kalerkantho

রবিবার। ১৮ আগস্ট ২০১৯। ৩ ভাদ্র ১৪২৬। ১৬ জিলহজ ১৪৪০

অব্যবস্থাপনায় রাজধানীর ৮৪ ফুট ওভারব্রিজ

তোফাজ্জল হোসেন রুবেল   

২ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অব্যবস্থাপনায় রাজধানীর ৮৪ ফুট ওভারব্রিজ

কমলাপুর রেলস্টেশনের এই বড় ওভারব্রিজটি চলে গেছে হকারদের দখলে। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতায় মোট ৮৪টি ফুট ওভারব্রিজ রয়েছে। এর মধ্যে ডিএসসিসিতে ৩২টি ও ডিএনসিসিতে ৫২টি। দুই সিটির এই ফুট ওভারব্রিজগুলোর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে ২৩টি। প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা এ ফুট ওভারব্রিজগুলোর বেশির ভাগ পথচারীরা ব্যবহার করে না। বিপুল অর্থ ব্যয়ে এ ফুট ওভারব্রিজগুলো যথাস্থানে নির্মাণ করা হয়নি বলে ব্যবহৃত হচ্ছে না। এ ছাড়া হকার, ছিন্নমূল মানুষ ও ভিখারিদের উৎপাতে এই ওভারব্রিজগুলো দিয়ে চলা দায়। সঙ্গে রয়েছে অপরিচ্ছন্নতা ও দুর্গন্ধ। আর ফার্মগেট, নিউ মার্কেট ও মিরপুরের মতো জনবহুল এলাকায় ফুট ওভারব্রিজগুলো বিজ্ঞাপনের ব্যানার দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। আর রাতের বেলায় এই ওভারব্রিজগুলো দখল করে নেয় অপরাধীরা।

জানতে চাইলে ডিএসসিসির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, পরিষ্কার বাতাস ও টেকসই পরিবেশ (কেস) প্রকল্পের পরিচালক শিহাব উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে দুই সিটিতে নতুন করে মোট ২৩টি অত্যাধুনিক ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করেছি। যথাযথ স্থান মেনেই এগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। কিছু ফুট ওভারব্রিজ দিয়ে লোকজন কম চলাচল করে। ফুট ওভারব্রিজগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা বিধান করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।’

ডিএসসিসি এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবি সুফিয়া কামাল হলের সামনে কেস প্রকল্পের আওতায় একটি ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। যথাস্থানে ব্রিজটি নির্মাণ না হওয়ায় পথচারীরা তা ব্যবহার করে না। এ ব্রিজটি দিনে হাতে গোনা দুই-চারজন মানুষও ব্যবহার করে কি না সন্দেহ আছে। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনসংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও রমনা পার্কের মাঝের ফুট ওভারব্রিজটি প্রায় ১৫ বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে। তিন কোটি টাকা ব্যয়ে এ ফুট ওভারব্রিজটি নির্মাণের পর থেকেই অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দিনের বেলায় ভাসমান মাদকসেবী আর রাতের বেলায় যৌনকর্মীদের দখলে থাকে ব্রিজটি। একই অবস্থা বুয়েট ক্যাম্পাসে নির্মিত ফুট ওভারব্রিজটিরও। এ ছাড়া কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডের ওভারব্রিজ, আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওভারব্রিজটি, মিরপুর ১৩ নম্বরের ন্যাম গার্ডেনের সামনের ওভারব্রিজ, মিরপুর রোডে টেকনিক্যাল মোড়সংলগ্ন দারুস সালাম অ্যাপার্টমেন্ট ওভারব্রিজ, শাহবাগ শিশুপার্কসংলগ্ন ফুট ওভারব্রিজসহ অনেক ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার হয় না বললেই চলে। কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থান নির্বাচন ভুল এবং নির্মাণ ত্রুটির কারণে এই ওভারব্রিজগুলো ব্যবহার করে না পথচারীরা। এই ওভারব্রিজগুলোর ছোট ছোট অথচ খাড়া সিঁড়িতে পথচারীদের পা ফেলতে সমস্যা হয়। এই খাড়া সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে ও নামতে কষ্ট হয় বয়স্ক পথচারীদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ফার্মগেট, নিউ মার্কেট, শাহবাগ, মিরপুর ১ ও ১০ নম্বর, খিলক্ষেত, এয়ারপোর্ট, আবদুল্লাহপুরের ফুট ওভারব্রিজগুলো হকার ও ভিখারিরা দখল করে রেখেছে। এই ফুট ওভারব্রিজগুলো দিয়ে পথচারী পারাপার বেশি হওয়ায় হকার ও ভিক্ষুকদের কাছে তা খুব পছন্দের। নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে দায়িত্বরত পুলিশ ও হকার নেতাদের নিয়মিত চাঁদা দেয় ভাসমান হকাররা।

রাজধানীর বনানীতে দেশের প্রথম চলন্ত সিঁড়িযুক্ত ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হয়। এরপর বিমানবন্দরসংলগ্ন আরেকটি ফুট ওভারব্রিজে চলন্ত সিঁড়ি যুক্ত করা হয়। কিন্তু চলন্ত সিঁড়িগুলো সন্ধ্যার পর বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে সেখান দিয়ে চলাচলকারী পথচারীরা পড়ে ভোগান্তিতে। 

মন্তব্য