kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ আগস্ট ২০২২ । ২৭ শ্রাবণ ১৪২৯ । ১২ মহররম ১৪৪৪

রুশ গুপ্তচর হেমিংওয়ে

ফারুক মঈনউদ্দীন

১ জুলাই, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৯ মিনিটে



রুশ গুপ্তচর হেমিংওয়ে

আর্নেস্ট হেমিংওয়ে সম্পর্কে যাঁদের কিছু পরিচয় আছে, তাঁরা জানেন ডাকাবুকো এই লেখক তাঁর সাহিত্যকর্মের বাইরে বহু দুঃসাহসিক কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন কিংবা এজাতীয় বিষয়ের সঙ্গে নিজেকে জড়াতে ভালোবাসতেন। বিচিত্রধর্মী দুঃসাহসিকতার অনেক পর্বের মধ্যে অবিশ্বাস্য ছিল গুপ্তচর হিসেবে তাঁর সংক্ষিপ্ত ও অস্পষ্ট ভূমিকা। আর এই ভূমিকা ছিল দুই পর্বে দুই পক্ষের হয়ে। প্রথমটি সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নের পক্ষে, পরেরটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর হয়ে জার্মানির বিপক্ষে।

বিজ্ঞাপন

একজন লেখকের গুপ্তচরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার নজির এটিই প্রথম নয়। ব্রিটিশ ঔপন্যাসিক সমারসেট মম সে দেশের  গোয়েন্দা সংস্থার (পরবর্তীকালে এমআই সিক্স) পক্ষ হয়ে সুইজারল্যান্ড ও রাশিয়ায় কাজ করেছেন ১৯১৫ থেকে। তাঁকে রাশিয়া যাওয়ার প্রস্তাব দিলে প্রথমে রাজি হতে চাননি, কিন্তু পরে তলস্তয় দস্তয়েফিস্ক আর চেখভের দেশ দেখার আগ্রহ থেকেই প্রস্তাবটি গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর দায়িত্ব ছিল বলশেভিক বিপ্লবকে ঠেকিয়ে রাখা। কাজটি সফলভাবে শেষ করতে পারেননি তিনি।

প্রথম ধারণাটির ভিত্তি ২০১০ সালে প্রকাশিত বই ‘স্পাইজ : দ্য রাইজ অ্যান্ড ফল অব দ্য কেজিবি ইন আমেরিকা’। বইটি লিখেছেন তিনজন মিলে, জন আর্ল হেইনস, হার্ভি ক্লের ও আলেক্সান্দর ভাসিলিয়েভ।   উল্লেখ্য, ভাসিলিয়েভ ছিলেন সাবেক কেজিবি কর্মকর্তা। স্তালিনের শাসনামল থেকে কেজিবির নথি ঘাঁটাঘাঁটি করে বইটিতে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয় যে হেমিংওয়ে একদা ছিলেন কেজিবির এজেন্ট। সংস্থাটির অন্য এজেন্টরা তাঁকে এই ভূমিকায় অবতীর্ণ করান ১৯৪১ সালে। এমনকি সিক্রেট এজেন্ট হওয়ার রীতি অনুযায়ী তাঁর একটি ছদ্মনামও দেওয়া হয়েছিল, ‘আরগো’।

হেমিংওয়েকে সমাজতান্ত্রিক রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার তালিকাভুক্ত করার একটি পটভূমি আছে, সেটি আদর্শিক। এর পেছনে কোনো আর্থিক লেনদেন কিংবা সুবিধাভোগের কোনো বিষয় ছিল না। সেই পটভূমি ছিল ১৯৩৫ সালের আগস্ট মাসে ফ্লোরিডার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৯৫ কিলোমিটার বেগে বয়ে যাওয়া এক সর্বনাশা কালবৈশাখী, যাকে মার্কিনরা হারিকেন বলে। সেই ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণ হারিয়েছিল ৪৮৫ জন, যাদের মধ্যে ২৫৯ জন ছিলেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সাবেক সৈনিক, আমেরিকায় যাঁরা ভেটারান বলে পরিচিত। তাঁদের সেখানে পাঠানো হয়েছিল ১৯৩০ সালের বিশ্বমন্দার পর আমেরিকার ব্যাপক পূর্তকর্মে সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও সড়ক ব্যবস্থার উন্নতি করার জন্য। সমুদ্র চষে বেড়ানো হেমিংওয়ে যখন এসব মানুষের গলিত শবদেহ দেখতে পান, তিনি একটি জ্বালাময়ী লেখা লিখেছিলেন বামঘেঁষা ‘নিউ মাসেস’ ম্যাগাজিনে।

