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়ার জন্য বিশেষ বাস সেবা রয়েছে। রাজধানী ঢাকায়ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজে এ সেবা চালু আছে। বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) থেকে সরকারিভাবে দেওয়া সীমিত বাসে শুরু হওয়া উদ্যোগটি মূলত ভেস্তে গেছে। ১৪টি স্কুলে বাস সেবা চালু হলেও তা আর সেভাবে কার্যকর নেই। ফলে বিপুল জনসংখ্যার ঢাকা শহরে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াতে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। বাধ্য হয়েই তাদের গণপরিবহনে ঝুলতে ঝুলতে যাতায়াত করতে হয়। আবার গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের অর্ধেক ভাড়ার নিয়মও মানছে না বেশির ভাগ গণপরিবহন। এ অবস্থায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনুমোদনহীন ঝুঁকিপূর্ণ ভ্যানে ভাড়ায় চলাচল করতে হচ্ছে খুদে শিক্ষার্থীদের।

রাজধানীতে মাধ্যমিক স্কুলের সংখ্যা ৩৪১। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের কলেজ ২১০টি। কিন্ডারগার্টেন স্কুল আছে হাজারখানেক। আর ইংলিশ মিডিয়ামসহ নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে অর্ধশতাধিক। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বড় একটি অংশেই রয়েছে দুই শিফট। ফলে সকাল, দুপুর ও বিকেলে এই স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে হচ্ছে অসহনীয় দুর্ভোগ মাথায় নিয়ে। আবার স্কুল বাস না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী ব্যবহার করে ব্যক্তিগত গাড়ি। ফলে স্কুল চলাকালে বেড়ে যায় ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা। এর ফলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ও রাজপথে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। বিশেষ করে স্কুল শুরু ও ছুটির সময়ে ধানমণ্ডি, বেইলি রোড, মোহাম্মদপুর, মিরপুর-১০সহ বিভিন্ন এলাকায় দুঃসহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বিআরটিসি, বিআরটিএ, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে কোনো কর্তৃপক্ষ না থাকায় এ অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না।

বিআরটিসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ১৫ জানুয়ারি আজিমপুর ও মিরপুরের মধ্যে ২৬টি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী পরিবহনের জন্য প্রতিটি ৫২ আসনের ১৪টি স্কুল বাস চালু করা হয়। অভিভাবকরা বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় বাসে উঠতেন শিশুদের নিয়ে। তিন মাসের মাথায় সেগুলো অনিয়মিত হয়ে পড়ে। এখন প্রায় বন্ধই হয়ে গেছে এই সেবা।

বিআরটিসির কর্মকর্তারা বলছেন, ভর্তুকি দিতে হয় বলে এ ধরনের বাস চালাতে আগ্রহ নেই তাঁদের। স্কুল বাস সেবার জন্য ৩৩টি স্টপেজ স্থাপন, ইলেকট্রনিক পাঞ্চ কার্ডের ব্যবহার, ছয়টি যাত্রীছাউনি তৈরিসহ কিছু কাজ শুরু করেছিল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পরে আর তা গতি পায়নি। শুরুর দিকে করা বিআরটিসির হিসাব অনুযায়ী, ১৪টি বাসের মাসিক আয় ধরা হয় তিন লাখ ২৭ হাজার ৬০০ টাকা। এর বিপরীতে ব্যয় ধরা হয় ৯ লাখ ১৪ হাজার ৩৬৮ টাকা। ঘাটতি থাকে পাঁচ লাখ ৮৬ হাজার ৭৬৮ টাকা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিসির এক কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এসব স্কুল বাসে শিক্ষার্থী আনা-নেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করে দিতে পারত। কিন্তু সেবা চালুর পর সমন্বয় ছিল না বিআরটিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘অন্যান্য দেশের বিভিন্ন শহর এলাকার শিক্ষার্থীরা অন্য এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারে না। কিন্তু আমাদের সেটা নেই। প্রথমত, স্কুলগুলোর নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি সমন্বিত পরিকল্পনা লাগবে।’

তবে আশার বাণী শোনালেন বিআরটিসির চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন ভুইয়া। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘আমি আসার পর স্কুল বাস চালুর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। স্কুল বাস বাড়ানোর পাশাপাশি সেগুলো সচল রাখতে আমরা ব্যবস্থা নেব।’

মন্তব্য