kalerkantho

শুক্রবার । ৬ কার্তিক ১৪২৮। ২২ অক্টোবর ২০২১। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

প্রতিশোধ

মোস্তফা অভি   

১৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ১১ মিনিটে



প্রতিশোধ

অঙ্কন : মাসুম

বিঘাই গ্রামে যেদিন হাট বসে, হারুন তুলাতলায় ভিক্ষার হাত দুটি টান টান করে দাঁড়িয়ে যায়। সে অন্ধ চোখে শূন্যতার দিকে তাকিয়ে দুঃখ করে আর ভাবে—জীবনের চেয়ে রহস্যময় আর কিছু নেই। হারুনের খুব মনে পড়ে, নক্ষত্রখচিত রাতে বিষণ্ন চাঁদ উঠলে কেমন অস্থির হয়ে উঠত সে। ধুলাভরা মেঠো রাস্তা পার হয়ে সড়কের সোজা রেখা ধরে চলে যেত জাত বন্ধুদের কাছে। সন্ধ্যায় সঙ্গী-সাথিদের আনন্দময় মিলনে মুখর হয়ে উঠত বিলের ভেতরের ছাড়া বাড়িটা। যখন চরাচরে গাঢ় আঁধার নেমে আসত, তখন আকাশের তারাগুলো শোভা হারিয়ে বিবর্ণ হতে শুরু করত আর দূরের বাড়িগুলোর জানালার আলো নিভে যেত একটা একটা করে। গৃহস্থঘরের খটখটে কাঠের দরজাগুলো বন্ধ হয়ে যেত আর রাতের হাওয়ায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়ত অদ্ভুত নেশাতুর একটা গন্ধ। হারুন তার দলবল নিয়ে বিলের মাঝখানটায় ছোট্ট ঢিবির ওপর জড়ো হতো। কথিত আছে, রায়টের বহু বছর আগে থেকে এখানে একটা পুরনো বাড়ি ছিল। একটা আটচালা শণের ঘরে বাস করত আলতাপ আর ওর ছিপছিপে বউ খৈমন। বছরের চার মাস ওদের বাড়ির চারপাশের বিলে বদ্ধ জল থই থই করত। আলতাপ গলাজলে ডোবা ধানক্ষেতে ভাসা টোপের বড়শি দিয়ে মাছ ধরত আর খৈমন জলের ভেতর থেকে শিরদাঁড়ার মতো জেগে থাকা ভেড়িগুলোর দিকে নজর রাখত। সেখানে জড়ো হওয়া শামুকগুলো তুলে খৈমন গেরস্তের কাছে বিক্রি করে বিনিময়ে এটা-ওটা নিয়ে আসত আটচালা ঘরে। এই ছিল ওদের জীবন! যেকোনো কারণেই হোক, বিলের দূর-দূরান্তের মানুষের প্রতি হয়তো অভিমান হয়েছিল ওদের। অথবা মৃত্যুর জগতের সঙ্গে গভীরভাবে সংযোগ ঘটেছিল দুজনের। এ জন্যই হয়তো একদিন আটচালা ঘরের ভেতর জামাই-বউ দারমুচের বিষ খেয়ে মরে পড়ে রইল। তিন-চার দিন পর এক নিঃশব্দ রাতে বিলের ভেতর থেকে লোকালয়ে ভেসে আসতে থাকল মরা মানুষের গন্ধ। গাঁয়ের সবাই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলো আর তারা দক্ষিণমুখী বিলের দিকে একধ্যানে তাকিয়ে থাকল। তখন মরা মানুষের অপরিচিত গন্ধে তাদের ফুসফুস ভরে যায়। সেই থেকে মানুষ ঢিবির ওপরের বাড়িটিকে যক্ষের বাড়ি বলে প্রত্যাখ্যান করল। আর বাড়িটি বহু বছর ধরে বিরান।   

