kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ইতিহাস খুব গোলমেলে গল্প

প্রতীক রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়

৭ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ইতিহাস খুব গোলমেলে গল্প

অমিয়ভূষণ মজুমদার

ভারতবর্ষের ভৌগোলিক মানচিত্রে একসময় গভীর ও সমৃদ্ধ অরণ্যের বিস্তার ছিল। আধুনিক সভ্যতার মারণাস্ত্রে সেই বিস্তৃত জনপদের ছিটেফোঁটা অংশ কোথাও কোথাও চোখে পড়ে, তবে তা সন্তানহারা জননীর মতোই শ্রীহীন। ইতিহাসে সেই সমৃদ্ধ অরণ্যের বিবরণ আমরা পাই। কিন্তু ইতিহাস কি সবটা সত্য বলে? অমিয়ভূষণ মজুমদার তাই বলেছেন, ‘ইতিহাস খুব গোলমেলে গল্প।

বিজ্ঞাপন

’ ফলে শিল্পীর ক্যানভাসে ইতিহাসের সেই সত্যকে উদঘাটন করতে হলে আমাদের যেতে হবে অমিয়ভূষণ মজুমদারের ‘মহিষকুড়ার উপকথা’য়। কৃষিভিত্তিক সভ্যতার জাঁতাকলে কিভাবে অরণ্য ও অরণ্যকেন্দ্রিক জীবনের নিষ্পেষণ হয়েছে তার চাক্ষুষ বিবরণ ‘মহিষকুড়ার উপকথা’। এটি কোচবিহারের মহিষকুড়া নামক একটি গ্রামের বিবরণ। আশফাক নামক এক যুবকের ভূস্বামী কর্তৃক বাস্তুচ্যুত হয়ে স্বামীহারা ও দলচ্যুত বাইদানী নারী কমরুনের সাক্ষাৎ লাভ। কালক্রমে সভ্যতার সঙ্গে যোগাযোগ আরেক ভূস্বামী জাফরুল্লাহর চাকরে পরিণত হওয়া, যে কিনা তার বনচারী সঙ্গী কমরুনের শয্যাসঙ্গী। এই জাফরুল্লাহর বাড়িতে চাকরজীবনে আশফাক হয়ে যায় গাড়িটানা মোষ। মালিকের জমি রাজনীতি, প্রবঞ্চনার মাঝে আশফাক হয়ে পড়ে নীরব প্রতিবাদী। কিন্তু আশফাকের অবচেতনে হারিয়ে যায় আদিম বনচারী জীবন। তার মনের অজান্তেই বুনো বাইসন হাঁক দেয়। আধুনিক যন্ত্রচালিত সভ্যতায় সেই অরণ্য নেই, কিন্তু আমাদের অবচেতন মনে আমরা সেই অরণ্যে যাই, লালন করি সেই জীবনের কথা।

অনুলিখন : পিন্টু রঞ্জন অর্ক



সাতদিনের সেরা