kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০২২ । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

ধরেছে নীলের যমে আর রক্ষা নাই

মুহাম্মদ ইসরাইল হোসেন, বাংলা বিভাগ, সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ

৭ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ধরেছে নীলের যমে আর রক্ষা নাই

দীনবন্ধু মিত্র

বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হওয়ার শতবর্ষ পর ১৮৬০ সালে প্রকাশিত হয় দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীল দর্পণ’ নাটক। স্বদেশপ্রেম, ব্রিটিশদের অত্যাচার, নীল বিদ্রোহ ও সমসাময়িক বাংলার সমাজব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে লেখা এই বইটি ১৮৬১ সালে রেভারেন্ড জেমস লং ‘Nill Durpan, Or the indigo planting miror’ নামে ইংরেজিতে প্রকাশ করেন। এক পর্যায়ে দেশ-বিদেশে নীলকরদের বিরুদ্ধে প্রবল আন্দোলন ও সমালোচনা শুরু হলে শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ সরকার নীল কমিশন স্থগিত করতে বাধ্য হয়; যাতে পরবর্তী সময়ে নীলকরদের অত্যাচারের হাত থেকে দরিদ্র কৃষকদের মুক্তি মেলে। ‘নীল দর্পণ’ নাটকে দেখা যায় স্বরপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত গৃহস্থ গোলক চন্দ্র বসু।

বিজ্ঞাপন

স্ত্রী সাবিত্রী, দুই পুত্র নবীন মাধব ও বিন্দু মাধব এবং দুই পুত্রবধূ সৈরিন্ধ্রী ও সরলতাকে নিয়ে তার সুখের সংসার। অবশ্য এই সুখ স্থায়ী হয়নি বেশিদিন! কারণ ইংল্যান্ডে নীলের চাহিদা বেড়ে গেলে বহু নীলকর এ দেশে আগমন করে এবং ফসলি জমিগুলো গ্রাস করে নেওয়ার পাশাপাশি নীল বুনতে জোরজবরদস্তি করে। রাজি না হলে নবীন মাধবের বাবা গোলক বসুর নামে মিথ্যা মামলা করে। বিচারের নামে প্রহসনের সম্মুখীন করা হয় গোলক বসুকে। কিন্তু গোলক চন্দ্র বসু শেষ পর্যন্ত লজ্জা আর লাঞ্ছনা মাথায় নিয়ে কারাগারেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এমনকি ওদের অত্যাচারের হাত থেকে গর্ভবতী ক্ষেত্রমণিরও রক্ষা হয়নি। বেনিয়া নীলকরদের হাত থেকে হিন্দু, মুসলমান, ধনী-গরিব, উঁচু-নিচু, নারী-পুরুষ সব শ্রেণির লোক অত্যাচারিত হয়েছিল। ট্র্যাজিক মেলোড্রামার ভালো উদাহরণ এই নাটক।



সাতদিনের সেরা