kalerkantho

রবিবার । ৪ আশ্বিন ১৪২৮। ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১১ সফর ১৪৪৩

নান্দনিক সৃজন ‘গড্ডলিকা’

মোহাম্মদ শাহরীয়ার শাজেদীন, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

৩০ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ১ মিনিটে



নান্দনিক সৃজন ‘গড্ডলিকা’

পরশুরাম ওরফে রাজশেখর বসুর ‘গড্ডলিকা’ গ্রন্থটি প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী বাঙালির সামাজিক, দাম্পত্যগত ও সাংসারিক জীবনের অসংগতি ও বেদনার পাঁচটি নান্দনিক গল্পের মধ্য দিয়ে সৃজিত হয়েছে। ধর্ম ব্যবসা ও ভণ্ডামি চিত্রায়িত হয়েছে ‘শ্রী শ্রী সিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড’-এ। ‘চিকিৎসা-সংকট’ গল্পের চল্লিশোর্ধ্ব ধনী বিপত্নীক নন্দবাবু হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি অ্যালোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি, কবিরাজি, হাকিমি চিকিৎসা নিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হন। অবশেষে ডক্টর মিস বিপুলা মল্লিকের চেম্বারে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন রোগের রহস্য অন্য কিছু নয়, একাকিত্ব। বিপুলাকে বিয়ে করে চটজলদি সুস্থতাও লাভ করেন। একটা ছাগল কিভাবে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে মধুর করতে পারে, তা বোধ হয় ‘লম্বকর্ণ’ না পড়লে বোঝা সম্ভব নয়। বেওয়ারিশ এক ছাগলকে বাসায় স্থান দেওয়ায় নানা সমস্যার উৎপত্তি এবং পরিশেষে সেই ছাগলই বাড়ির হারিয়ে যাওয়া কর্তাকে উদ্ধার করে দেওয়ার ঘটনাটি এক হাস্যকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে এ গল্পে। ‘মহাবিদ্যা’ গল্পে শ্রেণিশোষণের চিত্র ভাষ্যরূপ পেয়েছে। ভৌতিক গল্প যদি হাস্যরসের উৎস হয়, তবে ‘ভুশণ্ডীর মাঠে’ তার উত্কৃষ্ট নমুনা।