kalerkantho

বুধবার ।  ১৮ মে ২০২২ । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ১৬ শাওয়াল ১৪৪৩  

জয়গুন কেন সব হারাল?

নূরে আলম সিদ্দিকী শান্ত, বাংলা বিভাগ, তেজগাঁও কলেজ, ঢাকা

৭ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জয়গুন কেন সব হারাল?

আবু ইসহাক

আবু ইসহাকের ‘সূর্য-দীঘল বাড়ি’ উপন্যাসটি ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষ আর ১৯৪৭ সালের দেশভাগের প্রেক্ষাপটে রচিত, যেখানে উঠে এসেছে সেই সময়ের এক সংগ্রামী নারীর জীবনের গল্প। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বেড়াজালে বন্দি স্বামী পরিত্যক্তা নারী জয়গুনের বেঁচে থাকার লড়াই উপন্যাসটির মূল উপজীব্য বিষয়। প্রথম স্বামী জব্বার মুন্সী মারা যাওয়ার পর বদমেজাজি করিম বকশের সঙ্গে দ্বিতীয় সংসার বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। দুর্ভিক্ষের বছরেই দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিলে খাদ্যের সন্ধানে জয়গুন পুত্র-কন্যা, ভাইপত্নী নিয়ে শহরে পাড়ি জমায়।

বিজ্ঞাপন

শহরের চাকচিক্য, আত্মকেন্দ্রিকতা, স্বার্থপরতা তাকে হতাশ করে। ফিরে আসতে হয় গ্রামে। বসবাস শুরু হয় অপয়া ভিটা সূর্য-দীঘল বাড়িতে। কুসংস্কারে নিমগ্ন গ্রামের মানুষের বিশ্বাস, এ বাড়িতে বসবাস করলে বংশ নির্বংশ হয়ে যায়। জয়গুনের মাথা গোঁজার আশ্রয়ের প্রয়োজনের কাছে এ বিশ্বাস তুচ্ছ হয়ে পড়ে। অন্যের বাড়িতে ধান ভানা, শাক বিক্রি করে স্বনির্ভরভাবে দুবেলা ভাতের জোগাড় করে জয়গুন, যা সমাজপতিদের চোখে বিষ হয়ে ফোটে। গ্রামের মোড়ল গদু প্রধানের লালসার শিকার হয়ে সব কিছু হারাতে হয়। বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় শেষ আশ্রয় সূর্য-দীঘল বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে এক অনিশ্চিত জীবনের দিকে হাঁটতে বাধ্য হয় জয়গুন। গ্রামীণ কুসংস্কার, নারীর ওপর পুরুষের আধিপত্য, পুরুষতন্ত্রের অত্যাচার, দুর্বলের ওপর ক্ষমতাবানের নির্যাতন, ধর্মীয় গোঁড়ামি নিখুঁতভাবে ফুটে উঠেছে উপন্যাসটিতে।



সাতদিনের সেরা