বিরান বাড়িটির চারপাশে ঘেরা তালগাছের সারি। ভেতরে ছোট-বড় গাছের সঙ্গে জড়ানো বুনোলতা আর ছড়ি। হারুন ও তার দলবলের বিচরণে সেই বিরান বাড়িটির ভেতরের দৃশ্য হতো রূপকথার মতো। যেন চারপাশ থেকে ধেয়ে আসত পৈশাচিক হো হো ধ্বনি। শুকনো গাছের পাতার ওপর মচমচ শব্দে গোল হয়ে বসে থাকত কয়েকজন যুবক। আর এই বৃত্তাকার দলটির চারপাশে একনলা বন্দুক উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত হারুনের কালো মূর্তি। হারুনের দলবল রামদা, ডেগার হাতে নিয়ে লতাপাতার ফোকর দিয়ে বিলের ভেতর ছড়িয়ে পড়ত। হারুন সদলবলে ঢুকে পড়ত গ্রামের ভেতর।

ওরা গৃহস্থের সর্বস্ব লুটে নিয়ে উল্লাস করত নদীর ভেতরের কোনো ভাসান চরে। অপরাধের তালিকা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের খাতায় নাম উঠল হারুনের।

এক-দুইবার অ্যারেস্ট হওয়ার পর পুলিশের সঙ্গে অদৃশ্য সখ্য গড়ে উঠল ওর। পুরনো বাঁধের ওপার গড়ে ওঠা শহরতলিতে একটা আখড়া গড়ে তুলল হারুন। ব্রিটিশ আমলের পরিত্যক্ত একটা দালানে চেয়ার-টেবিল পেতে খাট বিছিয়ে আস্তানা তৈরি করল। ধীরে ধীরে শিষ্য-শাগরেদে ওর দল ভারী হতে লাগল আর হারুন এলাকার ভাই হিসেবে দূর-দূরান্তে পরিচিতি পেতে লাগল। তারপর বিঘাই গ্রামে শুরু হলো হারুনের দোর্দণ্ড তাণ্ডব। এলাকায় নতুন বিয়ে করে কেউ বউ নিয়ে এলে হারুন নতুন বউটির শাশুড়িকে বলে আসত—‘হাইঞ্জাকালে বউরে পাডাইয়া দিও।’ আর গ্রামের উঠতি মেয়েদের ব্যাপারে তার অভিজ্ঞতার শেষ নেই। যুবতী, কিশোরী আর সংসারী মেয়েদের মধ্যে ওর পছন্দের এমন কে আছে যাকে একবার ছুঁয়ে দেখেনি? মাদক আর ইয়াবা সুলভে পাওয়া যেত হারুনের কাছে। মধ্যরাতে ভয়ংকর মূর্তিরূপে হারুন গ্রামগুলোর চতুর্দিকে বিস্তার করত ত্রাসের রাজত্ব। ওর সঙ্গী-সহচরদের ছোট ছোট হুংকারের অনুরণনে ভয় ছড়িয়ে পড়ত গ্রামের প্রতিটি পরিবারে।

একদিন নিজ গ্রামে ডাকাতি করতে গিয়ে হারুন দুই যুবতীর সম্ভ্রম লুটে নেয়। আদিম কামনার ঘোরে পালিয়ে যাওয়ার সব কৌশল সে হারিয়ে ফেলে। প্রকৃতির রুষ্টতার কারণে নাকি কে জানে, হারুন সেদিন ধরা পড়ে যায়। পুলিশ আসার আগে জনগণ তার দুই চোখ তুলে অন্ধ করে দিল। এর পর থেকে হারুন তুলাতলায় হাত দুটি টান টান করে হাটবারের দিন দাঁড়িয়ে যায়। তুলাতলা মাঠের ওপর ছালার চট বিছিয়ে পাইকাররা গৃহস্থের ধান-চাল কেনে। কাছেই রয়েছে কয়েকটা ছোট চা দোকান। চোখ তোলার পর হাসপাতালে হারুন যে কালো চশমাটা পেয়েছিল সেটা চোখে পরে মাথায় একটা জালি টুপি চেপে দেয়। লুঙ্গির দুই মাথা গিঁট্টু দিয়ে একটা ঝোলা বানিয়ে কাঁধে চাপিয়ে নেয়। এরপর পোলাপানের কাছে বহু অনুনয় করে একটা বাঁশের কঞ্চি জোগাড় করে তুলাতলা গিয়ে ভিক্ষার হাত টান টান করে দাঁড়ায়। সূর্যটা খাড়া হয়ে যখন তার মুখের ওপর চড়া রোদ পড়ে, তখন লুঙ্গিটা দিয়ে মুখের ঘাম মুছতে মুছতে সে সামনের দিকে হাতটা বাড়িয়ে বলে, ‘অন্ধরে দয়া করেন বাপু, আল্লার নামে খয়রাত দিয়া যান।’

