kalerkantho

বুধবার । ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১৩ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪

এটা দুর্ভাগ্যজনক, না হাস্যকর?

আরাফাত কবীর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এটা দুর্ভাগ্যজনক, না হাস্যকর?

খুশবন্ত সিং

ভারতবর্ষ বিভক্তির ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে রচিত খুশবন্ত সিংয়ের উপন্যাস ‘ট্রেন টু পাকিস্তান’। দেশভাগের যন্ত্রণা লেখক বেশ ভালোভাবেই অনুভব করতে পেরেছিলেন, যার চমৎকার উপস্থাপনা দেখা যায় এই উপন্যাসে। ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের একটি গ্রাম মানো মাজরা। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের সেই উত্তাল তরঙ্গের দিনগুলোতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় যখন অজস্র নিরপরাধ মানুষ খুন হচ্ছে, মানো মাজরা তখনো শান্তির নীড় হিসেবে টিকে ছিল।

বিজ্ঞাপন

এ সময় একটি ডাকাতির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো গ্রামের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও পাল্টে যায়। শান্তিপ্রিয় শিখরা অন্যের উসকানিতে হিংসাত্মক আচরণ করতে থাকে তাদের প্রতিবেশী মুসলমানদের সঙ্গে। তখনই শিখদের এক অশিক্ষিত কৃষক যুবক মুসলিমদের ত্রাণকর্তায় আবির্ভূত হয়। উপন্যাসে একটি রাজনৈতিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে একটি গ্রামীণ সম্প্রদায়ের একাত্মতার প্রবল অনুভূতি, ঔদ্ধত্য ও সাহসিকতা বিধৃত হয়েছে। উপন্যাসের বিশেষ একটি চরিত্র ইকবালের চিন্তা-ভাবনা থেকেও ভারতবর্ষের মানুষের ধর্মবিশ্বাসের স্বরূপ প্রকাশিত হয়। সাম্প্রদায়িক সহিংসতার রূপ তখন এতই প্রবল ছিল যে ইকবাল একসময় চিন্তা করে, ‘লিঙ্গের অগ্রবর্তী চামড়ার অংশ কাটা হয়েছে কি হয়নি তার ওপর একমাত্র ভারত ছাড়া আর কোথাও মানুষের বেঁচে থাকা নির্ভর করে? এটা দুর্ভাগ্যজনক, না হাস্যকর?’ বস্তুত এটি নিছক একটি কাহিনি নয়, বরং সামাজিক দলিল হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।

 



সাতদিনের সেরা