kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

দৃষ্টান্ত পাশের কলকাতায়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দৃষ্টান্ত পাশের কলকাতায়

কলকাতার রাস্তায় চলমান গাড়ির গতি ডিজিটাল মিটারে দেখানো হয়

ভারতের কলকাতায় প্রত্যেকেরই ট্রাফিক ব্যবস্থার প্রতি সম্মান রয়েছে। রয়েছে বৈদ্যুতিক ট্রাফিক সিস্টেম ও স্পিড মিটার। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের গোপন ক্যামেরায় ধরে তাৎক্ষণিক জরিমানা করা হয়। এভাবে খুব বেশি লোকবল ব্যবহার না করেই মেগা সিটির ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল রাখা সম্ভব হচ্ছে। যানজট নেই বললেই চলে। অবশ্য অতি সম্প্রতি কলকাতায় মেট্রোর উন্নয়নমূলক কাজ শুরুর কারণে এবং কোথাও উড়ালপুল নির্মাণের ফলে ট্রাফিক গতি হারিয়েছে। মূল সড়কের পাশের গলিগুলোতে জট লাগছে। এছাড়া প্রতিদিন শত শত নতুন গাড়ি নামছে শহরে। রোজ বাড়ছে মানুষের উপস্থিতি। গণপরিবহনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে অ্যাপস নির্ভর গাড়ি পরিষেবা সংস্থার সেবা। এর বাড়তি চাপ পড়ছে রাজধানীতে।

কয়েক বছর আগে কলকাতা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন নিয়ে আসে স্পিড মিটার ও গোপন সিসি ক্যামেরা। ক্যামেরা গতি এবং গাড়ির অবস্থার পর্যবেক্ষণ করে নিচ্ছে। কেউ সিগন্যাল ব্রেক করলেই মোবাইলে জরিমানার অঙ্ক দেওয়ার নোটিশ পৌঁছে যাচ্ছে। সঙ্গে গাড়ির অবস্থানের ছবিও।

কলকাতার কেন্দ্রভাগে রেল সংযোগ ছিল না। চাহিদা পূরণে কলকাতায় হুগলী নদীর তীর বরাবর চক্র রেল চালু করা হয়েছে। পূর্ব রেল দ্বারা পরিচালিত এই চক্র রেল এখন শহরজুড়ে চমৎকার সংযোগব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। পশ্চিমবঙ্গের আর অন্য কোনো স্থানে এই চক্র রেল পরিষেবা নেই।

কলকাতা মেট্রো হলো দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ও এশিয়ার পঞ্চম মেট্রো। বর্তমানে কলকাতা মেট্রোর মোট দৈর্ঘ্য ২৮.১৪ কিলোমিটার ও এর স্টেশন সংখ্যা ২৫টি। এটি প্রতিদিন ছয় লাখ ৫০ হাজার যাত্রী পরিবহন করে। এ ছাড়া ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো বা কলকাতা মেট্রো লাইন ২-এর নির্মাণ চলছে। শহরে ট্রাম চলে আগে থেকেই।

সোদপুর থেকে বাজবজ কিংবা হাওড়া থেকে দমদম বিমানবন্দর- গুরুত্বপূর্ণ এই চার পয়েন্টের কোথাও কোনো যানজট দেখা যায় না। এসব পয়েন্টে শুধু সিগন্যালিং ট্রাফিক ব্যবস্থা রয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের কনস্টেবল পদমর্যাদার কয়েকজন পুলিশ থাকলেও তাঁরা যান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করেন না। বেশির ভাগ সময় পুলিশ থাকছে না শহরের বড় বড় কয়েকটি পয়েন্টেও। তবে ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্টরা শহরের অলিগলি ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যদি কোনো গাড়িকে সন্দেহ হয়, ধরে কাগজপত্র পরীক্ষা করে সঠিক পেলে ছাড়ছেন আর সঠিক না হলেই আর্থিক জরিমানা করা হচ্ছে।

কলকাতা পুলিশের ২৫টি ট্রাফিক গার্ড বা থানা আছে। সেখানে দুজন ডেপুটি কমিশনার এবং চারজন সহকারী কমিশনার দায়িত্ব পালন করছেন। ট্রাফিক সার্জেন্ট রয়েছেন এক হাজার ৫৫৩ জন। তাঁদের সঙ্গে কলকাতা পুলিশও যৌথভাবে ট্রাফিক ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণে কাজ করে থাকে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুসারে কলকাতার জনসংখ্যা প্রায় ৪৪ লাখ ৮৬ হাজার ৬৭৯ জন। প্রতি বর্গকিলোমিটারে বাস ২৪ হাজার ২৫০ জনের।

মন্তব্য