কিন্তু হারুনের অমন আকুতি শুনে মানুষের পিত্তি জ্বলে যায়।

বিঘাই গ্রামের পথে-প্রান্তরে একদিন আতঙ্ক ছড়িয়েছিল হারুন। তার অত্যাচারের দিনগুলোর কথা কি অত সহজে ভোলা যায়!

স্কুলে যাতায়াতরত কত মেয়ের ওড়না ধরে সে টেনেছে। সন্ধ্যার পর দূর গাঁয়ের মানুষ যখন ধীর পায়ে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করত, হারুন পথিমধ্যে ডেগার ধরে সেই সব নিরীহ লোকের সব কিছু হাইজ্যাক করেছে। গৃহস্থের রাতা মোরগ আর ড্যাগা খাসি ছাগলের সমস্ত অধিকার ছিল তার। তবু হাটে যাতায়াতরত দূর গ্রামের অচেনা মানুষ হারুনের হাতে পাঁচ-দশ টাকা গুঁজে দেয়।

পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষের মুখে ‘ডাকাইত’ শব্দটি শুনলে বারুদের মতো তার ভেতরটা জ্বলে ওঠে। লম্বা একটা নিঃশ্বাস টেনে কাঁধ দুটি ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে সে ভাবে, ডাকাত সে এককালে ছিল, এখন তো নেই। তবু ডাকাতের মতো নিষ্ঠুর হৃদয়ের মানুষ তাকে নিয়ে কত মসকরা করে। অথচ পৃথিবী তার কাছে এখন শুধুই অন্ধকার।

ধানকুড়ানি জাহানারার সঙ্গে ভাব হয়েছে হারুনের। মেয়েটি থাকে নদীর ওপার গুচ্ছগ্রামে। সন্ধ্যায় হারুন লাঠিটা ঠুকে ঠুকে নদীর পারে যায়। পারে দাঁড়িয়ে লাঠিটা আকাশের দিকে তুলে খেয়ার মাঝিকে আকুতি করে ডাকে, ‘আল্লারাস্তে এট্টু পার হইর‌্যা দে ফোরক।’

হোক দিন কিংবা রাত, অন্ধের তাতে কী-ই বা আসে-যায়। ঘাটের ওপার বিচালিক্ষেতের ভেতর দিয়ে যে সরু ভেড়িটা গেছে, হারুন লাঠিটা খুঁচে খুঁচে সেই পথ ধরে এগোয়। তখন নদীর ধারে জঙ্গলের কাছে শুরু হয় শিয়াল ডাকার প্রহর। কুকুরগুলোও রাস্তায় দল বেঁধে নামে ঝগড়া করার জন্য। বিলের ভেতর বাড়িগুলোর পল্লী বিদ্যুতের আলো কান্দির চারধারে আছাড় খায়। হারুনের চোখ সে আলোর সামান্য রেখাটুকুও স্পর্শ করে না। সে ভেড়িটা পেরিয়ে বড় রাস্তায় উঠে হাতের লাঠিটা টান টান করে বলে, ‘অই মেয়া, উচ্চগেরামডা কোম্মে?’

