kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০২২ । ১৭ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

এক নারীর প্রথা ভাঙার লড়াই

প্রাঞ্জল আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এক নারীর প্রথা ভাঙার লড়াই

আবু ইসহাক

আবু ইসহাক সব শ্রেণির পাঠকমহলে বেশি পরিচিত তাঁর ‘জোঁক’ গল্পের কারণে। তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘সূর্য-দীঘল বাড়ী’ একটি শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। কুসংস্কার, ধর্মীয় গোঁড়ামি, পুরুষতন্ত্রের নির্যাতন ও ধনীর শোষণের জাঁতাকলে পিষ্ট গ্রামীণ বাংলাদেশের এক নারীর জীবনসংগ্রামের অনবদ্য দলিল এই উপন্যাস। প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৫৫ সালে।

বিজ্ঞাপন

উপন্যাসের কেন্দ্রে আছে শ্রমজীবী নারী জয়গুন। ক্ষুধার তাড়নায় যে গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি জমিয়েছিল, কিন্তু দ্রুতই আশাভঙ্গ হয় তার। সে আবার ফেরে গ্রামে। গাঁয়ের লোকরা বিশ্বাস করে, এ বাড়িতে ভূত-প্রেত আছে। উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু ছিল ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ, ১৯৪৭-এর দেশভাগ, নবগঠিত পাকিস্তান নিয়ে বাংলার মানুষের আশাভঙ্গ, গ্রামীণ সমাজের কুসংস্কার, মোড়ল শ্রেণির মানুষের ষড়যন্ত্র—সর্বোপরি গ্রামীণ নারীর জীবনসংগ্রাম ও প্রতিবাদী চেতনা। পূর্ব বাংলার বিস্তীর্ণ নদ-নদী, জলাভূমি-কৃষি ক্ষেতের পটভূমিকায় সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, তার মধ্যে রক্তচক্ষু বের করা কতিপয় মানুষ নামের চারপেয়ে জানোয়ার, কিভাবে দিনের পর দিন বছর শতাব্দী ধরে ধর্মীয় ভণ্ডামিতে আবদ্ধ করে রেখেছে সমাজকে, তার প্রতিচ্ছবি দেখা যায় এখানে। আবু ইসহাক খুব কাছ থেকে সমাজের এই পিছিয়ে পড়া অন্ত্যজ ও অনগ্রসর নিবৃত্তকে বড় বেশি মমতায় তাঁর উপন্যাসে স্থান দিয়েছেন।

 



সাতদিনের সেরা