kalerkantho

রবিবার । ৩ জুলাই ২০২২ । ১৯ আষাঢ় ১৪২৯ । ৩ জিলহজ ১৪৪৩

ভাঙন

শেখ আতাউর রহমান

২৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ভাঙছি অবিরল! মানবসভ্যতার প্রাচীন মধ্যমণি যে নিউক্লিয়াস

যার নাম বিশাল মানবসমাজ

যেখানে ছিল একদিন সুসংহত থাকার মানুষের সুপ্রাচীন অভ্যেস

এখন তা প্রতিনিয়ত ভেঙে টুকুরো টুকরো হচ্ছে সর্বনাশ!

এই কোষকেন্দ্র—যার নাম ‘সংহতি’—কম্প্যাক্টনেস হারিয়েছে তার বলশালী

মাধ্যাকর্ষণ রয়নি কিছু অবশেষ, এখন কেবলই বিকর্ষণ—অবিরল ভেঙে

যাওয়া, মানুষের কাছ থেকে মানুষের দূরে সরে যাওয়া, ক্ষুদ্র থেকে ক্ষুদ্রতর

হওয়া—এ এক হাবলের ‘বিগব্যাঙ’, ‘মহাবিস্ফোরণ’ যেন সুখের

অন্বেষণে ‘অসম্ভবের পায়ে’ মাথা নোয়ানো, রাস্কলনিকভের মতো সাইবেরিয়ায়

সঙ্গীহীন কারাগারে নির্বাসিত জীবন কাটানো!

সন্দেহ নেই, দেশভাগ দিয়ে ভাঙনের শুরু,

অতঃপর বিশাল একান্নবর্তী হারাল চৌহদ্দি!

বৃদ্ধ বাবা-মা যথারীতি পাচার হলেন বৃদ্ধাশ্রম, ওঁদেরও একদিন আদর ছিল

যতো দিন ছিলেন কর্মক্ষম! ভাঙতে ভাঙতে এখন একটি পরিবারে অবশিষ্ট

রয়েছে কেবল স্বামী-স্ত্রী-সন্তান তিনজন—ছোট্ট পরিবার আর হয় না কো আগের

মতো সরগরম! মানুষ হারায় বিনয়, সাহচর্য, হামদর্দ, লজ্জাশরম!

তবু এ ভাঙনের স্থিতি নেই, বোধ করি এখনো আরেক ধাপ আছে বাকি

সে কথাই ভয়ে ভয়ে বলে রাখি, মনে হয় এ বিচ্ছিন্নতায় একদিন দেখা দেবে

মানব অস্তিত্বে নিদারুণ জটিল সংকট! কেমনে রইবে মানব আরো কিছুদিন

অব্যয়, অক্ষয়—কিছুদিন আরো কী করে চলবে তার বাধাহীন মহাকালের রথ!

এ হোমোস্যাপিয়ানের অবশিষ্ট দিনগুলি কেমনে বাঁচে—শোচনীয় পরিণামটা

এখনো দেখার বাকি আছে। কেননা ইতিমধ্যেই অবশিষ্ট তিনজনের

মধ্যে ঘটেছে আবারও অনিবার্য বিভাজন! অবশিষ্ট রয়েছি

কেবল দুজন, একজনের প্রাণ আছে, জড়প্রাণহীন অপরজন এবং নিরুপায়

আমরা দুজন সারাক্ষণ থাকি অতিকাছাকাছি—আমি আর মোবাইল—এই নিয়ে

পৃথিবীতে বেঁচে আছি!!

 

বিজ্ঞাপন



সাতদিনের সেরা