kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

অন্য রবীন্দ্রনাথ

বিশ্বজিৎ ঘোষ   

৬ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৮ মিনিটে



অন্য রবীন্দ্রনাথ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সাহিত্যিক হিসেবেই আমাদের কাছে সমধিক পরিচিত। তিনি কবি, ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, প্রাবন্ধিক, ছড়াকার, গীতিকার, চিত্রশিল্পী—কত তাঁর পরিচয়। রবীন্দ্রনাথ বিশ্বকবি। তাঁর একক সাধনায় বাংলা কবিতা প্রাদেশিকতার সীমানা ছাড়িয়ে হয়ে উঠেছে আন্তর্জাতিক। বাংলা ছোটগল্পের নির্মাতা তিনি, বাংলা উপন্যাসের শরীরে ও সত্তায় তিনিই প্রথম দিয়েছেন আধুনিকতার স্পর্শ। বাংলা নাট্যভুবনে তাঁর সৃষ্টিধর্মী প্রয়াস ও পরিবেশনগত অবদান বিপুল ও ঐতিহাসিক। আধুনিক বর্ণনামূলক নাটকের আদি স্রষ্টা তিনি। সর্বকালের অন্যতম সেরা গীতিকার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর গান ছাড়া বাঙালির এক দিনও চলে না—তাঁর গান ছাড়া চলে না বাঙালির কোনো অনুষ্ঠান, কোনো ঋতুবরণ। চিত্রকলা, ভ্রমণসাহিত্য, চিঠিপত্র, ভাষাবিষয়ক প্রবন্ধ, ব্যক্তিগত রচনা—সর্বত্রই রবীন্দ্রনাথের ভুবনবিজয়ী হাতের স্পর্শ আমাদের বিস্ময়াভিভূত করে রাখে। রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ও সংগীত বাঙালির চিরকালীন সম্পদ, বাঙালির আত্মমুক্তির অফুরন্ত উৎস।

শিল্পস্রষ্টা এই রবীন্দ্রনাথের পাশেই আছেন আরেক রবীন্দ্রনাথ, সমাজচিন্তক রবীন্দ্রনাথ—ভিন্ন এই রবীন্দ্রনাথকেই আজ আমরা অবলোকনের চেষ্টা করব। ভিন্ন এই রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে বাংলাদেশেরও রয়েছে গভীর সম্পর্ক। জমিদারি দেখভালের জন্য ১৮৯০ থেকে ১৯০০ সাল টানা দশ বছর রবীন্দ্রনাথ পূর্ববঙ্গে অবস্থান করেন। শিলাইদহ-শাহজাদপুর-পতিসরে জমিদারি তত্ত্বাবধান সূত্রে বাংলাদেশের কৃষি ও কৃষকের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের প্রত্যক্ষ পরিচয় ঘটে—পরিশ্রমজীবী কৃষকের সঙ্গে গড়ে ওঠে তাঁর নিবিড় সম্পর্ক। রবীন্দ্রনাথ লক্ষ করেছেন—দিন-রাত পরিশ্রম করলেও বাংলার কৃষকের আর্থিক অবস্থা শোচনীয়। তাদের মধ্যে শিক্ষার প্রতি আগ্রহ নেই, নেই জীবন উন্নত করার কোনো আকাঙ্ক্ষা। দরিদ্র-অসহায় এই কৃষকদের সামূহিক উন্নতির কথা ভাবলেন রবীন্দ্রনাথ। ১৮৯৪ সালে শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ স্থাপন করেন কৃষি ব্যাংক, স্থাপন করেছিলেন নৈশ বিদ্যালয়। কৃষি ব্যাংক থেকে বিনা সুদে কৃষকদের ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা হলো, নৈশ বিদ্যালয়ে কৃষক পরিবারের সব সদস্যের প্রয়োজনীয় পাঠ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হলো। শিলাইদহ নৈশ বিদ্যালয়ে রবীন্দ্রনাথের পুত্র রথীন্দ্রনাথ ও পুত্রবধূ প্রতিমা দেবীও শিক্ষকতা করেছেন। সমবায়ের মাধ্যমে চাষ, জল সেচ কৌশল, জমিতে সার ব্যবহার—এসব বিষয়ে রবীন্দ্রনাথ নিজে কৃষকদের ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। সমবায় প্রথার মাধ্যমে চাষ করার জন্য তিনি কৃষকসমাজকে উদ্বুদ্ধ করতেন।

