kalerkantho

সোমবার । ৯ কার্তিক ১৪২৮। ২৫ অক্টোবর ২০২১। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

জলপুত্রদের গল্প

সাদিয়া সুলতানা প্রত্যাশা, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



জলপুত্রদের গল্প

জল নিয়ে যাদের স্বপ্ন, জীবন আর বেঁচে থাকা সেই  জেলেদের হরিশংকর জলদাস আদর করে ‘জলপুত্র’ নাম দিয়েছেন। ভুবনেশ্বরী নামের জেলেবউয়ের স্বামী ফিরে না আসার শঙ্কা থেকে উপন্যাসের শুরু। এই জেলেবউয়ের অসিলায় ‘জলপুত্র’ নামের উপন্যাসের ডালপালা বাড়ে। একে একে লেখক আলো ফেলেন প্রত্যেক জেলের কুটিরে। দেখিয়ে দেন তাদের হতাশা, অপ্রাপ্তি, জীবনসংগ্রাম, আনন্দ, উৎসব। জেলেদের কথ্য ভাষা উপন্যাসে তুলে এনে বৈচিত্র্য এনেছেন। টংজাল, বিহিন্দিজাল, হুরিজাল, বহদ্দার, গাউর, পাউন্যা, ঘেই—এসব শব্দ নতুন হলেও পড়ার প্রবাহে সমস্যা হয়নি। কারণ লেখক সব কিছুই বুঝিয়ে দিয়েছেন। গাছেরা যেমন গাছেদের মতো করে জীবন কাটায়, পাখিরা যেমন পাখিদের মতো করে, মাছেরা মাছেদের মতো, তেমনি মানুষের মধ্যেও একেকটা মানুষ বা সম্প্রদায়ের জীবন একেক রকম। লেখক বলতে চেয়েছেন চাষি, জেলে, কুমার, তাঁতি, বারাঙ্গনা সবার জীবন একইভাবে চলে না। প্রতিটি গোষ্ঠীর ওপর তাদের খাওয়া, পরা, উৎসব, আনন্দ, দৈন্য নির্ভর করে। উপন্যাসটি শেষ হয় মাতৃগর্ভে থাকা অনাগত এক শিশু বনমালিকে নিয়ে। হয়তো এই নতুন প্রজন্ম অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখবে, নিজেদের অধিকারটুকু বুঝে নেবে।

অনুলিখন : পিন্টু রঞ্জন অর্ক



সাতদিনের সেরা