গ্রামের গরু নিয়ে ঘরে ফেরা লোকজন হারুনকে দেখে বলে, এইসাপ কানাকোনারাই দ্যাশের চাউলের দাম বাড়ায়।

গুচ্ছগ্রামে জাহানারার ঘরে হারুন থাকার একটু আশ্রয় পেয়েছে। অন্ধকার, ভাপসা একটা ঘর। একই ঘরে খাওয়া আর শোয়া। বাঁশের চ্যাং দিয়ে বানানো ঝুলন্ত মাচায় কয়েকটা তৈজসপত্র। চালাটার নিচে কোনো রকমে থাকার একটু ব্যবস্থা। হারুনকে নিয়ে দিন দশেক হাঙ্গামা খুব একটা কম হয়নি। জাহানারা আর ধান কুড়াতে যায় না। হারুনও ঘুপচি ঘরে শুয়ে-বসে থাকে। যখন গুচ্ছগ্রামের ঘরগুলোর কাছের বিচালিক্ষেত থেকে মৃদু বাতাস বইতে থাকে, জল-কাদার মেশানো গন্ধে হারুন অস্থির হয়ে ওঠে। গন্ধটির এমন মোহ; হারুনের দুই চোখ মেলে দুনিয়া দেখার সাধ হয়। সে ঘরের এক পাশের বেড়া থেকে আরেক পাশের বেড়া পর্যন্ত পায়চারী করে। কখনো ঝাঁপের দরজাটা খুলে সে ঊর্ধ্বাকাশের দিকে মুখ ফিরিয়ে দাঁড়ায়। যেখানে স্বাধীন, মুক্ত পাখিরা উড়ে যায় নদীর এপার থেকে ওপারে। হারুনের ভেতরটা তখন মোচড় দিয়ে ওঠে। সব রাগ, জেদ তার কলিজায় হাতুড়িপেটা করে। সে খোদার নামে মনে মনে কসম করে—তাকে অন্ধ করার প্রতিশোধ সে নেবে।

কিন্তু কিভাবে! প্রতিশোধের ভয়ংকর পথটা তাকে ধানকুড়ানি জাহানারাই দেখায়। অবশ্য এতে তার লাভও কিছু একটা আছে। বিনা লাভে অন্ধের বোঝা কে আর বইবে!

কয়েক দিন বাদে হারুন ও জাহানারা দক্ষিণের উদ্দেশে বের হয়। মাসখানেক সেখানে থেকে তারা আবার ফিরে আসে গুচ্ছগ্রামে। হাবভাবে আর চেহারায় ফুটে ওঠে পয়সার লালিত্য।

