kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

বই আলোচনা

১৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বই আলোচনা

দ্য গ্র্যান্ড ডটার প্রজেক্ট

ব্রিটিশ-ভারতীয় লেখকের প্রথম উপন্যাস

শাহীন চিশতি, বিখ্যাত সুফি সাধক খাজা মইনুদ্দিন চিশতির এই বংশধর লন্ডনে বসবাসরত একজন লেখক। কিছুদিন আগে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘দ্য গ্র্যান্ড ডটার প্রজেক্ট’ প্রকাশ করেছেন, যা লিঙ্গবৈষম্য, জাতিগত নিপীড়ন, যুদ্ধকালীন দুর্দশা ও নারীমুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর লেখা।

লেখকের ভাষ্য মতে, যাঁদের জীবন মেয়ে, নাতনি অথবা যেকোনো নারীর সঙ্গে সম্পৃক্ত, এ বইটি তাঁদের জন্য। ‘দ্য গ্র্যান্ড ডটার প্রজেক্ট’-এ তিনটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটের তিনজন নারীর বাস্তব ঘটনার আলোকে লেখা অভিজ্ঞতার কথা বলা হয়েছে। যেখানে তাঁরা নারীদের সামাজিক মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করেন, কারণ তাঁরা নিজেদের নাতনিদের জন্য একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে চান। এ বইয়ে আছে হেলগার কথা, যিনি হলোকস্ট থেকে বেঁচে ফেরা একজন নারী। আছেন কমলা, যাঁর জন্ম বাংলার ১৯৪৩ সনের দুর্ভিক্ষে, আর আছেন ল্যানেট, যাঁর জন্ম উইন্ডরাশ প্রজন্মে। এই নারীরা প্রথমবারের মতো নাতনিদের তাঁদের ফেলে আসা জীবনের ঘটনা শোনান তাদের সাহস জোগাতে, স্বপ্নের কাছে নির্ভয়ে এগিয়ে যাওয়ার আশা দিতে।

‘দ্য গ্র্যান্ড ডটার প্রজেক্ট’-এর লেখক শাহীন চিশতি বলেন, প্রথম বই প্রকাশ করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। ‘দ্য গ্র্যান্ড ডটার প্রজেক্ট’ আমার ভালোবাসার কাজ। আশা রাখছি আমার এই কাজ নারী ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে সবাইকে সচেতন করবে। সৌভাগ্যবশত আমি এমন কিছু নারীর মধ্যে বেড়ে উঠেছি, যাঁরা আজকের আমাকে গড়ে তুলেছেন। আমি এই বইটা তাঁদের এবং পৃথিবীর সব নারীকে উৎসর্গ করেছি। দুঃখের কথা হচ্ছে, আজকের দিনে এসেও অসংখ্য নারী তাঁদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত, যা অতিদ্রুত পরিবর্তন হওয়া উচিত। আশা করছি, আমার এ বই এই পরিবর্তনে অবদান রাখতে পারবে।

 

যাই ভেসে দূর দেশে

কবিতায় বিশ্বভ্রমণ

ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত। আসামিকে নিয়ে যাওয়া হবে। ঠিক সেই মুহূর্তে কবি লিখলেন একটি কবিতা, ‘ফাঁসির মঞ্চ থেকে’। কবির নাম বেঞ্জামিন মলয়েসি। সময় ১৯৮৫ সালের ১৮ অক্টোবর। স্থান দক্ষিণ আফ্রিকা। তাঁর বিরুদ্ধে ১৯৮২ সালে এক পুলিশ সদস্যকে হত্যা করার অভিযোগ আনে সে দেশের সরকার। বিচারে ফাঁসিও দেওয়া হয়। মৃত্যুর আগে তিনি লিখলেন, ‘নিজেকে নিয়ে আমি গর্বিত/অত্যাচারের ঝড়ঝঞ্ঝা শেষে/আমার রক্তধারার বৃষ্টি নামবে/আমার জীবনের সমূহ নির্জনতা/উৎসর্গ করে আমি গর্বিত।’ তাঁর এই কবিতা দক্ষিণ আফ্রিকায় সরকারবিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করেছিল। মানুষের মুখে মুখে তা স্লোগানে পরিণত হয়েছিল। কথাগুলো পড়ছি আর আমার গা শিউরে উঠছে।

এই কবি সম্পর্কে আমি এই প্রথম জানলাম ‘যাই ভেসে দূর দেশে’ বইটি পড়ে। এটি একটি অনূদিত কবিতার বই। এর অনুবাদক মোশতাক আহমদ। তিনি মূলত কবি। পেশায় জনস্বাস্থ্যবিদ হলেও কবিতা তাঁর ধ্যান। এরই মধ্যে আটটি কবিতার বই বেরিয়েছে। ফলে এই কবি যখন কবিতার অনুবাদ করেন, তখন তা কবিতাই হয়। কবিদের প্রতি এই পক্ষপাতিত্ব যে কতটা সত্য, তা ‘যাই ভেসে দূর দেশে’ বইটি হাতে না নিলে আপনার বিশ্বাস না-ও হতে পারে। বইয়ের প্রচ্ছদেই বলে দেওয়া আছে, ‘সকল মহাদেশের কবিতা’। ভেতরে সাতটি মহাদেশের ৪৪ জন কবির কবিতা রয়েছে। বাদ পড়েনি অ্যান্টার্কটিকাও। কবির তালিকায় যেমন নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত বা আলোচিত কবি রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত কবিও। কবিতার অনুবাদ ছাড়াও প্রত্যেক কবির সংক্ষিপ্ত পরিচিতি উল্লেখ করা হয়েছে। রয়েছে প্রতিটি মহাদেশের কবিতার আলাদা ভূমিকা। ভূমিকাগুলো যদিও ভিন্ন ভিন্ন লেখক লিখেছেন। তবে এগুলো নানা তথ্যে ঠাসা। আমার মনে হয়েছে, লেখাগুলো এই বইয়ের নান্দনিকতা বাড়িয়েছে। নানা দেশের কবি ও কবিতা সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেওয়ায় মোশতাক আহমদকে অভিবাদন।

যাই ভেসে দূর দেশে : অনুবাদ-মোশতাক আহমদ। প্রচ্ছদ : নির্ঝর নৈঃশব্দ্য, একুশে বইমেলা ২০২১। প্রকাশক : চন্দ্রবিন্দু।  দাম : ৩০০ টাকা।

হানযালা হান



সাতদিনের সেরা