kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৯ নভেম্বর ২০২২ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ ।  ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

মাহসা আমিনি

নাসরীন জাহান

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ১ মিনিটে



মাহসা আমিনি

একটা পাখি হয়েও উড়াল পর্দায়

নিজেকে মুড়িয়ে বেড়াতে এসেছিলাম।

কুর্তিস্তান থেকে, ইরান!

অনন্য এক আতিথেয়তায়,

গুহা গহ্বরে হারিয়ে গেলাম,

প্রভু অসম্ভব সুন্দর পৃথিবীটা মানুষের জন্য বানায়নি?

তোমরা দেখবে, তোমরা ছুটবে,

এই পৃথিবীটা নারীর জন্যও

সভ্যতা কি জানায়নি?

 

আমরা তো চলমান গরাদ,

জগৎ দাপাও, নারীর দেহটারে এত ভয় পাও?

এক কাজ করো,

নারী দেখলেই লজ্জা হারাও,

দেহে কামনার আগুন জ্বালাও,

পাথর ওঠাও, নারীহীন এক জগৎ বানাও।

 

আমার দেহের কোনো অঙ্গই মাঠে ছড়ায়নি,

তা-ও কেন তোমাদের এত ছটফটানি?

তা-ও কেন তোমরা পাগলা কুকুর?

 

ঘরের মধ্যে তা-ও আমার প্রেমের জগৎ

ছিল, ভাই উড়ত সোনাপোকা হয়ে,

মা-বাবা দিত ভালোবাসার ওম।

চারপাশে ছিল বৃষ্টির ঝুম,

তাদের কাছ থেকে ছিটকে নিলে?

রক্তমাংস কেটে ফালা ফালা করলে?

আমার চিৎকার, আমার দাহ

অট্টহাসির তলায় প্রাণ চলে যাওয়া,

 

দেয়ালে দেয়ালে সমুদ্রের স্রোতের মতো

ধাক্কা খেয়ে ফিরে ফিরে এলো।

বিজ্ঞাপন

বাইশ বছরের স্বপ্নাতুর নারী,

প্রেতাত্মা হয়ে গেল!

 

আমি মাহসা আমিনি,

নারী, তুমি যদি চুপ করে থাকো,

সভ্যতা, যদি চুপ করে থাকো,

বলির পাঁঠায় তোমার কন্যা,

সহোদরা আর আম্মা তোমার,

ধীরে ধীরে তারাও রক্ত ছড়াবে,

আগুন হয়ে উড়তে থাকবে, আমার দাহের যামিনী।



সাতদিনের সেরা