kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

একই পরিবারের চার সদস্যের আত্মবিশ্লেষণ

মাধব রায় প্রতীক, নীলফামারী

৩০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ১ মিনিটে



একই পরিবারের চার সদস্যের আত্মবিশ্লেষণ

ফাঁসির সেলে বন্দি কয়েদি বিলুর আত্মকথনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সতীনাথ ভাদুড়ীর উপন্যাস ‘জাগরী’। মৃত্যুর আগে সারা রাত অতীতের ফেলে আসা জীবনের সঙ্গে ফাঁসির সেলের নির্জন প্রকোষ্ঠের অন্তিম মুহূর্তগুলোর হিসাব-নিকাশ করে সে। ছোট ভাই নিলুর জবানিতেই ফাঁসির আদেশ হয় বিলুর। কেন এক ভাই আরেক ভাইয়ের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়? ঔপন্যাসিক চারটি চরিত্রের মাধ্যমে চারটি অধ্যায়ে সে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন। ফাঁসি সেলে—বিলু; আপার ডিভিশন ওয়ার্ড—বাবা; আওরাত কিতা—মা, জেলগেট—নিলু এই চারটি অংশ যেন চারটি চলচ্চিত্র। উপন্যাসের মূলে রয়েছে উনিশ শ বিয়াল্লিশের আগস্ট আন্দোলনে পূর্ণিয়া জেলার এক মধ্যবিত্ত পরিবারের রাজনৈতিক বলিদান। সমকালীন আগস্ট আন্দোলনে রাজনৈতিক দলীয় কোন্দল ও বিভাজন এই উপন্যাসের একটি বিশেষ দিক। ছোট ভাই বিলু দাদার কংগ্রেস সোশ্যালিস্ট পার্টি থেকে সরে গিয়ে রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে দলীয় স্বার্থে দাদার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেয়। শেষ পর্যন্ত ফাঁসি বাতিল হলেও এক রাতের ব্যবধানে একই পরিবারের চার সদস্যের মনস্তাত্ত্বিক টানাপড়েন ও আত্মবিশ্লেষণ ঐতিহাসিক আগস্ট আন্দোলনের নির্মম সত্যকে বাস্তবায়িত করে।

অনুলিখন : পিন্টু রঞ্জন অর্ক