kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০২২ । ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

কে বেশি দুর্ভাগা? ঠাকুরঝি, বসন না নিতাই?

নিলয় চক্রবর্তী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কে বেশি দুর্ভাগা? ঠাকুরঝি, বসন না নিতাই?

তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

উপন্যাসের শুরুতেই পাঠককে গল্পের সঙ্গে সংযুক্ত করে দিতে পেরেছেন তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়—‘শুধু দস্তুরমত একটা বিস্ময়কর ঘটনাই নয়, রীতিমত এক সংঘটন। চোর ডাকাত বংশের ছেলে হঠাৎ কবি হইয়া গেল। ’ অসামান্য জীবনবোধ, শিল্পসত্তার জাগরণ কিংবা প্রেম, বিরহ এবং নিজেকে আবিষ্কারের গল্প ‘কবি’। ডোম বংশের ছেলের হঠাৎ কবি বনে যাওয়ার ছবি এঁকেছেন ‘কবি’ উপন্যাসে।

বিজ্ঞাপন

নিতাইয়ের কবি হয়ে যাওয়া রীতিমতো অঘটনই বটে! কারণ সেকালের কবিরা সাধারণত উঁচু বংশের হতেন। একে তো নিচু জাত, তার ওপর দরিদ্র হওয়ায় নিজস্ব কোনো দল ছিল না নিতাইয়ের। একটি ঝুমুরদলের সঙ্গে মেলায় ঘুরে সে স্বরচিত গান শোনায়। একেকটি কবিতা তার মনে বাসা বেঁধেছে একেকটি প্রেক্ষাপটে। কখনো তার কাব্যের প্রেরণা প্রথম প্রেম ঠাকুরঝি, কখনো প্রকৃতি, কখনো বা লাস্যময়ী বসন্ত, কখনো অপমান, কখনো বিরহ-বেদনা। নিতাইয়ের ভালোবাসার দুটি স্বরূপ দেখা যায়। প্রথমত, বিবাহিত ঠাকুরঝির প্রতি এক ধরনের শ্রদ্ধামিশ্রিত ভালো লাগা; দ্বিতীয়ত, ঝুমুরদলের দেহপসারিণী বসন্তের সঙ্গে মনের মানুষের সম্বন্ধ। তবে দুজনের অকালমৃত্যুর কারণে নিতাইয়ের মধ্যে ভিন্ন এক বোধ জাগ্রত হয়। ভালোবাসার সাধ মেটে না তার। উপন্যাসের শেষে কেবলই মনে হয়, কে বেশি দুর্ভাগা? ঠাকুরঝি, বসন না নিতাই?

     অনুলিখন : পিন্টু রঞ্জন অর্ক



সাতদিনের সেরা