সেই লেখায় হেমিংওয়ে তাঁর যাবতীয় বিষ উগরে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে, যার সুরে ছিল শ্রেণিবৈষম্য ও অসহায় যুদ্ধফেরত সৈনিকদের নিরুপায় অবস্থার ওপর একজন প্রত্যক্ষদর্শী কথাসাহিত্যিকের আবেগমথিত বয়ান। তিনি লেখেন, ‘তাঁরা মানুষ, অসফল মানুষ, আর তাঁদের হারাতে হয়েছে জীবন। মাসিক সর্বোচ্চ ৪৫ ডলারে তাঁরা কুলির কাজ করছেন সেখানে, তাঁদের ফ্লোরিডা কিতে পাঠানো হয়েছিল, যেখানে তাঁরা ঝামেলা পাকাতে না পারেন। ’ তিনি সেখানকার বাসিন্দাদের সম্বন্ধে লেখেন যে তাঁরা সেখানে নিজেদের ইচ্ছাতেই বাস করেন। ‘কিন্তু যুদ্ধফেরতদের পাঠানো হয়েছে সেখানে, চলে আসার কোনো সুযোগ ছিল না তাঁদের, ছিল না হারিকেন থেকে কোনো সুরক্ষা কিংবা জীবন বাঁচানোর কোনো সুযোগ। হারিকেনের মৌসুমে ফ্লোরিডা দ্বীপের খুপরি ঘরে থাকার জন্য কে পাঠিয়েছে এই হাজারখানেক যুদ্ধফেরত মানুষকে, যাঁদের অনেকেই ছিলেন বলিষ্ঠ ও পরিশ্রমী, তবে হতভাগ্য আবার অনেকেই জীবনের প্রান্তে পৌঁছে যাওয়া?’

এই লেখাটি এবং স্পেনের গৃহযুদ্ধের ময়দান থেকে খবর সংগ্রহের জন্য সেখানে অবস্থানকালে তাঁর ফ্যাসিবাদবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং বামপন্থী শিল্পী-সাংবাদিকদের সঙ্গে সখ্য—সব মিলিয়ে হেমিংওয়েকে কাজে লাগানোর কথা মাথায় আসে সোভিয়েত গোয়েন্দা বাহিনীর। স্পেনের সেই টালমাটাল পরিস্থিতিতে সোভিয়েত রাশিয়া যে শুধু অস্ত্র বা অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছিল তা নয়, সোভিয়েত গুপ্তচরবাহিনী এনকেভিডিও (পরবর্তী সময়ে কেজিবি) সক্রিয় ছিল সেখানে। ঘূর্ণিঝড়ে ফ্লোরিডা দ্বীপের ব্যাপক প্রাণহানিতে আমেরিকা সরকারের ওপর ক্ষিপ্ত ও বিরক্ত হেমিংওয়ে ছিলেন এনকেভিডির সহজ টার্গেট। সেই গৃহযুদ্ধের ওপর তৈরি একটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্র বানানোর জন্য যে সংগঠন তৈরি হয়েছিল, সেটির বেশির ভাগ বুদ্ধিজীবী ছিলেন বামপন্থী। এমনকি সেই ডকুফিল্মের পরিচালক ইওরিস ইভেন্স গোপনে ছিলেন সোভিয়েত রাশিয়ার আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট শাখার এক সক্রিয় সদস্য। ফ্যাসিবাদ রুখতে কমিউনিজমই একমাত্র ভরসা, এই মন্ত্র আর্নেস্টের মাথায় ঢুকিয়েছিলেন তিনি।  

