kalerkantho

রবিবার । ২৬ জুন ২০২২ । ১২ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৫ জিলকদ ১৪৪৩

যেভাবে লেখা হলো ‘বিদ্রোহী’

মেহেদী উল্লাহ

২০ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যেভাবে লেখা হলো ‘বিদ্রোহী’

৩/৪-সি তালতলা লেন, কলকাতা-১৪। এই বাড়িতে বসে নজরুল ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি লেখেন

১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ। ‘তখন নির্দয় শীতকাল’! নির্দয় এ জন্য, শীতের রাতে কবিতা লিখবেন নজরুল, কিন্তু ঘরে নেই ফাউন্টেন পেন। এদিকে কবির মাথায় শব্দের বান! বিদ্রোহের অবিরল স্রোত! দোয়াত-কলমে লিখবেন না। তাহলে উপায়? এর আগে কলকাতায় নানা স্থানে ঘুরে ঘুরে ভবঘুরের মতো স্থান বদল করলেও কিছুদিনের জন্য স্থায়ী হলেন মধ্য কলকাতার তালতলায়।

বিজ্ঞাপন

৩/৪-সি তালতলা লেন, কলকাতা-১৪। কমরেড মুজফ্ফর আহমদ আর নজরুল নিচের তলার পূর্ব দিকের অর্থাৎ বাড়ির নিচের দক্ষিণ-পূর্ব কোণের ঘরটি নিয়ে থাকেন। এই ঘরেই কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর কবিতাটি লিখেছিলেন। দোয়াতে বারবার কলম ডোবাতে গিয়ে তার মাথার সঙ্গে তাল রাখতে পারবেন না—এই ভেবেই সম্ভবত কবিতাটি লিখেছিলেন পেন্সিলে। সেই পেন্সিল আজ আর কারো সংগ্রহে আছে কি না আমাদের জানা নেই। কিন্তু বাঙালি জাতির রয়েছে সেই অমর কবিতা! রাতের কোন সময়ে কবিতাটি লেখা হয়েছিল, তা-ও জানা যায় না। কিন্তু শত বছর ধরে বিদ্রোহের মশাল জ্বেলে রেখেছে কবিতাটি অন্যায়ের ‘আঁধার’-এ! রাত ১০টার পর মুজফ্ফর আহমদ ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে মুখ ধুয়ে এসে বসেছেন সবে। তখনই নজরুল জানালেন, একটি কবিতা লিখেছেন। সেই কবিতাটির নাম ‘বিদ্রোহী’! এক বসায় লেখা! নজরুলের বয়স তখন মাত্র ২২ বছর। পুরো কবিতাটি নজরুল পড়ে শোনালেন মুজফ্ফর আহমদকে। কিন্তু তিনি উচ্ছ্বসিত হলেন না। নজরুল আহত হলেন। এমনকি ভেবেছিলেন, কিছু কি হয়নি তাহলে! কিন্তু ঘটনা ভিন্ন। মুজফ্ফর আহমদ সামনাসামনি কারো প্রশংসা করতে পারেন না, তাই কবিতা শোনার পরেও তিনি উচ্ছ্বসিত হতে পারেননি। নজরুলকে কিছু বুঝতে না দিয়ে তিনি প্রশংসা করলেন অন্যদের কাছে। সেদিন বেলা হওয়ার পর মোসলেম ভারত পত্রিকার আফজালুল হক সেই বাড়িতে আসেন। তাঁকেও পড়ে শোনান কবি। তিনি সেটি শুনে একটি কপি সঙ্গে নিয়ে যান। তখন মুজফ্ফর আহমদ বাইরে ছিলেন। বাড়ি ফেরেন ১২টার কিছু আগে। আসা মাত্রই নজরুল জানালেন, অবিনাশদা (বারীন ঘোষদের বোমার মামলার সহবন্দি শ্রী অবিনাশচন্দ্র ভট্টাচার্য) এসেছিলেন। তিনি কবিতাটি শুনে বললেন, আফজালের কাগজ কখন বার হবে তার স্থিরতা নেই, তাই বিজলীতে ছেপে দিতে চান। তাঁকেও নজরুল সেই পেন্সিলের লেখা থেকেই কবিতাটি কপি করে দিয়েছিলেন। ১৯২২ সালের ৬ জানুয়ারি শুক্রবার সাপ্তাহিক বিজলী পত্রিকায় প্রথম ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি ছাপা হয়। বৃষ্টি হওয়ার পরও কাগজের চাহিদা এত হয়েছিল যে সেই সপ্তাহে ওই কাগজটি দুইবার মুদ্রণ করতে হয়েছিল। মোসলেম ভারতের কার্তিক সংখ্যায় পরবর্তীকালে সেটি ছাপা হলেও সেই সংখ্যাটি বের হয়েছিল ফাল্গুন মাসে। এরপর প্রবল আলোড়ন! মোসলেম ভারতে প্রকাশিত ‘বিদ্রোহী’তে ‘আমি পরশুরামের কঠোর কুঠার’ পঙক্তিটির আগে পাঁচটি পঙক্তি ছিল, যা পরবর্তীকালে পরিত্যক্ত হয়েছে।



সাতদিনের সেরা