বলা হয়, জগতে পয়সা হলো দ্বিতীয় খোদা আর এই পয়সার উপাসনা দুনিয়ায় কে না করে! ফলত গুচ্ছগ্রামের লোকজনও হারুন ও জাহানারার সঙ্গে উপাসনা শুরু করল। তারা গ্রামে গ্রামে রটিয়ে দেয়, হারুন এখন আর সাধারণ হারুন নয়, সে এখন মারেফতের ফকির। সে কয়েক দিন আগে ধানখালী আশশেদ ফরিকের ডেরায় গিয়ে হয়েছে তার ভাবশিষ্য। গুচ্ছগ্রামের হাফেজ আর বাবরিওয়ালা মকবুল গাওয়ালে বের হয় সেই সকালে। তারা গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে অন্ধ ফকিরের ভাবশিষ্য সংগ্রহ করে। সাধারণ লোকালয় থেকে দূরে যে প্রশস্ত চরটি আকাশমুখী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, সেখানকার গুচ্ছগ্রামটা এখন অপার রহস্যে ঘেরা এক উৎসবের তীর্থস্থান। সেখানকার নারী-পুরুষ সবার মাঝেই বিশেষ চাঞ্চল্য আর ব্যস্ততা। প্রতিদিন নতুন নতুন মানুষের আনাগোনা দেখা যায় সেখানে। কেউ আসে শহর থেকে, কেউ আসে অন্য গ্রামের শেষ মাথা থেকে। এদের মধ্যে অনেকেই আবার রাতে সেখানে থেকে যায়। সারিবাঁধা ঘরগুলোর সামনে যে খালি জমিনটুকু বুক চিতিয়ে শুয়ে আছে, রাতে সেখানে গান-বাজনার আসর বসে। সকালে খিচুড়ি খেয়ে ভাবশিষ্যরা গাওয়ালের দূর-দূরান্তে নব্য ফকিরের বার্তা নিয়ে চলে যায়। একদিন সন্ধ্যার বৃষ্টিতে মাঠ-ঘাট, বিল-বাগান, কাঁচা রাস্তা সব ধুয়ে দিয়ে উত্তরে সরে গেছে। বিষণ্ন, রংহীন, একঘেয়ে চরাচরে নেমে আসে রাতের নীরবতা। নদীর ওপার জবান হালাদার বাড়ির জঙ্গল থেকে ভেসে আসা নিশাচর পাখিটির করুণ আর্তনাদ যেন ভয়ের সংস্কার। রাতের গায়ে তখন আঁধারের মোটা পরত। দূর লোকালয়ের সব মানুষ ঘুমিয়ে জল হয়ে লেপ্টে আছে বালিশের সঙ্গে। এমন গা ছমছমে অমাবস্যা রাতে হারুন কত মাঠঘাট, গ্রামগঞ্জ পেরিয়ে ডাকাতি করতে গেছে; সেসব তার সুখের দিনের ইতিহাস। হারুন গায়ের কাঁথাটা একদিকে সরিয়ে জাহানারাকে ল্যাম্পটা জ্বালাতে বলল। ছেঁড়া জামাটা কাঁধে নিয়ে বেরিয়ে পড়ল পোয়া মাইল দূরের হিন্দুবাড়িটির দিকে। গুচ্ছগ্রামের নারী-পুরুষদের কাঁচা ঘুম থেকে জাগিয়ে হারুন তার পেছন পেছন আসতে বলল সবাইকে। গুচ্ছগ্রামের যেকোনো বিষয়ে কৌতূহলী মেয়েগুলো উদগ্রীব হয়ে চেয়ে দেখতে থাকল হারুনের চালা-চক্কর। হিন্দুবাড়ির খানিক দূরে খালের ওপর স্লুইস গেট। স্লুইস গেটের এক পাশের বাঁধ ছুটে গিয়ে নদী আর খালের জল নিরবচ্ছিন্ন স্রোত তৈরি করেছে। অন্য পাশটির পেছনের দিকে নদীর কাছাকাছি হারগুজি কাঁটার সঙ্গে লতাপাতা প্যাঁচানো ছোট্ট পুরনো জঙ্গল। পরিপূর্ণ নিস্তব্ধ জঙ্গলটিতে হারুন ডাকাতি করার সময় তার সঙ্গী-সাথিদের জন্য অপেক্ষা করত। সে পুলিশের ভয়ে কত রাত সেখানে গাঢাকা দিয়েছে তার হিসাব নেই। হারুন নদীর কাছাকাছি জঙ্গলের ভেতর সবাইকে গোল হয়ে বসতে বলল। জাহানারা সবার হাতে ধরিয়ে দিল একেকটা কাপড়ের পোঁটলা। পরদিন আশপাশের চার-পাঁচটি গ্রামে সেই পোঁটলা নিয়ে গুচ্ছগ্রামের নারী-পুরুষ সবাই ছড়িয়ে পড়ল। দিন শেষে সবাই নিয়ে এলো অনেক টাকা-পয়সা। পোঁটলাগুলো গ্রামের যুবক, মাঝ বয়সী অলস লোক, এমনকি সদ্য কৈশোর পেরোনো ছেলেটির হাতেও চলে যায়। এরপর গুচ্ছগ্রামের সামনের খালি জায়গাটুকুতে প্রতি রাতে জ্বলতে দেখা যায় মিটমিটে আলো। বিঘাই গ্রামসহ অন্যান্য গ্রামের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা যখন রঙিন ট্যাবলেটের নেশায় ঢলে পড়ল তখন গুচ্ছগ্রামে পুলিশ এসে হানা দেয়। জাহানারা তখন তোতা পাখির মতো বলে, ‘এমুন কানা ডাহাইত জেবেনেও দেহি নাই।’ পুলিশ যখন হারুনের বাঁ হাতটা চেপে ধরল অমনি তার ঠোঁটের কোণে ফুটে উঠল এক রহস্যময় হাসি। হারুনের এই হাসি চোখ হারানো প্রতিশোধের।



সাতদিনের সেরা