স্পেন থেকে ফিরে দ্বিতীয় স্ত্রী পলিনকে ছেড়ে হেমিংওয়ে বিয়ে করেন সাংবাদিক মার্থা গেলহর্নকে। বিয়ের তিন মাসের মাথায় কোলিয়ার্স কাগজের পক্ষ থেকে চীন-জাপান যুদ্ধের সংবাদ সংগ্রহের জন্য চীনে যেতে হয় মার্থাকে। তাই অনিচ্ছা সত্ত্বেও হেমিংওয়েকেও সঙ্গে যেতে হয়। নিছক কর্মহীন অবস্থায় না থাকার জন্য বামঘেঁষা ট্যাবলয়েড পত্রিকা ‘পিএমে’র সংবাদদাতার একটি কাজ জোগাড় করেন হেমিংওয়ে। এ সময় আমেরিকার ট্রেজারি ডিপার্টমেন্টের বড়কর্তা হ্যারি হোয়াইটের সঙ্গে দেখা করেন হেমিংওয়ে। চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও কুওমিনটাং সম্পর্ক, তাদের যোগাযোগব্যবস্থা ইত্যাদির ওপর কিছু রিপোর্ট তাঁর কাছে গোপনে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করেছিলেন হ্যারি। কাজগুলো মোটামুটি ঠিকভাবেই করেছিলেন হেমিংওয়ে। দেশে ফিরে বিস্তারিত রিপোর্টে চীনের আসন্ন গৃহযুদ্ধের আভাসও দিয়েছিলেন তিনি।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় যে হেমিংওয়ের চীন যাত্রার খবর মস্কোতে পাঠিয়েছিলেন জ্যাকব গোলোস নামের একজন, যিনি ছিলেন আমেরিকার কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে কেজিবির মূল যোগসূত্র এবং আমেরিকার মাটিতে সোভিয়েত গুপ্তচর। গোলোস আরো জানিয়েছিলেন যে চীনে হেমিংওয়ের সঙ্গে তাঁদের লোকজনের দেখা করার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন তিনি। আর্নেস্টের মতো ব্যক্তি যদি তাঁর লেখার মাধ্যমে সমাজতান্ত্রিক আদর্শ তুলে ধরেন আর সাংবাদিকতার খাতিরে দেশ-বিদেশের যুদ্ধে যাওয়ার সুবাদে ভেতরের রাজনৈতিক খবরাখবর জোগাড় করেন, তাহলে সেটি হবে বাড়তি পাওনা। ভাসিলিয়েভের বইটিতে দাবি করা হয়েছে যে আমেরিকার অর্থ দপ্তরের বড়কর্তা হ্যারি ছিলেন সোভিয়েত গুপ্তচর। এই সংযোগ থেকে বোঝা যায় যে হেমিংওয়েকে ব্যবহারের চেষ্টা করেছিল কেজিবি।

তবে শেষ পর্যন্ত হেমিংওয়ের এই ভূমিকার কোনো সরাসরি ফল দেখা যায়নি। রাশিয়ার হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির যাত্রা মাঝপথে কেন থেমে গিয়েছিল, তার কারণ স্পষ্ট নয়। সম্ভবত রাশিয়ার কর্তাব্যক্তিরা বুঝতে পেরেছিলেন যে হেমিংওয়ের ফ্যাসিবাদবিরোধিতার সঙ্গে তাঁর কমিউনিজমে বিশ্বাসের কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁরা এটিও বুঝতে পারেন যে হেমিংওয়ে যত বড় লেখকই হোন না কেন, তাঁকে দিয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করানো যাবে না। ভাসিলিয়েভ লেখেন, “‘আরগো’র সঙ্গে লন্ডন ও হাভানায় আমাদের সাক্ষাতের উদ্দেশ্য ছিল আমাদের কাজের জন্য তাঁর প্রতিশ্রুতিশীলতাকে যাচাই করা। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের পুরো সময়ের মধ্যে তিনি আমাদের কোনো রাজনৈতিক তথ্য দেননি, যদিও আমাদের সাহায্য করার জন্য তাঁর ইচ্ছা ও আগ্রহের কথা বলেছেন তিনি বারবার। ‘আরগো’কে পুরোপুরি পর্যবেক্ষণ করা হয়নি, অর্থাৎ যাচাই করা নন তিনি। ” মস্কো থেকে কেজিবির ওয়াশিংটন অফিসে পাঠানো একটি চিঠিতে লেখা হয়, “...‘আরগো’কে ১৯৪১ সালে আমাদের কাজে নেওয়া হয়েছিল আদর্শিক কারণে...। ” পরবর্তী সময়ে কেজিবির নিউ ইয়র্ক অফিস থেকে পাঠানো একটি রিপোর্টে জানানো হয়, যদিও হেমিংওয়ে আমেরিকার কমিউনিস্ট পার্টির সাংস্কৃতিক বলয়ের একজনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছেন, তবে বলা হয় যে ‘তিনি ট্রটস্কিপন্থীদের সমর্থন করেন, তাঁর বিভিন্ন লেখায় সোভিয়েত ইউনিয়নকে আক্রমণ করেছেন তিনি। ’ শেষ পর্যন্ত হেমিংওয়ের সঙ্গে সোভিয়েত কর্তৃপক্ষ আর কোনো যোগাযোগ রাখেনি। এরই মধ্যে সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে জার্মানির অনাক্রমণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফলে সমাজতান্ত্রিক দেশটির আদর্শের ব্যাপারে সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী মানুষের মোহভঙ্গ ঘটায়, হয়তো আর্নেস্টেরও মোহমুক্তি ঘটেছিল। অ্যালেন ওয়েইনস্টেইনের সঙ্গে যৌথভাবে লেখা ‘দ্য হন্টেড উড’ বইয়েও আলেক্সান্দর ভাসিলিয়েভ কেজিবির নথিতে ট্রটস্কিপন্থীদের সঙ্গে হেমিংওয়ের দহরম-মহরমের কথা উল্লেখ করেছেন।

