kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ মাঘ ১৪২৮। ২৫ জানুয়ারি ২০২২। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

একজন ঢাবি শিক্ষকের নির্মোহ বয়ান

নিকেল চাকমা, ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

৩ ডিসেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



একজন ঢাবি শিক্ষকের নির্মোহ বয়ান

আনোয়ার পাশা

আনোয়ার পাশার ‘রাইফেল রোটি আওরাত’ মুক্তিযুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে রচিত বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস। ১৯৭১ সালের এপ্রিল থেকে জুনে স্বাধীনতাযুদ্ধকালীন ঢাকায় এবং বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যক্ষ ও সাক্ষাৎ ঘটনাবলির মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা লেখক ঢাবির অধ্যাপক ২৫শে মার্চে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া সুদীপ্ত শাহীনের বয়ানে এই উপন্যাসে তুলে ধরেছেন। তাই উপন্যাস হিসেবে যতটুকু কাল্পনিক তার চেয়ে ঢের বেশি প্রত্যক্ষ ও বাস্তব জীবনভিত্তিক। বাঙালিদের মেধা-মনন চিরতরে পঙ্গু করার নিমিত্তে পাকিস্তানিরা ২৫শে মার্চ রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হল, রোকেয়া হল ও জগন্নাথ হলে ছাত্র-শিক্ষক ও কর্মচারীদের ওপর নৃশংস হত্যা চালায়।

বিজ্ঞাপন

পাকিস্তানি সেনারা জগন্নাথ হলের আশপাশ থেকে বস্তিবাসীদের ধরে এনে গর্ত খনন করে হত্যাকাণ্ডের সত্যতা আড়াল করার জন্য গণকবর দিয়েছিল। অথচ ইতিহাসে সত্য কখনো মোছা যায় না। পাকিস্তানিদের আক্রমণে মৃত জননীর স্তন চুষে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া এক বছরের শিশুর বর্ণনা প্রত্যেক সচেতন পাঠকের মন শিহরিত করবে। উপন্যাসের অন্যতম সার্থকতা হচ্ছে, সুদীপ্ত শাহীন চরিত্রের মধ্য দিয়ে লেখক মুক্তিযুদ্ধকালীন বাঙালির দুঃখ-বেদনা ও আশা-আকাঙ্ক্ষা শিল্পরূপে প্রকাশ করতে পেরেছেন। শেষে স্বাধীনতা সূর্যের আগমনী বার্তা দিয়ে লেখক বলেছেন, ‘নতুন মানুষ, নতুন পরিচয় এবং নতুন একটি প্রভাত। সে আর কতো দূরে। মাত্র এ রাতটুকু তো! মা ভৈঃ। কেটে যাবে। ’    

            অনুলিখন : পিন্টু রঞ্জন অর্ক



সাতদিনের সেরা