kalerkantho

শনিবার । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৬ রবিউস সানি               

এসিনামা

হাঁসফাঁস গরমে মুক্তির ছাড়পত্র দিতে পারে এসি। বাজারে আছে হরেক রকমের এসি। কোনটা আপনার রুমের জন্য শ্রেয় কিংবা দামই বা কেমন—এসব খুঁটিনাটি নিয়ে সাজানো হয়েছে এবারের সওদাপাতি। আর বাজার ঘুরে সেসব খোঁজখবর নিয়েছেন পাঠান সোহাগ

১৩ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



এসিনামা

মডেল : সোহান ও ইভা, ছবি : মোহাম্মদ আসাদ

এসির রকমফের

 

এসি বা এয়ারকন্ডিশনার সাধারণত চার ধরনের হয়—স্প্লিট, উইন্ডো, প্যাকেজ টাইট, সেন্ট্রাল এসি। 

স্প্লিট ধরনের এসি আবাসিক ভবন, ছোট ও মাঝারি বাণিজ্যিক ভবনে ব্যবহার করা হয়। এটির দুটি অংশ থাকে একটি হলো আউটডোর ইউনিট, যা ভবনের বাইরের অংশে স্থাপন করতে হয়। বাইরের অংশে কম্প্রেসর ও কনডেন্সার থাকে। আর যে রুমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ করা হবে সেখানে স্থাপন করা হয় ইনডোর ইউনিট। এই অংশ ইনভার্টার ব্লোয়ার ফ্যান সমন্বয়ে তৈরি। বর্তমানে স্প্লিট এসি বেশি ব্যবহার করা হয়।

উইন্ডো এসিও সাধারণত আবাসিক ভবনে ব্যবহার করা হয়। একসময় এটি খুব জনপ্রিয় ছিল।

সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে কনকর্ড আর্কেডিয়া মার্কেট নাফিসা ট্রেডের ব্যবস্থাপক ওমর ফারুক সবুজ জানান, এ ধরনের এসি বাড়ির জানালায় বসাতে হতো। কারণ ভেতরের গরম হাওয়া বাইরে বের করে দিত। আর বাইরের ঠাণ্ডা হাওয়া ঘরের ভেতরে প্রবেশ করতে সাহায্য করত। বর্তমান সময়ে  উইন্ডো এসির ব্যবহার কমেছে। এখন জনপ্রিয় হচ্ছে স্প্লিট এসি। তবে কম টাকায় উইন্ডো এসি পাওয়া যায়। এসি কেনার সময় অবশ্যই অ্যাডজাস্টেবল হোসটি দেখে কেনা উচিত। সিঙ্গেল হোসের চেয়ে ডুয়াল হোসের এসি ঘর ঠাণ্ডা রাখতে পারে বেশি।

এসির ৩ নম্বর ধরনটি হচ্ছে প্যাকেজ টাইট এসি। এ ধরনের এসি সাধারণত তিন টন থেকে ২০ টনের। এর সব অংশ একটা কেসিংয়ের মধ্যে আবদ্ধ থাকে। ওমর ফারুক সবুজ আরো বলেন, ‘প্যাকেজ টাইপ এসিকে সিলিং টাইপ এসিও বলা হয়। কারণ এগুলো সিলিংয়ের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে।’

সেন্ট্রাল এসি একটি নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এ ধরনের এসি অনেক রুমের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

 

 

রুম বুঝে এসি

আবাসিক বাসার প্রতি রুমের আয়তন যদি ১০০ থেকে ১২০ বর্গফুট হয়, তাহলে প্রয়োজন হবে এক টনের এসি। ১২০ থেকে ১৮০ বর্গফুটের বাসার জন্য দরকার হবে দেড় টনের এসি। ১৮০ থেকে ২২০ বর্গফুটের বাসার জন্য দুই টনের এসি। আবাসিক বাসাবাড়িতে এক থেকে তিন টনের এসি ব্যবহার করাই ভালো।

বাণিজ্যিক ভবনের আয়তন বেশি হওয়ায় সেন্ট্রাল বা সিলিং এসি ব্যবহার করা হয়। এগুলো সাধারণত তিন টন থেকে ২০ টনের হয়ে থাকে। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম মার্কেটের ওয়ালটনের শোরুমের বিক্রয়কর্মী সজল সরকার বলেন, ‘বাণিজ্যিক ভবনের তুলনায় আবাসিক ভবনের এয়ারকন্ডিশনার স্থাপনের খরচ অপেক্ষাকৃত কম। আবাসিক ভবনে আনুমানিক প্রতি বর্গফুটে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা খরচ হয়। ছোট বা মাঝারি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে প্রতি বর্গফুট ৪৫০ থেকে ৬০০ টাকা খরচ হয়। এ ছাড়া বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে প্রতি বর্গফুট ৯০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা খরচ হয়।