শিলাইদহের অভিজ্ঞতাকে রবীন্দ্রনাথ ব্যাপকভাবে কাজে লাগিয়েছেন শাহজাদপুরে। ১৮৯৭ সাল পর্যন্ত নানা সময়ে তিনি শাহজাদপুরে অবস্থান করেন। শাহজাদপুর (রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন সাজাদপুর বানানে) অবস্থানকালে অনেক স্মরণীয় সৃষ্টির পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ সামাজিক ও পল্লী উন্নয়নের কাজেও সংশ্লিষ্ট হন। এখানকার বাথানভূমির সঙ্গে জড়িয়ে আছে রবীন্দ্রনাথের নাম। গরু চরানোর মাঠের অভাবের কথা চাষিদের কাছে শুনে রবীন্দ্রনাথ তাঁর জমিদারির অন্তর্গত বুড়িপোতাজিয়া ও রামকান্তপুর মৌজার প্রায় ১২০০ একর জমি গোচারণের জন্য লাখেরাজ দান করেন। সে জমিতে এখনো বাথান আছে, আছে শত শত গরু। রবীন্দ্রনাথ যে গোচারণের জন্য জমি দিয়েছেন, তা-ই নয়—উন্নত জাতের ষাঁড় এনে গাভি প্রজননের মাধ্যমে ভালো গোসম্পদ সৃষ্টির ব্যবস্থাও করেছেন। এখনো সে গাভির জাত শাহজাদপুরে রয়েছে, যে গাভির দুধ দিয়ে চলছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ‘মিল্ক ভিটা’।

গ্রামসংগঠন ও কৃষকদের উন্নতির জন্য রবীন্দ্রজীবনে পতিসর পর্বও বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। পতিসরের কালীগ্রামে ১৯০৫ সালে রবীন্দ্রনাথ স্থাপন করেন কৃষি ব্যাংক। উত্তরকালে নোবেল পুরস্কারের বেশির ভাগ অর্থ রবীন্দ্রনাথ পতিসরের কৃষি ব্যাংককে প্রদান করেন। ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পও প্রথম প্রবর্তন করেন রবীন্দ্রনাথ। সে ক্ষেত্রেও আমাদের পতিসর বিশেষভাবে গর্ববোধ করতে পারে। কৃষকদের কৃষিবিষয়ক জ্ঞান বিতরণের জন্য শিলাইদহের মতো পতিসরেও নৈশ বিদ্যালয় স্থাপন করেন রবীন্দ্রনাথ। নৈশ বিদ্যালয়ে কৃষকদের চাষ ও জল সেচের নানা কৌশল শেখানো হতো। শিলাইদহ ও পতিসরের নৈশ বিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট দিনে কৃষক-বধূরা হাতে-কলমে কাজ শিখতে আসতেন। হস্তশিল্পের নানা বিষয় তাঁদের শেখানো হতো। এ ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের চিন্তার সহযাত্রী হিসেবে রথীন্দ্রনাথও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

ব্যক্ত হয়েছে যে বাংলার কৃষকসমাজের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের গড়ে উঠেছিল নিবিড় সখ্য। প্রসঙ্গত, শিলাইদহে বাসকালে রচিত ‘দুই বিঘা জমি’ কবিতার কথা আমাদের মনে আসে। কৃষকদের আর্থিক দুরবস্থার কথা তিনি বোঝার চেষ্টা করেছেন, সন্ধান করার চেষ্টা করেছেন সেখান থেকে মুক্তির পথ। শাহজাদপুর বাসকালে রচিত ‘বিসর্জন’ (১৮৯১) নাটকে আছে এমন একটি সংলাপ : ‘...এ বছর ধান যেমন সস্তা হয়েছে এমন আর কোনোবার হয়নি। এ বছর চাষার কপালে কী আছে কে জানে!’ কৃষকের প্রতি গভীর ভালোবাসা না থাকলে এমন সংলাপ রচিত হতে পারে না। রবীন্দ্রনাথ উপলব্ধি করেছিলেন, উন্নত কৃষিজ্ঞান না থাকলে বাংলার কৃষি ও কৃষকদের জীবন উন্নত করা যাবে না। এই উপলব্ধি থেকেই আজ থেকে প্রায় সোয়া শ বছর আগে ১৯০৩ সালে রবীন্দ্রনাথ পুত্র রথীন্দ্রনাথকে আমেরিকা পাঠান। রথীন্দ্রনাথ উন্নত কৃষিজ্ঞান আহরণ করে দেশে এসে শান্তিনিকেতনে তাঁর যথাযথ প্রয়োগের প্রয়াস গ্রহণ করেন। কনিষ্ঠ জামাতা নগেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়কেও উন্নত কৃষিজ্ঞান অধ্যয়নের জন্য রবীন্দ্রনাথ ইংল্যান্ড পাঠান।

