kalerkantho

বুধবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ১ ডিসেম্বর ২০২১। ২৫ রবিউস সানি ১৪৪৩

ধর্মীয় পরিচয় নয় মানুষই বাঁচিয়েছে মানুষকে

শংকর কুমার বিশ্বাস, থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ ডিপার্টমেন্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

২২ অক্টোবর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ধর্মীয় পরিচয় নয় মানুষই বাঁচিয়েছে মানুষকে

মুনীর চৌধুরী

উপমহাদেশের মানুষের মধ্যে দ্বন্দ্বের বীজ ছড়িয়ে দিতে ব্রিটিশ শোষক বেছে নেন ধর্মকে! এক ধর্মের মানুষ আঘাত করতে থাকে, অন্য ধর্মের শুরু হয় দাঙ্গা। সেই দাঙ্গার প্রেক্ষাপটে লেখা মুনীর চৌধুরীর ‘মানুষ’। সম্ভ্রান্ত  মুসলিম পরিবারের বড় ছেলে মোর্শেদ দাঙ্গার সময় ঘর থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। ঘরে অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে তাঁদের ছোট্ট এক শিশু। এই একাঙ্কিকায় ধর্মের গোঁড়ামি কাটিয়ে মানবতার জয়গান গেয়েছেন মুনীর চৌধুরী। পরিবারের কর্তা মোর্শেদের শোকে বিহ্বল। তিনি কল্পনায় দেখছেন, তাঁর ছেলের কাটা মাথা নিয়ে প্রতিপক্ষ উল্লাস করছে। এ অবস্থায় তাঁর আরেক ছেলে ফরিদ বাইরে যেতে চান হাতে ছোরা নিয়ে। এদিকে মায়ের কোলে থাকা শিশুটিকে সুস্থ করার জন্য ডাক্তারকে খবর দেবেন, সে সুযোগটাও নেই তাঁদের। এরই মধ্যে জানালার কাচ ভেঙে ঘরে ঢোকেন এক হিন্দু যুবক। তিনি তাঁর পরিচয় দেন ‘মানুষ’ বলে। ডাক্তারি সম্পর্কে ভালো জানা থাকায় হিন্দু যুবকটিই অসুস্থ শিশুর চিকিৎসা করে ভালো করে তোলেন। এরই মধ্যে পাড়ার লোকজন সেই লোকটিকেই খুঁজতে বাড়িতে আসে। পরিবারের কর্ত্রী তখন অভিনব এক সিদ্ধান্ত নেন। তিনি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের মেয়ে। তাই তাঁর কাছে আসবে না পাড়ার লোক। তিনি থাকবেন মশারির ভেতরে পর্দার আড়ালে। সেই যুবককে তাঁর সঙ্গে এক মশারির ভেতর আসতে বলেন তিনি। মশারির ভেতরে আশ্রয় নিয়ে বেঁচে যান লোকটি। দৃশ্যটির মাধ্যমে লেখক অসাম্প্রদায়িকতার সবচেয়ে সুন্দর চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন।

অনুলিখন : পিন্টু রঞ্জন অর্ক



সাতদিনের সেরা