তবে রুশ কর্তাব্যক্তিরা আর্নেস্টের ব্যাপারে যথেষ্ট আশাবাদী ছিলেন। মস্কো থেকে কেজিবির নিউ ইয়র্ক অফিসে পাঠানো এক নির্দেশনামূলক চিঠিতে লেখা হয়েছিল, ‘আমাদের আগ্রহ আছে এমন কোনো দেশে হেমিংওয়ের সফরের সুযোগ করে দাও। ’ হেমিংওয়েও কেজিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বেশ কয়েকবার দেখা করেছেন। ভাসিলিয়েভ তাঁর বইয়ে উপস্থাপন করেছেন হেমিংওয়ে পরিচিতি সম্পর্কে কেজিবির একটি রিপোর্ট, যাতে লেখা হয়, “১৯৩৭ সালে স্পেনে থাকা অবস্থায় পপুলার ফ্রন্টের সমর্থনে নিবন্ধ লিখতেন ‘আরগো’, স্পেনের রিপাবলিকানদের পক্ষে সাহায্য প্রার্থনা করেছেন তাঁর বিভিন্ন নিবন্ধে আর কঠোর সমালোচনা করেছেন কংগ্রেস ও আমেরিকান স্টেট ডিপার্টমেন্টের। স্পেনের রিপাবলিকানদের জন্য মার্কিন অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি। ...১৯৪৩ সালের সেপ্টেম্বরে ‘আরগো’ যখন হাভানায়, আমাদের কর্মীরা তাঁর সঙ্গে দেখা করে, তাঁর ইউরোপ সফরের আগেও তাঁর সঙ্গে দুইবার দেখা করে। ” ওই বছরের জুনে তিনি যখন কোলিয়ার্স ম্যাগাজিনের পক্ষ হয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সংবাদদাতা হিসেবে লন্ডনে যান, সেখানেও কেজিবির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক চালু ছিল। ১৯৪৫ সালে ফ্রান্স থেকে হাভানায় ফিরলে আবারও তাঁর সঙ্গে দেখা করেন রুশ কর্মকর্তা। সেই ছিল শেষ যোগাযোগ। ওপরের সংক্ষিপ্ত বয়ান থেকে একটি ব্যাপার পরিষ্কার যে আর্নেস্টকে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিল কেজিবি, যদিও নিজের অজান্তেই হয়তো তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন তিনি, কিন্তু কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কেজিবির হাতে তুলে দিয়েছেন—এমন কোনো প্রমাণ ভাসিলিয়েভও প্রমাণ করতে পারেননি।   

সিআইএর সাবেক কর্মকর্তা নিকোলাস রেনল্ডস ‘রাইটার, সেইলর, সোলজার, স্পাই : আর্নেস্ট হেমিংওয়েজ সিক্রেট অ্যাডভেঞ্চারস’ বইয়েও উল্লেখ করেছেন যে ১৯৪১ সালে তৎকালীন সোভিয়েত পররাষ্ট্রমন্ত্রী মলোটভ হেমিংওয়েকে মস্কো সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। রাশিয়া থেকে তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সম্মানী হাতে তুলে দেওয়ার জন্যই এই আমন্ত্রণ। তবে রেনল্ডসের ধারণা, সেই যাত্রায় হেমিংওয়েকে গোয়েন্দা প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল মস্কোর। কাজটি নিয়ে সংশয় ছিল বলে হেমিংওয়ে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভ্রমণে বিরত থাকেন।

রুশ গুপ্তচর না হলেও চীন কিংবা কমিউনিজমের ব্যাপারে হেমিংওয়ের দুর্বলতা ছিল বলেই প্রতিভাত হয়, কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্যদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব অনেকের মনে সন্দেহের জন্ম দিয়েছিল। সে কারণেই বোধ হয় হেমিংওয়ের মৃত্যুর বহু বছর পর (২০১৫) চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং কিউবা সফরে গিয়ে অনির্ধারিতভাবে দুটি জায়গায় গিয়েছিলেন, একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হেমিংওয়ের বাড়ি ফিনকা বিহিয়া এবং আরেকটি তাঁর নিয়মিত ঠেক ফ্লোরিদিতা বার।



সাতদিনের সেরা