শিক্ষাকে রবীন্দ্রনাথ দেখেছেন প্রযুক্তি হিসেবে। তোতাপাখিধর্মী শিক্ষাকে তিনি বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন, সুপারিশ করেছেন মুক্ত প্রকৃতির সান্নিধ্যে আনন্দদায়ক শিক্ষার কথা। শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর চিত্তে মনুষ্যত্ববোধ ও বিশ্বাত্মচেতনা জাগ্রত করাই রবীন্দ্র শিক্ষাদর্শনের মূল কথা। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন সমন্বয়বাদী শিক্ষা দার্শনিক। শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে তিনি প্রাচ্য-পাশ্চাত্য শিক্ষাব্যবস্থার সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করেছেন। শিক্ষা লাভ করে শিক্ষার্থী যাতে মানবিক পুঁজিতে রূপান্তরিত হতে পারে, সেদিকে রবীন্দ্রনাথ বিশেষভাবে সচেষ্ট ছিলেন। স্বকীয় শিক্ষাদর্শনের প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথের প্রাসঙ্গিকতা এখন বেশি মাত্রায় অনুভূত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশে শিক্ষা হয়ে উঠেছে পণ্য। শিক্ষাকে পণ্য বানিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পূর্ণ হয় বটে; কিন্তু সরস্বতী যান পালিয়ে। সরস্বতী যাতে পালিয়ে যান সে জন্য আমরা এখন গ্রহণ করেছি যাবতীয় উদ্যোগ। শিক্ষার লক্ষ্য এখন আর জ্ঞানার্জন বা জ্ঞান সৃষ্টি নয়, সনদ নামের চারকোনা একখণ্ড কাগজপ্রাপ্তিই সেখানে মুখ্য বিবেচ্য। এই প্রবণতার বিরুদ্ধে স্বকীয় শিক্ষাদর্শন নিয়ে রবীন্দ্রনাথ আমাদের সামনে হাজির হন ত্রাতার ভূমিকায়। তাঁর শিক্ষাদর্শন আমাদের দেখাতে পারে মুক্তির পথ।

রবীন্দ্রনাথ ছিলেন পরিবেশসচেতন দার্শনিক। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য তিনি গান লিখেছেন, রচনা করেছেন অনেক কবিতা-ছড়া-গান-নাটক-ছোটগল্প। ‘বৃক্ষরোপণ’ শব্দের স্রষ্টা তিনি। প্রতি শ্রাবণে উৎসব করে শান্তিনিকেতনের চারদিকে গাছ লাগাতেন তিনি। বৃক্ষরোপণ উৎসবের জন্য রবীন্দ্রনাথ রচনা করেছেন অসামান্য এই গান : ‘মরুবিজয়ের কেতন উড়াও শূন্যে হে প্রবল প্রাণ।/ধূলিরে ধন্য করো করুণার পুণ্যে হে কোমল প্রাণ/মৌনী মাটির মর্মের গান কবে উঠিবে ধ্বনিয়া মর্মর তব রবে,/মাধুরী ভরিবে ফুলে ফলে পল্লবে হে মোহন প্রাণ/পথিকবন্ধু, ছায়ার আসন পাতি এসো শ্যামসুন্দর।/এসো বাতাসের অধীরে খেলার সাথি, মাতাও নীলাম্বর।/উষায় জাগাও শাখায় গানের আশা, সন্ধ্যায় আনো বিরামগভীর ভাষা,/রচি দাও রাতে সুপ্ত গীতের বাসা হে উদার প্রাণ’ (‘গীতিবিতান’-এর ‘আনুষ্ঠানিক’ পর্যায়ের ১২ সংখ্যক গান)। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য এখন আমরা বৃক্ষরোপণের কথা বলি, কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের কথা বলি—অথচ পরিবেশবিজ্ঞানী সে কথা বলে গেছেন সোয়া শ বছরেরও অধিককাল আগে।

