kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ কার্তিক ১৪২৮। ২৮ অক্টোবর ২০২১। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

সীমান্তের দাগ মোছে না সেই বৃষ্টিতে

মেহেরুননেসা সেতু, দর্শনা, চুয়াডাঙ্গা

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সীমান্তের দাগ মোছে না সেই বৃষ্টিতে

কল্লোল লাহিড়ীর উপন্যাস ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’। খুলনার কলাপোতা গ্রামের ইন্দুবালার বিয়ে হয় কলকাতায়। মাত্র ১৫ বছর বয়সী কিশোরী ইন্দুবালা এপার ছেড়ে পাড়ি জমায় কলকাতায়। মাত্র ২৫ বছর বয়সে তিন সন্তান নিয়ে বিধবা হয়। তখন রান্নার হাত দুটিই বাঁচিয়ে দেয় তার জীবন। যেদিন প্রথম আঁচ পড়ে ইন্দুবালা ভাতের হোটেলের উনুনে, ঠিক সেদিনই পূর্ব জন্ম হয় স্বাধীন বাংলাদেশের। ইন্দুবালা তার ঠাম্মার কাছে শিখেছিল ওপারের রান্না আর বিয়ের পর শাশুড়ির কাছে এপারের রান্না। ওপারের রান্নার মিষ্টতার অভাব এপারে এসে মিটেছিল। আর এপারের রান্নায় মিষ্টি সরে তাতে যোগ হয়েছিল কাঁচা লঙ্কাবাটা, চুইঝালের গন্ধ। সত্তর বছর বয়সী ইন্দুবালা তার ভাতের হোটেলের জন্য কুমড়া ফুলের বড়া, বিউলির ডাল, চিংড়ির হলুদ গালা ঝোল, কচুবাটা, আলুপোস্ত, আমড়ার চাটনি, মালপোয়া, চন্দ্রপুলিসহ নানা রান্না রাঁধতে বসে স্মৃতিকাতর হয়ে বারবার ফিরে যায় অতীতে। যা কখনো বা তাকে নিয়ে যায় খুলনার কলাপোতা গ্রামে আবার কখনো বা কলকাতার ছেনু মিত্তির লেনে শুরু হওয়া নতুন জীবনের দিনগুলোতে। ওপারে ফেলে আসা দিনগুলো টিপটিপ করে বৃষ্টির মতো ঝরতে থাকে ইন্দুবালার চোখ দিয়ে, তবু সীমান্তের দাগ মুছে যায় না সে বৃষ্টিতে।

অনুলিখন : পিন্টু রঞ্জন অর্ক



সাতদিনের সেরা