kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০২২ । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

দরিয়াবিবির একার লড়াই

হীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, কুমিল্লা

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দরিয়াবিবির একার লড়াই

শওকত ওসমান

শওকত ওসমানের বিখ্যাত উপন্যাস ‘জননী’। এখানে জননী আসলে দরিয়াবিবি। মহেশডাঙার দরিদ্র কৃষক আজহার খাঁর স্ত্রী সে। অন্য দশজন সাধারণ নারীর মতোই তার জীবন।

বিজ্ঞাপন

দরিয়াবিবি সন্তানদের শিক্ষিত করতে চায়। তবে দারিদ্র্যের কারণে এ জন্য তাকে সাহায্য নিতে হয় পরিপার্শ্বের বিভিন্ন ব্যক্তির। বিনিময়ে তাকে চরম মূল্য দিতে হয়। মোটাদাগে এই উপন্যাসে দুটি বিষয়ের ওপর আলো ফেলেছেন লেখক। প্রথমত, সাম্প্রদায়িকতা। দ্বিতীয়ত, পুরুষতান্ত্রিকতা। মহেশডাঙার হিন্দু-মুসলিমরা পরস্পরের বন্ধু হিসেবে জীবন যাপন করত। কিন্তু দুই জমিদারের রেষারেষি তাদের প্রাত্যহিক সহজ-সরল জীবনেও প্রভাব ফেলে। তবে তারা পরে বুঝতে পারে যে তাদের মতো উলুখাগড়ার কথা আদতে জমিদাররা কখনো ভাবেন না। এক জায়গায় চন্দ্র কোটালের স্ত্রী এলোকেশী বলছে, ‘জমিদার জমিদারে ঝগড়া। বড়লোক বড়লোকে দলাদলি। তোদের কী? গাঁয়ে হিন্দু মুসলমানে ঝগড়া তো ভাইয়ের সঙ্গে কী!’ দরিয়াবিবির প্রথম স্বামী মারা যাওয়ার পর তাকে তার দেবরদের কাছে মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়। এমনকি ফেলে আসতে হয় তার সন্তান মোনাদিরকে। আর আজহার খাঁর মৃত্যুর পর দরিয়াবিবির ওপর ইয়াকুবের কর্তৃত্ব পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নিষ্ঠুরতাকে নির্দেশ করে, যে আধিপত্যের জাঁতাকলে পিষ্ট হয় দরিয়াবিবির মতো জননীরা।

 



সাতদিনের সেরা