ভিন্ন রবীন্দ্রনাথকে আবিষ্কার করতে হলে তাঁর প্রগতিশীল সমাজচেতনা ও সদর্থক রাজনীতিভাবনার ওপরও আলোকসম্পাত করা প্রয়োজন। জন্মগত উচ্চ আভিজাত্য, ঠাকুরবাড়ির গৌরবিত জীবনাচার, ব্রাহ্ম ধর্ম দর্শন, ঔপনিষদীয় প্রতীতি ও প্রাচ্য-পাশ্চাত্য মানবকল্যাণধর্মী চিন্তাস্রোত অঙ্গীকার করেই রবীন্দ্রনাথ নিরন্তর রূপান্তরিত হয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত সুস্থিত হয়েছেন প্রগতিশীল সমাজচেতনা ও বিশ্ব মানব মুক্তির সর্বজনীন দার্শনিক প্রত্যয়ে। তাই দেখতে পাই, ব্যুয়র যুদ্ধ (১৮৯৯-১৯০২), জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ড (১৯১৯) থেকে আরম্ভ করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-৪৫) মধ্যপর্যায় পর্যন্ত, যখনই বিশ্ব মানব সমাজের কোনো অংশ অত্যাচারী শাসকের হিংস্র আগ্রাসনের শিকার, যখনই পৃথিবীর কোনো প্রত্যন্ত অঞ্চলে শান্তি বিঘ্নিত, বিশ্ব-মানবিকতার অপ্রতিম প্রতিনিধি নিয়তজাগর রবীন্দ্রনাথ তখনই প্রতিবাদে মুখর, ষোহিতায় শাণিত। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশক থেকে সাম্রাজ্যবাদ-ফ্যাসিবাদের মানবতাবিধ্বংসী অভিযান রবীন্দ্রচিত্তে সৃষ্টি করে প্রবল অভিঘাত, মানববিদ্বেষী মতাদর্শ, আগ্রাসনবাদ ও শান্তিহন্তারক শক্তির বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথ হয়ে ওঠেন প্রতিবাদে উচ্চকণ্ঠ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পূর্বলগ্নে জার্মানি-ইতালি-স্পেন ও জাপানে ফ্যাসিবাদের যে উদ্ভব ও উগ্র প্রতিষ্ঠা, পৃথিবীর মানুষকে তার হিংস্রতা থেকে রক্ষা করার আকাঙ্ক্ষা থেকেই আন্তর্জাতিক ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং আন্তর্জাতিক প্রগতিশীল লেখক সংঘের সৃষ্টি। বস্তুত এই দুই সংগঠনের জন্মের উৎস অভিন্ন। ভারত বর্ষে এই উভয়বিধ আন্দোলনের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের সংযোগ ছিল নিবিড়; বাংলায় ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলন সংগঠনে তিনি পালন করেন অন্যতম পথিকৃত্যের ভূমিকা। চীনের ওপর জাপানি আগ্রাসনের বিরোধিতা করেন রবীন্দ্রনাথ। এই বিরোধিতা-সূত্রেই তাঁর জাপানি কবিবন্ধু ইয়োনে নোগুচির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন হয়। সামরিকতন্ত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য সাজ্জাদ জহিরকে তিনি স্পেনে পাঠান। ফ্যাসিবাদ-সমরবাদ-সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ভিন্ন এই রবীন্দ্রনাথ সেভাবে পরিচিত নন বাঙালির কাছে।

সাহিত্য ও সংগীতের পাশাপাশি ভিন্ন এই রবীন্দ্রনাথও গভীরভাবে আছেন আমাদের সঙ্গে। তাঁর এই ভিন্নসত্তা যদি বিবেচনায় রাখা যায়, তাহলেই পূর্ণ রবীন্দ্রনাথকে আমাদের জানা সহজ হবে।



সাতদিনের সেরা