 

এসি সংযোজনে খরচাপাতি

সাধারণত শোরুম থেকে এসি কেনার পর সব দায়িত্ব ওই শোরুম বা কম্পানির। পরিবহন থেকে শুরু করে এসি সংযোজন পর্যন্ত সব খরচ বহন করে থাকে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান। তবে কিছু প্রতিষ্ঠান এসি সংযোজনের সময় ফ্রি সার্ভিস (ইনস্টলেশন) দিয়ে থাকে। আনুষঙ্গিক সব উপাদান গ্রাহককে কিনে দিতে হয়। বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের বাটারফ্লাইয়ের শোরুম ব্যবস্থাপক জানান, ‘বাটারফ্লাই, এলজি, ইকো প্লাসের যেকোনো ধরনের এসি কিনলে ফ্রিতে ইনস্টলেশন করে দেওয়া হয়। ক্রেতার শুধু অ্যাঙ্গেলটা কিনে দিতে হয়। আর বাকি সব কিছু ওই প্রতিষ্ঠান বহন করে।’

রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সুপারমার্কেটের গ্যালাক্সি ইলেকট্রনিকসের বিক্রয়কর্মী মাহামুদ হোসেন বলেন, ‘আমরা অতিরিক্ত চার্জ নিই না। গ্রাহককে যতটা সম্ভব সেবা দেওয়ার চেষ্টা করি।’

ওয়ালটন প্লাজার ভালুকা ব্রাঞ্চের ব্যবস্থাপক জিয়াউর রহমান জানান, ‘কিছু কিছু মডেলের ইনস্টলেশন চার্জ ফ্রি, আবার কিছু কিছু মডেলের ক্ষেত্রে কিছু খরচ গ্রাহককে দিতে হয়। সে ক্ষেত্রে গ্রাহকের এক থেকে দেড় হাজার টাকা বাড়তি খরচ হবে।

 

আছে ইনভার্টার প্রযুক্তির এসি

ইনভার্টার প্রযুক্তির এসির কম্প্রেসারে রয়েছে কার্বোমুড, যা কিনা রুমের তাপমাত্রা দ্রুত কমিয়ে আনে। নিশ্চিত করে দ্রুত শীতলীকরণ। এই প্রযুক্তিতে কম্প্রেসারের গতি নিয়ন্ত্রিত হয় পিসিবি বা মাদারবোর্ডে বিশেষ প্রগ্রামিংয়ের দ্বারা। রুমের তাপমাত্রা অনুযায়ী কম্প্রেসারের গতি নিয়ন্ত্রিত হয়। অর্থাৎ রুমের তাপমাত্রা কমার পাশাপাশি কম্প্রেসারের  গতিও কমে আসে। যখন প্রয়োজন পড়ে শুধু তখনই বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হয়। আবার ইনভার্টার প্রযুক্তির কম্প্রেসার চালু হতে প্রায় ৮-১০ গুণ কম বিদ্যুৎ লাগে, চলে অতি লো ভোল্টেজেও। এসব কারণে ইনভার্টার এসিতে একদিকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে, অন্যদিকে কম্প্রেসারের স্থায়িত্বও বৃদ্ধি করে। ইনভার্টার প্রযুক্তির এসির দাম ইনভার্টার প্রযুক্তিহীন এসি থেকে ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা বেশি হয়ে থাকে।

 

এসি কেনার পরে রক্ষণাবেক্ষণ

বিভিন্ন এসি কম্পানির ব্যবস্থাপকরা জানান, এসি সঠিক দক্ষ লোকের মাধ্যমে সংযোজন করতে হবে। ইনডোর আর আউটডোরের মধ্যে পর্যাপ্ত জায়গা রাখতে হবে। যেন প্রতিটি কোনায় বাতাস ছড়াতে পারে। নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার করতে হবে। এ ছাড়া এসি রক্ষণাবেক্ষণে নানা খুঁটিনাটি বিষয় রয়েছে। কিছু এসিতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সমস্যা হতে পারে। এর বাইরে  বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা